|| T3 রবিচ্ছবি সংখ্যায় || জয়িতা ভট্টাচার্য

কবি
“–বি কমফর্টেবল” ভরাট গলাটা গম গম করে।
মেয়েটি একটু নার্ভাস।
গ্লাসে একটু পানীয় ঢেলে দেন সুরঞ্জনবাবু।
এসেছে আকাশলীনা তাঁর কাছে কবিতা নিয়ে।
কনভেন্ট পড়া মেয়ে,কোটিপতি র বউ ,ডাগর বয়সের আকাশলীনা।ফর্সা মুখে অল্প স্বেদবিন্দু।
মনে মনে হাসেন সুরঞ্জন।যতটা সম্ভব নরম গলায়,
–“তাহলে তুমি আমাকে আবৃত্তি শোনাতে চাও(একটু থেমে) একান্তে!”
আকাশলিনা মাথা নীচু হেসে চুমুক দেয় গ্লাসে।
মেয়েটি যা করতে এসেছে তা করেই যাবে।সামনে এক অনমনীয় পুরুষ।তার কতদিনের কামনা।
বাসনাই বেশি।
স্মার্টনেস ফিরে পাবার চেষ্টা।মন বলে কিছু হয় না এক্ষেত্রে।উচ্চাকাঙ্ক্ষা তাকে টেনে এনেছে এতদূর।দেহের পূজায় সন্তুষ্ট হলেই কেল্লাফতে।
সুরঞ্জনবাবু পাশে বসেন আয়েস করে।কয়েকটি পত্রিকা থেকে আগেই দুয়েকটা কবিতা পড়েছেন মেয়েটির।তেমন ভালো কিস্যু লেখে না।শব্দজ্ঞান নেই।শব্দ এরা কানে শোনে না।
ঠোঁটে হাসি খেলে যায় সুরঞ্জনের।
এতই কি সোজা! তিরিশটা বছর কি আর ঘাস কেটেছেন।শব্দ নিয়ে তোলপাড় করা সেসব দিন।বাতিল কাগজ আর কবিতার পাহাড় ঘরময়।
চুলটা একটু ঘেঁটে দেন লীনা না কী যেন নাম মেয়েটার।
–“তা শোনাও তোমার কবিতা ”
শরীর তিনি ভালোবাসেন এটা ঠিক।বর্ষার চেয়ে কালো চামড়া,নাভি,যৌনাঙ্গের কৃষ্ণকেশ,এসবই উত্তেজিত করে তাঁকে।
চাইতে তাঁকে হয়না মেয়েরা প্রায়ই আসে তাঁর কাছে।নানা বর্ণে,নানা উপাচারে।
এ মেয়েটি ফর্সা, মোটা কাজল ,বুটিকের নীল শাড়ি গয়না,যাতে আরো ফর্সা লাগে।
এসবে বিশেষ তফাত পড়ে না।
যেমন সুরঞ্জন আজকাল তেমন উত্থিত হতে পারেন না শঙ্খর মতো স্তন বা গুপ্ত গুহা দর্শনে,
যতটা আনন্দ পান স্বমেহনে।বস্তুত আজকাল মাস্টারবেট তাঁকে বেশি প্লেজার দেয়।তবু অভ্যাস!
দুপুরের রোদ্দুর তবু যেন তেজ নেই।অভিঘাত নেই শব্দের।মেয়েটি আবৃত্তি করছেন।মনটা ভালো নেই। “সকলই গরল ভেল”।
প্রতিপত্তি আর এই আনুগত্য তবু তৃপ্তি দেয়।
জুনিয়র ছেলেদের বলে দেবেন “একটু দেখিস কিছু করা যায় কিনা”
কয়েকবার স্টেজ শো,ফ্লেক্সে নাম ওঠা,এক নং সাহিত্য পত্রিকায় একবার লেখা প্রকাশ, কিছু মেমেন্টো।তারপর ওরা নিজেরাই ভীষণ তৃপ্ত হয়ে হারিয়ে যায়।শুনছেন দুচারটে লাইন আর ভাবছেন,
বিষণ্ণ হয়ে যাচ্ছেন।
শব্দকে এরা যত্ন করে না।শব্দকে ধর্ষণ করে।একেকটি শব্দের একেকটি আব্দার।ওদের নিয়ে এলোপাথাড়ি টানাটানি করলেই সাহিত্য হয় না।
দুর্বোধ্য শব্দ তিনি পরিহার করে চলেন ।স্বাভাবিক বাচনের ব্যাপারে খুব সতর্ক হয়ে ভাষা প্রয়োগ করেন।
আজ মন দিতে পারছেন না কিছুতেই।সবচেয়ে বেশি যৌনতা ক্ষমতায়।
ঘড়ি দেখেন।ঠিক ছটায় মিটিং।আজকের মিটিংটা তাঁর পক্ষে খুব জরুরী।তাঁর জায়গায় আসবে হয়ত তাঁর অন্তরঙ্গ সুপ্রাচীন রজত সেন।তবু তাকেও আজ প্রতিদ্বন্দ্বী ভাবতে হচ্ছে।
“কী কবিতা পড়ছ লীনা?”
মেয়েটি কিছু বলে।ঠোঁট নড়ছে পাতলা ঠোঁট রক্ত লাল।
” তুমি নিজেই ত একটা কবিতা ”
এই সংলাপটা তিনি আজ নিয়ে অন্তত একশ দশবার উচ্চারণ করলেন জীবনে, মনে পড়ল তাঁর।
–” কাছে এসো তোমাকে একটু দেখি”
পূর্ণ দৃষ্টিতে তাকায় মেয়েটি।চুলের মুঠি ধরে চুমু।শিউরে ওঠে আকাশলিনা।
সুরঞ্জন লাল স্ট্রাইপ টি শার্ট টা খুলে ফেলেন।দূরে কোথাও শাঁখের আওয়াজ ।আজ বোধহয় পূর্ণিমা।
এক টানে খুলে দেন ব্লাউজ পট্ প্রেম করে ছিঁড়ে যায় বোতাম।এটা তাঁর স্পেশালিটি।এটুকুতেই চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যায় এসব নারী।স্তনবৃন্ত আদর করেন।
।ঠিক তখনই মনে পড়ে যায় প্রতিপক্ষ রজতের টেকো মুখ।পয়েন্ট গুলো সাজিয়ে নিতে হবে ঠিকঠাক।
মাথার মধ্যে ঘুনপোকা।আজ শিশ্ন উত্থিত হচ্ছে না।মেয়েটি একটি ভাঙা জাহাজে মাস্তুল তুলতে চাইছে।
লেহন করছে শিশ্ন।মোড়কের নারী।তিনি আদিম নারীকে খোঁজেন এ শহরে।অল্প হাওয়া দিচ্ছে ।শরীর সাড়া দিচ্ছে ।
সুরঞ্জন উদাস।এমনই বড়ো বড়ো চোখের তুখোড় সেই মেয়েটিকে মনে পড়ে যায়।তাকে ইচ্ছে করছে।
পাঠক সহজে পাওয়া যায় না।সবই নকল হীরে।
মেয়েটি কী অবলীলায় বলেছিল, “লেখাগুলোতে আজকাল আপনাকে পাই না।সে কোথায় গেলো!”
একবার ঘড়িটা আবার দেখে নেন।মেয়েটি যৌনাঙ্গে ভালোই কাজ করছে।
“দোষ কারো নয় গো মা”!
এতটা মনোযোগ দিয়ে শব্দকে আদর করলে ভালো ফল পেতো।
যাক গে।তাঁর কী!
হাল্কা শক্ত শিশ্ন ঢুকে প্রবিষ্ট সিক্ত গহ্বরে।অন্যমনস্কভাবে স্তনবৃন্তে আলতো কামড় ।মেয়েটা অনাবশ্যক চেঁচাচ্ছে।
অভিনয় করছে।
এতটা করার মতো কিছু হয়নি।
সফল হয়নি সঙ্গম।এমনটা হয় আজকাল বয়স অথবা অবসাদ।
বাথরুমে গিয়ে বাকিটা নিজেই সেরে নেন।
নিজেকে এখনো বিরাট কিছু সেলিব্রিটি মনে হয় না তাঁর।তবু কিছু প্রভাব, কিছু প্রতিপত্তি…।
স্বাধীনতা সিদ্ধান্ত নেবার,সুযোগ নেবার।
মেয়েটার কবিতা শারদীয়া সংখ্যায় দিয়ে দেবেন বাংলা সাহিত্যের প্রধানতম বানিজ্যিক সাহিত্য পত্রিকায়।
রাতে কয়েক পেগ স্কচ নিয়ে নিজের মুখোমুখি বসে সংকুচিত লাগে।
আজও খুব ভালো কিছু লিখতে পারেন না।কী যেন নেই তাঁর লেখায়।ভয় পান।একজন বোদ্ধা পাঠক পড়লে ধরা পড়ে যাবে ত্রুটিগুলো।
সেই অনামী মেয়েটিকে বলেছিলেন,
“আরো ভালো লেখার চেষ্টা করব ”
মেয়েটি শান্ত মৃদুস্বরে বলেছিল “বেশ”।
রাত গভীর হয়।
সুরঞ্জন একমনে পড়তে থাকেন।কত হাজার হাজার বই।কিছু-ই পড়া হলো না।সময় শেষ হয়ে আসছে।
কত কিছু শেখার আছে।কাগজ পেন ল্যাপটপ আর বই এই ত তাঁর জগত।
আজ তিনি পরাজিত।সাহিত্য সেনাপতি আর নেই।
ভালোই হয়েছে।
নির্জনতা আজ তাঁর খুব প্রয়োজন। লেখায় ফিরতে হবে।
রাত দুটো।হঠাৎ যদি ফোনটা বাজত, ভাবছেন সুরঞ্জন। ওকে খুব দরকার।
হচ্ছে না, হচ্ছে না, কিচ্ছু হচ্ছে না।
হাহাকার করছে বুকটা। কোনো শব্দ, অক্ষর কখনও লিখেছেন বলে মনে হচ্ছে না।
সেই ,সেই কবেকার চেনা গলাটা মনে আসে জানলায় চাঁদ হয়ে।
–“কবি লেখা পাচ্ছি না ভালো”এ সাহস কেবল তার যে লেখাগুলো পড়ে উঠে চলে গেছিলো বিনা স্পর্শে বিনা সম্ভাষণে। হঠাৎ
সুরঞ্জন ভীষণ উত্থিত হয়ে যান ভাবতে গিয়ে। অনেক অনেকদিন পর এভাবে চাওয়া।
সেই মেয়ে,সেই চোখ দুটি, স্মিত অবিচল হাসি।
সেই কন্ঠের জন্য আজ অনেকদিন পর …
—“তোমাকে খুব প্রয়োজন আমার” বিড় বিড় করে বলেন।