T3 || আমার উমা || বিশেষ সংখ্যায় ইন্দ্রনীল রায় গুপ্ত

সেরা পুজো
পাড়ায় যখন
ঢোকে ঠাকুর
ঘরে ঘরে
শাঁখ বাজে
সবার মনে
পুজোর মেজাজ
মন লাগেনা কাজে।
পাড়ার মোরে
ছেঁড়া কাপড়ে
পাগলিটা ছিল শান্ত
সারারাতে যত
কুকথা বলে
এখন সে বড় ক্লান্ত
অপলকে দেখে
গাড়ী থেকে নামে
প্রতিমা একে একে
শরীরে খেলা করে
কত কি যে ছবি
সবার আড়ালে থেকে
কি বলতে চায়
বোঝা খুবই দায়
দেয় সবে তাকে গালি
পেটে খিদে নিয়ে
খিটখিট করে
কপালে ইঁট জোটে খালি
জাঁক দেখানো
পুজোর বোধন
পাড়ায় শুরু হল
কোণায় কোণায়
আলোর সাজে
আঁধার কেটে গেলো
গতিক দেখে উন্মাদিনী
ছেড়ে গেল পাড়া
দূষন মুক্ত সমাজের থীমে
হতেই হবে সেরা
আনন্দ আর উন্মাদনায়
দুদিন গেল কেটে
মহাষ্টমীর মধ্যাহ্নের ভোগ
সবাই খেলো চেটেপুটে
হঠাৎ কেউ উঠলো বলে
“পাগলিটাকে আন্ ডেকে
কদিন হলো কোথায় গেলো
বিরাট ঝুলি রেখে ?”
ঠিক তখনই
টোটো চালক এক
ভোগ নিতে আসে
তার কথায় চোখ
জলে ভরে আসে,
হয়ে আশ্রয়চ্যুত
দিশেহারার মতো
করতে বড় রাস্তা পাড়
গাড়ীর চাকার নীচে
পিশে গিয়ে তার
হয় জীবন যুদ্ধে হার।
পরদিন সকালে
সাফাইয়ের লোক এলে
ডেকে তাকে বলা হল
জীর্ন মলিন থলিটা এবার
মোড় থেকে তুলে ফেলো
কথা মতো যেই
ছেঁড়া থলিতে
লাগলো বেমক্কা টান
ঠিক তখনই বেড়িয়ে এলো
তার অজানা সম্মান।
ভিখারী ভেবে
দয়া করে তাকে
যারা অর্থ করেছে দান
নিরর্থ হয়ে তা
থলিতেই রয়ে গেছে
বিশাল তার পরিমান।
আপশোষ করে
পাড়ার সবাই
পুজোর দিনে এমন হলো
ঐ টাকায় আরো একবার
যত গরীবদের খাওয়ালে ভালো
যেমন ভাবা তেমন কাজ
দুইশত দুঃস্থ এলো
পাগলির টাকায়
খেল পেট পুড়ে
পাড়া “সেরা সম্মান ” পেল।