ঘরে বৈদ্যুতিক পাখাটা ঘুড়ছে জোরেই, তবুও হঠাৎ ঘেমে নয়নতারার ঘুম ভেঙে গেলো। বসন্তের দিন এখনও শেষ হয়নি…. পুরোপুরি গরম পরতে এখনও অনেক দেরি।
মাথার কাছে রাখা মোবাইলটা হাতে নিয়ে দেখে এখনও ভোরের আযান হতে মিনিট বিশেক বাকি। পাশ ফিরে দেখলো রাগিব ঘুমে মগন। ও চিরটা কালই এমন, শোয়া মাত্র ঘুমের রাজ্যে। দুই যুগ তাদের সংসার জীবন। সেই প্রথম দিন থেকে নয়নতারা দেখছে রাগিব বিছানায় শোয়ার সময় ঘরের আলোটা যেমন নিবিয়ে শোয়,তেমনি হয়তো মস্তিষ্কের সুইচও অফ করে। নইলে এত তাড়াতাড়ি ঘুম হবার কথা নয়!
মশারি থেকে বেরিয়ে বারান্দার দিকে পা বাড়ালো নয়নতারা। বারান্দায় রাখা বেতের চেয়ারটায় বসতেই হঠাৎ ঠান্ডা অনুভুত হলো তার। শাড়ীর আঁচলটা আরের কাঁধে টেনে চাদরের মত গায়ে জড়ালো এবং পা দুটি উঠিয়ে গুটিয়ে বসলো। নামায পড়ে আজ নয়নতারা হাঁটতে বের হবে না। বারান্দার গাছগুলোর যত্ন নিবে, পাতা ঝড়ার দিন শুরু…..
আজ কাল স্বাভাবিক সময়ে হঠাৎ ঘেমে ওঠা, প্রচন্ড গরমে শীত লাগা প্রায় হচ্ছে বেশ খেয়াল করছে সে। এছাড়াও মেজাজ তিরিক্ষি হয়ে থাকচ্ছে এবং কোনো কারণ ছাড়াই বিষন্নতায় বুক ফেটে হাহাকার করে কাঁদার মতো অদ্ভুত সব বিষয় হচ্ছে…
শারীরিক জটিলতাগুলোকে বয়স হয়েছে- এই বলে রাগিব এড়িয়ে যায়। অথচ নয়নতারা চায় রাগিব এ সময় তার মানসিক বোধের সঙ্গী হবে!
আত্মাভিমান নয়নতারাকে বড় বেশি আঁকড়ে ধরছে…..তাই হয়তো কিছুদিন ধরে সে সবার থেকে অনেক দূরে। নিজের জগৎ তৈরি করেছে বারান্দায় লাগানো গাছগুলির সাথে।একই বাসায় স্বামী, দু ছেলে, ছেলের বউ ও নাতি নাতনিরা থেকেও নিজের খোলসে গুটিয়ে রয়েছে নয়নতারা।
পাড়ার মসজিদ থেকে আযানের সুর ভেসে এলো…. আযান শেষে উঠতেই যাবে এমন সময় তার চোখ পড়লো বারান্দার নয়নতারা গাছটার দিকে। কি সুন্দর ফুল ফুটেছে! টবের আগাছাগুলো তুলে একটা খালি টবে রাখে, সেখানেই গাছটা জন্মেছে। গাছটির নিজেকে ভালো রাখবার, ভালোবাসবার কি অদম্য শক্তি! গাছটির দিকে এগিয়ে যেতেই হালকা বেগুনি রঙের ফুলগুলি নয়নতারাকে বলে উঠলো—–