আন্তর্জাতিক || পাক্ষিক পত্রপুট || এ ইন্দ্রাণী ঘোষ

‘ইঙ্গ – বঙ্গ, মরি মরি’
কর্পোরেটের হুড়োহুড়ি,
সুন্দরীরা মারকাটারি।
ল্যাঙ্গুয়েজেরই চচ্চড়ি,
ইঙ্গ – বঙ্গ মরি মরি।
এক ললনা বেজায় মিঠে,
বুকনিতে তাঁর ফোয়ারা ছোটে।
এক ছেলে সে মফস্বলি,
হৃদ মাঝারে চোরা গলি।
চোখ তুলতেই ভয় যে ভারী,
সুন্দরীরা দলে ভারি।
একদিন ছেলের ল্যাপটপেতে
মেলবাক্স টুং করাতে,
ছেলে দেখে নতুন নাম,
কে পাঠাল এই নীল খাম?
‘ইঙ্গ – বঙ্গ’? মরি মরি
এ কেমন আইডি? কি যে করি?
খুলল ছেলে ম্যাজিক মেল,
হৃদয়ে তখন তুফান মেল।
‘যাবে নাকি খেতে কফি?
নামটি আমার মিশুক – টফি।
ইঙ্গ ভাষা, বঙ্গ ভাষা,
দুই ভাষাতেই প্রাণের বাসা।
মিশুক আমার ভালো নাম,
টফি আমার ডাক নাম।
তুমি যে কবিতা লেখ,
জেনে গেছি জেনে রেখ।
প্রেমের কথাই কইব যখন
বাংলায় কব করেছি পণ।
তাই তো বলি এই যে ছেলে,
থেকো নাকো মুখ লুকিয়ে।
ল্যাপটপ থেকে মুখটি তোল,
নিজের ভাষায় প্রেম করি চল।
দেখেশুনে হৃদয় মাঝে,
চিরদিনের বাঁশি বাজে।
ছেলে বলে ‘ বল কি গুরু,
হৃদয়ে মন্দ্রিলে ডমরু গুরু গুরু।
মধুর ব্যাকুল হৃদি যে আকুল
মরমে পশিল, অকুলে ভাসিল’।
মিষ্টি ভাষার সাতকাহন,
তুমি আমি করি বহন।
ভাষার আমি ভাষার তুমি
থামুক এবার সালতামামি।
সব ভাষাতেই ভালবাসি,
চল এবার প্রেমেই ভাসি।