সম্পাদকীয়

 

র‍্যাগিং এক সামাজিক অভিশাপ । কি ভয়ংকর পরিণতি হল সদ্য স্কুল পাশ করা কিশোরের । লজ্জায় মাথা নুয়ে আসে এমন পৃথিবী সন্তানকে দিয়ে যেতে হবে ভেবে । র‍্যাগিং, বুলিং এগুলো সমাজের প্রতিটি স্তরে বিষবৃক্ষের মত শেকড়, বাকড় বিছিয়ে রয়ে গিয়েছে, সে ইস্কুল থেকে কর্মক্ষেত্র ছাড়িয়ে জীবনের প্রতিটি স্তরে । দিল্লীতে মেয়েদের কলেজেও এই প্র‍্যাক্টিস চলে । যে মেধাবী, শহরে ইংলিশ মাধ্যম ইস্কুলে যেতে পেরেছে আর যে প্রত্যন্ত গ্রামের বাংলা মাধ্যমে পড়েছে তাদের মধ্যে বৈষম্য এক সমুদ্র । বাংলা মাধ্যমে যে পড়েছে তাঁর লড়াইটা অনেক বেশি । আর সেই জন্যই গ্রাম থেকে শহরে ভারতবর্ষের নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়ে কলা বিভাগে পড়তে আসা স্বপ্নদীপদের শিখা নিভে যায় অকালে । না: তাদের বাঁচিয়ে রাখলে ‘টক্সিক ম্যাস্কুলিনিটি’ বা বিষাক্ত পৌরুষের গরিমা থাকবে না । সফল হতে গেলে নিজেকে বাঁচিয়ে চলার শয়তানি জানতে হবে যে ।
প্রবৃত্তি বদলাতে হবে । রোজগার বেশি করলে, পড়াশোনায় ভালো হলেই হয় না, মানুষ তাহলে আর পশুর চেয়ে আলাদা কি হল? খোলা জঙ্গল আর মনুষ্য সমাজের কিছু তো তফাত রাখবেন মাননীয় ক্ষমতা তন্ত্রের ধ্বজাধারীরা । মনে রাখবেন এক খন্ড মেঘ, এক চিলতে রোদ্দুরের অধিকার সকলের আছে । কোন কিশোর ‘ম্যাচো’ না হলেও বা কোন মহিলা শিরদাঁড়া সম্পন্ন হলেও ।

ইন্দ্রাণী ঘোষ

ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।