সাপ্তাহিক রম্য সাহিত্যে ইন্দ্রাণী ঘোষ (পর্ব – ৪)

অন্য ঠিকানা
আমাদের পাড়ার মোড়ে, বাঁশ গাছের ছায়া দেয়া একটা বাংলো প্যাটার্নের বাড়ী আছে। তাঁর পাঁচিলের একপাশে বাঁশ গাছ, আরেকপাশে রুদ্রপলাশ গাছ। এখনকার বিদায়ী উত্তুরে হাওয়ায় তাঁর সমস্ত শুকনো পাতাগুলো ঝরে গাছের নীচে সিপিয়া রঙের কার্পেট বিছিয়ে রেখেছে। গাছে থেকে যাওয়া ঘন সবুজ পাতার আড়ালে ভোরের রোদ্দুরটা কেমন বেশি মায়াবী হয়ে যায়। ঘন পাতার ফাঁক দিয়ে সে অনেক না বলা কথা বলে যায়। ওই বাংলোটি একটি চিকিৎসাকেন্দ্র। ‘ডিফারেন্টলি এবেলড’ বাচ্চাদের ‘জীবনশৈলী’ শেখানো হয়।
রোদ্দুর দেখতে শেখানো হয় কি? বা রুদ্রপলাশের রক্তিম অহঙ্কার? নিষ্পত্র হয়ে যাওয়া গাছ আগুন জ্বালায় ডালে ডালে, আবার বর্ষা এলেই নিভে যায়, সবুজ মখমলি মুকুট পড়ে বর্ষার পর।রঙ তো গাছেরাই চিনিয়ে দেয়। কত পাখী আসে ওর ডালে ডালে। দুর্গা টুনটুনি,সিপাই বুলবুলি,মাছরাঙা, কাঠঠোকরা, গান শোনায়, গল্পও বলে। প্রকৃতিপাঠের ক্লাসখানি আমার তো যাওয়া আসার পথেই হয়ে যায়। ওরা তখন কাঁটা চামচ ধরতে শেখে ,বাড়ী বানায়, ব্লক দিয়ে। ওরা বাঁশগাছের ফাঁকে জাফরি ভাঙ্গা আলো দেখে না।ওদের সিলেবাসে জীবনশৈলী রপ্ত করার চাপ।
ক্ষুদে ক্ষুদে তারারা না হয় বাঁশ গাছের রোদ্দুরের সাথে খেলল, দিনের আলোর গভীরে হারিয়ে না গিয়ে। ওরা লুকোচুরি খেলুক না রোদ্দুরের সাথে।
কি মজা হবে। আমায় দলে নিলে এক্ষুনি ভীড়ে যাই ওদের সাথে। থাক পরে আমার জীবনশৈলী।
পকেটভর্তি পাতা আর ধুলোবালি নিয়ে আমার দিব্যি কেটে যাবে।এমন উজ্জ্বল রঙের মাতনের বসন্ত নিয়েই তো কাটিয়ে দেওয়া যায় জন্ম জন্মান্তর ।