T3 মকর সংক্রান্তি স্পেশাল – এ ইন্দ্রাণী ঘোষ

‘রদ্যভু’
সূয্যি চলেন মকর দেশে,
লক্ষী চলেন ধানের বেশে ।
সূয্যি বলেন ‘দাঁড়াও দেবী,
চাষীর ঘরের মেটাও দাবী,
ধানি রঙের আঁচলখানি,
ঢাকুক এবার আঙিনাখানি ।’
লক্ষী বলেন ‘আহা দেব,
পিছু ডেকে দিলেন বেশ ।’
সূয্যি বলেন ‘এমন তব সোনার বেশ
চাষীর ঘরে থাকুক রেশ’ ।
লক্ষী বলেন ‘আউনি বাঁঁধুক , বাউনি বাঁঁধুক,
নতুন চালের পায়েস রাঁধুক
আঙিনা জুড়ে নক্সা তুলুক,
ঘন দুধে পুলি ফেলুক,
নারকেল আর বিন্নি চাল
মেখে নিক মায়ের হাত ।
ফতিমা আর ফরজিনা,
প্রতিমা আর সুরঞ্জনা
সবাই মিলে গড়ুক পিঠে ।
চিড়ের পুলি, ইচার মূড়া,
চিতই পিঠে, বেজায় মিঠে ।
গোকুল পিঠে, রসের বড়া
পাটিসাপ্টা, ক্ষীরের ঘড়া ।
নোনতা পিঠে, ঝুড়ি পিঠে
মোমোর মত মাংস পিঠে ।
দাদী, নানী, দিদা, ঠামি,
বৌমা, ননদ, জা আর মামি ।
সবাই মিলে গড়ুক পিঠে,
সবাই মেটাক সবার খিদে ।
তবেই আমি থাকব ঘরে,
যাব না আর রাগটি করে । ‘
সূয্যি বলেন ‘ঘরগেরস্তি মাঠ আর ঘাট
সবই তোমার রাজ্যপাট ।
তোমার মায়ার নয়ন হেরি,
এমন কথাই বলতে পারি,
তুমি যদি চাইবে তবে
সব স্বপনই সত্যি হবে ।’
এই না বলে সূয্যি মশাই
রথে চেপেই হাওয়া হাওয়াই ।
লক্ষী বলেন ‘ ঢঙটি দেখে মরি মরি,
দায়িত্বটি আমায় দিয়ে
সূয্যি মশাই দিলেন পাড়ি ‘ ।
পিঠের নাম ঋণ – অমৃতা ভট্টাচার্য ।