ল্যাপটপ অন করে, চৈনিক ইতিহাসের অলি গলি ঘুরতে থাকে ঝোরা. বঞ্চনার ইতিহাস. বিশেষ করে মেয়েদের বঞ্চনার ইতিহাস. কি ভয়ঙ্কর পিতৃতান্ত্রিক সমাজে বাস করতে হয়েছে. পায়ে লোহার জুতো পরিয়ে রাখা হত ছোট, ছোট মেয়েদের. পায়ের লক্ষীশ্রী বজায় রাখতে. ছোট, ছোট পা দু খানি রক্তাক্ত হয়ে যেত. তাদের কান্না শোনা বারণ ছিল. ঊফ কি মর্মান্তিক. আর সেই সমস্ত কান্নার কথা অনেক সময়তেই উঠে আসত গল্পের আদলে চাইনীজ স্ক্রোলে. শিল্প চিরকাল কান্নার আগলকে ভেঙেছে. যন্ত্রনাই কথা হয়ে, ছবি হয়ে বেড়িয়েছে যুগে যুগে. চৈনিক মেয়েরা ছবি আঁকতেন স্ক্রোলের উপরে. অনেক সময় সুঁচ, সুতোতে নক্সা তুলতেন স্ক্রোলের সিল্কের কাপড়ে. হতেও তো পারে, তাঁরা অনেক গল্প বুনে রেখেছেন স্ক্রোলের পরতে পরতে, বুদ্ধের জাতকের গল্পের পাশাপাশি. সিল্ক রুট ধরে সে সব স্ক্রোলের পশরা চলে এসেছে দেশে, বিদেশে. ব্যাবসায়ীরা সেসব গল্পের কাহিনী উদ্ধার করার ধার ধারেন নি. অশ্রুগাথা রয়ে গেছে স্ক্রোলের আনাচে কানাচে. কেউ যাতে বুঝতে না পারে তাই ‘মিরর ইমেজে’ বোনা হয়েছে গল্পগুলি রেশমি সুতোর ফোড় তুলে. সেই আরশী কথার পুনরাবৃত্তি. এই মর্মদ্ধারের পর বেশ খানিক্ষণ ঝুম হয়ে বসে থাকে ঝোরা. অপিস থেকে বেড়িয়ে লাইব্রেরিতে ঢোকে ঝোরা. চাইনীজ ইতিহাসের উপর দু একটা লেখা খোঁজে. বিশেষ সুবিধা হয় না.
বাড়ীতে এসে সব কাজ সেরে রাতে শুতে যায় ঝোরা. আকাশলীনা এসে কম্বলের নীচে ঢোকে. ‘মা’.
‘বল ‘
‘এবার ফিল্ডে গিয়ে একটা অদ্ভুত অভিজ্ঞতা হয়েছে জান.’
‘কি রকম?’ মনোযোগী হয় ঝোরা.
‘ওখানে এক অধ্যাপিকার সাথে আলাপ হল. ভদ্রমহিলার সেমিনার শুনে আলাপ করতে গিয়েছিলাম.’
তারপর?
‘খুব ইন্টারেস্টিং ভদ্রমহিলা, চাইনীজ স্ক্রোল নিয়ে বিশেষ পড়াশোনা করছেন, ভদ্রমহিলার বিষয় দর্শন. বৌদ্ধ দর্শন নিয়ে কাজ করার ফলে চাইনীজ স্ক্রোল নিয়ে ঘাটাঘাটি করেন, মিরর ইমেজে নাকি অনেক গল্পের কথা থাকে স্ক্রোলে.’
‘ভদ্রমহিলার ফোন নম্বরটা এনেছিস?’.
‘হ্যাঁ দিয়েছেন’.
‘তারপর বল কি হল?’
‘গল্প শোনালেন, একদিন এক চাইনীজ চাষী মেয়ের গল্প’.
‘হুম, তারপর?’
‘কি ভয়ঙ্কর গল্প মা. আয়নার সামনে স্ক্রোল ধরে মিরর ইমেজ থেকে গল্প শোনালেন, আমরা পুরো স্টান্ড, কি ভাগ্যিস আমরা রেনেসার পর জন্মেছি, বল মা’.
‘ঠিক তাই’, বলে ঝোরা.