সাপ্তাহিক ধারাবাহিক উপন্যাসে ইন্দ্রাণী ঘোষ (পর্ব – ৩৯)

আরশি কথা

চোখের পলকের মধ্যে কয়েকটা নৌকা নেমে পড়ে সরোবরে, ঘটনার আকস্মিকতায় প্রস্তরবত দাঁড়িয়ে থাকে ঝোরা ও মেই লিং. কয়েকজন উর্দিধারী পুলিশ গাছের আড়াল থেকে বেড়িয়ে আসে. মঞ্জরী ও অপূর্বকে জল থেকে তুলে নেয় নৌকাগুলি. ব্ল্যাক প্রিন্স নিজেই সাঁতার কেটে পারে ফিরে আসে. ঝোরাদের সামনে এসে দাঁড়ান সৌম্যকান্তি মনাষ্ট্রী প্রধান তাঁর পরনে এখন পুলিশ অফিসারের উর্দি.ঝোরাদের বলেন ‘জীপে উঠুন, সব বলছি আপনাদের’. যেন যন্ত্রচালিত হয়ে জীপে উঠে বসে ঝোরা আর মেই লিং. কোনমতে ঝোরা জিজ্ঞেস করে অফিসারকে “আপনি কে? অফিসার না প্রধান লামা? ‘. মঞ্জরীর মাথায় চোট, তাঁকে নিয়ে পুলিশের এম্বুলেন্স বেড়িয়ে যায়, অফিসারের নির্দেশ মতো. অপূর্ব আরেকটি জীপে ওঠে ব্ল্যাক প্রিন্সকে নিয়ে. সরোবরের পার অবধি ঝোরা আর মেই লিং এর যাওয়া হয় না. পাইনের জঙ্গলের ঝর্ণার ধার থেকেই পুলিশের জীপ তাদের নিয়ে গেষ্ট হাউসে ফেরে. গেষ্ট হাউসে পৌছয় অপূর্বদের জীপ ঝোরাদের জীপের সাথেই. ব্ল্যাক প্রিন্স গা ঝাড়া দিয়ে অপূর্বর পাশে দাঁড়ায়. অপূর্ব মাথায় হাত বুলিয়ে দেয় ব্ল্যাক প্রিন্সের. ঝোরা আর মেই লিং এর মনে চলতে থাকে প্রশ্নের ঝড়. কেন? কেন? কি করে এই ঘটনার অবতারনা? মন থেকে ঠোঁটের মাঝে প্রশ্নগুলো ঘুরপাক খেতেই থাকে, মুক্তি পায় না.
গেষ্ট হাউসের ডাইনিং রুমে সকলে জড়ো হয়. অফিসার এসে বসেন চেয়ারে. অপূর্ব জামা কাপড় ছেড়ে পাট ভাঙা জামা পড়ে আসে. অফিসার কথা শুরু করেন. ‘জল খান ম্যাডাম, লাঞ্চের আগে গরম জলে ব্র‍্যান্ডি খেয়ে নেবেন, আমি বলে দিয়েছি, আপনাদের দিয়ে যাবে. এই ধরনের একশনের সঙ্গে এই প্রথম আপনাদের জড়িয়ে পরা. জানি আপনারা বিধ্বস্ত’.
‘আপনি কে?’ কোনমতে জিজ্ঞেস করে ঝোরা. ‘আমি ডি. আই. জি. অমিতাভ ভট্টাচার্য্য, আর আপনাদের সহকর্মী অপূর্ব আমার পুত্র’.
চমকের যে এই মাত্রা হতে পারে ঝোরার মত কল্পনাপ্রবণ মানুষও ভেবে উঠতে পারে নি. ‘তবে অপূর্ব যে বলেছিল আপনি প্রধান লামা, অপূর্বর শিক্ষক’. মেই লিং বলেন. ‘হ্যা মেই লিং ম্যাডাম ঠিকই বলেছিলাম, আমার বাবার সাথে ছোটবেলা থেকেই অনেক একশনে জড়িয়ে পরেছি আমি, আমার বাবার ধর্ম ও ইতিহাস নিয়েও অগাধ পড়াশোনা. বাবার উৎসাহেই এই ফিল্ডে রিসার্চে আসা. বাবা আমার শিক্ষক.’ গর্বের হাসি হাসেন অফিসার বলেন ‘প্রাঊড অফ ইউ মাই সান, তুমি এলার্ট না থাকলে এই একশন সম্ভব হত না’.
‘কিন্তু ড: মঞ্জরী বসু এমন একটা কান্ড কেন করে বসলেন?’ মেই লিং আর ঝোরা একসাথে জিজ্ঞেস করে.
একটু দম নেন অফিসার, ‘হুম ড: মঞ্জরী বসু, প্রখ্যাত ইতিহাসবিদ, ধর্মের ইতিহাস নিয়ে কাজ করেন, ওনার রিসার্চ দেশে , বিদেশে সমাদৃত, চৈনিক ভাষার উপর অসামান্য দক্ষতা, তথাগত ও মায়ারাজ্যের কথা স্ক্রোলের গায়ে যে লেখা আছে উনিই প্রথম উদ্ধার করেন’. ‘তারপর?’ ঘরের সকলে উদগ্রীব হয়ে থাকে শোনার জন্য. ‘ব্যাপারটা তাহলে গোড়া থেকেই শোনা যাক, তুমি না হয় বল অপূর্ব.

চলবে

ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।