সাপ্তাহিক রম্য সাহিত্যে ইন্দ্রাণী ঘোষ (পর্ব – ৩)

নকশিকাঁথার রকমফের

আকাশটা যখন নরম নীল রঙের মসলিনের শাড়ি পরে, রোদ্দুর তাঁকে চুপটি করে দেখে। দূরে থেকে ছড়িয়ে দেয় টুকরো টুকরো ঢাকাই কাজের জড়ির বুটি। মুগ্ধ চোখে রোদ্দুর দেখে আকাশের ব্যাপ্তি। রোদ্দুরের প্রথম প্রেমিকা মেঘের মত আকাশ নয়। মেঘের তো কথায় কথায় চোখে জল। প্রচুর প্রত্যাশা, আর তা না মিটলেই গাল ফুলিয়ে অভিমান, আর অভিমান মিটতেই উদ্দাম ভালোবাসা। বছরের শেষে আকাশ রোদ্দুরের প্রেম বড় স্নিগ্ধ।বিশাল ব্যাপ্তি তার।দুর থেকে রোদ্দুর শুধু আকাশকে দেখে যায় আর দু হাতে উজার করে দেয় সোনালি ঢাকাই বুটির অনুরণন।আকাশকে মনে হয় কোন উদাসী রাজকন্যা। পরনে তাঁর নীল রঙের মসলিনের শাড়ি।সিথিতে শুধু ছোট ছোট মুক্তোর একটি সিঁথিপাটি। আর কোন অলঙ্কার নেই তাঁর। নেই র্বষার বজ্র মানিকের মালা, শরতের হীরের ঝুমকো, বসন্তের উজ্জ্বল কঙ্কন। রোদ্দুর কেমন অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকে এই পূজারিণীর মত উজ্জ্বল ধ্যানগম্ভীর রূপের দিকে।
মাধবীলতা , বগনভিলিয়া, রঙ্গন, জবা, কানাকানি করে, কিছুতেই বুঝে উঠতে পারে না এই সম্পর্কের রসায়ন, এত রঙ,এত আলো দিয়ে বোনা নকশীকাঁথার নক্সাদের সুচারু প্রস্ফুটন। শুধু টুপটাপ নেমে আসে ওদের পাপড়িতে নিখাদ ভালো লাগার ফোঁটাগুলি। দুটো টুনটুনির এত বোঝার সময় নেই তারা হলুদ ফুলে মুখ ডুবিয়ে মধু খোঁজে। শিউলি গাছের আড়াল থেকে ডেকে গেল একটা চোখ গেল পাখী। দুটো ঘুঘু লাল চুনির মত চোখ মেলে দেখে এই নকশিকাঁথার রকমফের। চিল তীব্র শীষে উঁচু থেকে মনে করায় একদম শীর্ষে সবাই একা। এক ঝাঁক টিয়া রোদ্দুরের দিকে পাড়ি জমায় ডানার উপর বিশ্বাস রেখে। একঝাক পায়রা উড়তে থাকে পশ্চিম আকাশে গোল্লাছুটের চক্কর কেটে। নীল বুকের পায়রা দম্পতীর ছাদের আলসেতে আলাপচারিতা শেষ হলে তারা ডানা মেলে ঝাঁকের উদ্দেশ্যে। তারপরই দেখে তাদের ময়ূরকণ্ঠী গলার রঙ কেমন মিলে গেছে আকাশের সাথে নিজেদের অজান্তেই।।

ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।