সাপ্তাহিক ধারাবাহিক উপন্যাসে ইন্দ্রাণী ঘোষ (পর্ব – ৩৫)
by
·
Published
· Updated
আরশি কথা
হঠাৎ কোথা থেকে একটা খরগোশ লাফ দিয়ে পড়ল একদম ঝোরার পায়ের সামনে, তারপর দুটো শজারু মারামারি করতে করতে, ‘ উইস্পারিং উইন্ডস’ বাড়ীটা থেকে বেড়িয়ে পেছনের বাগানে চলে এল. ঝোরা সজাগ হল. ঝোরা খেয়াল করল রোদ্দুর মিলিয়ে গেছে, চারিদিক আবার কুয়াশায় ঢেকে যাচ্ছে. ঝোরা আর অপেক্ষা না করে ছুটে বাড়ীটা থেকে বেড়িয়ে এল. পেছনে ঝমঝম শব্দ শুনে বুঝল সেই শজারুটা ঝোরাকে তাড়া করেছে. প্রাণপণ ঝর্ণার পাশের সিড়িটাকে খুঁজতে লাগল ঝোরা. হঠাৎ ঝোরার হাতের তালুর নীচে একটা নরম ভেলভেটের মত মাথার পরশ অনুভব করল ঝোরা. ‘ব্ল্যাক প্রিন্স’. আস্তে আস্তে ঝোরা বুঝতে পারল ব্ল্যাক প্রিন্সের গোটা শরীরটা ঝোরার পাশে পাশে চলেছে এবং ঝোরা ঝর্ণার পাশে সিঁড়িটায় এসে পড়েছে. তারপরেই কে যেন ঝোরাকে সজোরে ধাক্কা মারল. সম্বিত ফিরতে ঝোরা দেখল সে আরশীর সামনেই বসে রয়েছে. চৌকিদার চা নিয়ে দরজা ধাক্কাচ্ছে. বাইরে রোদ্দুর থই থই করছে. তাড়াতাড়ি দরজা খুলল ঝোরা. প্রাতরাশ সেরেই বেড়িয়ে যেতে হবে কাজে.
সারাদিন ধরে রিং চেং পং ঘুরে বেড়িয়েছে ঝোরাদের টিম, আশেপাশের জনপদে প্রচুর স্ক্রোলের খোঁজ পেয়েছে. গ্রামের মানুষদের সাথে কথা বলেছে, ছবি তুলেছে, স্ক্রোল, কিউরিও প্রচুর সংগ্রহ করেছেন মেই লিং. ক্যামেরা থেকে ছবি ডাউনলোডের কাজটা করেছে অপূর্ব. কলকাতা ফিরে গিয়ে এডিটিং এর কাজ হবে.
আজ শুটিং এ যাবার সময় ঝোরা খেয়াল করেছে গেষ্ট হাউসের পেছনে একটা ঝর্ণা আছে, আর ঝর্ণার পাশ দিয়ে উঠে গেছে কাঠের সিঁড়ি. শুটিং থেকে ফিরে ঝোরা গেষ্ট হাউসে বসে না থেকে, আস্তে আস্তে বেড়িয়ে পড়ে, ঝর্ণার পাশের সিঁড়ি বেয়ে উঠতেই দেখতে পায়ে এক বাড়ী, পুরোন বাড়ী সামনে অযত্নের বাগান. শ্যাওলা ধরা ভাঙা পাঁচিল. পাঁচিলের গায়ে লেখা ‘উইস্পারিং উইন্ডস’. ঝোরা ভিতরে যায় না আর. শজারুদের মুখোমুখি হতে চায় না সে. সূর্য্যি পাটে বসছে. সিঁড়ি দিয়ে নেমে আসে ঝোরা. বাস্তবে ব্ল্যাক প্রিন্স থাকলেও সে ঝোরাকে বাঁচাতে নাও আসতে পারে.