T3 শারদ সংখ্যা ২০২২ || তব অচিন্ত্য রূপ || বিশেষ সংখ্যায় ইন্দ্রানী বন্দ্যোপাধ্যায়

 ত্রিধারা

বৃন্দাবনী সারং
পদ্মপাতায় রাখা আছে আয়ুষ্কাল
চিবুকের তিলে দু বিন্দু শিশির
অনঘ সকালের আলো
প্রকাশ্যে চুমো দিল
ফুলের কলি কে
আমৃত্যু প্রেমের বড় সাধ !
মধ্যাহ্নের আনত মেঘ
আলতো করে ছুঁয়ে আছে যমুনার জল —
ধুয়ে দিচ্ছে বিগত বিরহ যাপন,
এইবার বাঁশি তে বেজে উঠবে বৃন্দাবনী সারং
তমালের কালো পাতায়
লেখা হবে হিরন্ময় প্রেম
থাকবে না আর পিছুটান
অনিঃশেষ হবে সব চাওয়া পাওয়া

মারু বেহাগ
গোধূলির রঙিন বিন্যাস, শুশ্রূষা ফুলের আদর
বালির চাদরে নেমে আসে জ্যামিতিক সন্ধ্যা
নদী না ঝরণা কাকে ছুঁয়ে থাকবে চাঁদ
ভাবতে ভাবতেই পার হয়ে যায় আগোছালো রাত
গুঁড়ো গুঁড়ো পরাগে ঝরতে থাকে মারু বেহাগ
সহজিয়া আকাশে এমন সরল উদার স্পেস
অথচ আমার সমগ্র আমিকে
ছড়িয়ে দিতে পারলাম না বিস্তৃত দিগন্ত রেখায়
যুগল যাপনের তীব্র লিপ্সা
শ্বেত ছায়াপথে দ্রুত যেতে যেতে
থমকে দাঁড়ায় সম্ভাবনাময় অক্ষর স্তবকে ,
গুঁড়ো গুঁড়ো পরাগে ঝরতে থাকে ,ঝরতে থাকে

ইমন কল্যান
হেমন্তের ওমে নম্র সাঁঝবাতি
মৃতপ্রায় স্বপ্নেরা
জেগে ওঠে
দুধেলা ধানের শিষে
সেজে ওঠে সময়
হায়রোগ্লিফিক কথার বুননে,
যতবার খুঁজেছি
জীবনের জটিল জ্যামিতিক মানে
ততবার ই ভিজেছি অকাল শ্রাবণে।
নবান্নের গন্ধে জারিত হয় অন্নময় নাদ
নাভিমূলের নিবিড় গভীরে
তুলোট অন্ধকারে ভাসতে থাকে
ইমন কল্যাণ
আঙুল ছুঁয়ে থাকে কোমল মধ্যমা
কামনা প্রবণ ঠোঁটে নিখাদ আলাপ
শরীর ছুঁতে চায় নিহিত শিকড়,
ভিটে মাটি, পুরোনো দালান
ধুলোবালি, ঝরা ফুলে লেখা পূর্বজর নাম
হিমেল বাতাস আনে স্মৃতিমেদুরতা
বিগত শৈশব আর যৌবনের ঋণ কঙ্কাবতীর জলে তীব্র ভাটির টান
পাড়ে নৌকোটি বাঁধা
রাত্রির প্রথম প্রহরে
ধীরে ধীরে
বেজে ওঠে মধুক্ষরা গান ।

Spread the love

You may also like...

error: Content is protected !!