বাইরে যাই নি আজ কতদিন হলো। আমার এই বাইরে যাওয়া মানে তো চৌকাঠের বাইরে যাওয়া নয়। চৌকাঠ পার হয়ে আরও বেশ কিছুটা হেঁটে গিয়ে পছন্দমতো একটা ট্রেনে চেপে পড়া। তারপর একটা নির্দিষ্ট স্টেশনে নেমে নিজের একটা পছন্দসই আসন বেছে নিয়ে ডুবে পড়া। আমার চারপাশের মানুষজনরা সবাই আমার এই অস্বাভাবিকতা সম্পর্কে সম্পূর্ণ অবগত আছে। প্রতিদিন স্টেশনে গিয়ে বসি তবুও প্রতিদিনের যাত্রা আমার কাছে এক একটা উৎসবের মতো। ঘুম থেকে উঠেই খুব আনন্দ হয় আজ স্টেশনে যাব অথচ রোজ যেখানে যাচ্ছি।
খুব ছোটোবেলা থেকেই বেশি কথায় নিজেকে জড়িয়ে ফেলি নি। মুখ বুজে নিজের কাজ করে গেছি এবং একটা নির্দিষ্ট সময় পর নিজেকে সকলের থেকে আলাদা করে নিয়ে আমার নিজস্ব পৃথিবীতে চলে গেছি। একনাগাড়ে অনেক কথা বলে গেলে আমার কষ্ট হয়, মাথার যন্ত্রণা করে। লুকিয়ে থাকতেই বেশি ভালোবাসি। দু’ চারলাইন লিখে আনন্দ পাই, যদিও তার সঙ্গে পত্রপত্রিকায় ছাপানোর কোনো যোগ নেই। আজ পর্যন্ত যেটুকু প্রকাশিত হয়েছে তার অনেকটাই বন্ধুবান্ধবদের অনুরোধে। তারাই আমাকে জোর করে তাদের পত্রপত্রিকায় পাঠাতে বাধ্য করেছে। জীবনের প্রথম কবিতার বই পঁয়তাল্লিশ বছর বয়সে এসে, তাও কবি পিনাকী ঠাকুর জোর না করলে হয়ত আজও তা সম্ভব হতো না।
আমার সীমিত জ্ঞানে আমি যেটুকু বুঝতে পেরেছি তা হল লেখার মধ্যে দিয়ে আনন্দ খুঁজে পাওয়াটাই বড় এবং সেটা আমি পেয়েছি। এটাই আমি জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত পেতে চাই। প্রতিযোগিতায় আমি কোনোদিন ছিলাম না আজও নেই। আরও অনেক অনেক পড়তে চাই। আর সকলের চোখের আড়ালে গিয়ে একটু নির্জনে মনের দু’চারটে কথা সাদা পাতায় লিখতে চাই শুধু আমারই জন্যে।