সাপ্তাহিক ধারাবাহিকে হরিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় (পর্ব – ৯০)

সোনা ধানের সিঁড়ি
১২৯
এই সেদিনও তোমাকে জানতাম না। অবশ্যই চিনতাম। চিনতাম বলতে ফেসবুক খুললে তোমার মুখটা মাঝে মাঝেই আমার চোখের সামনে দিয়ে সরে সরে যেত। ভালো লাগতো, কখনও কখনও তোমার ছবিটাকে একটু দাঁড় করিয়ে রাখতাম। সাইকেলে করে যেতে যেতে বারান্দায় কোনো কিশোরীকে দেখলে যেমন গতি কমিয়ে মিনিট দুয়েকের জন্যে একটু পা ফেলে দাঁড়াতে ইচ্ছা করে সেইরকম আর কি! এর বেশি কিছু না।
তারপর কোথা থেকে যেন একটা পর্দা সরে যায়। চোখে তখন আরও একটু বেশি করে আলো আসে। সেই আলোয় যা ছিল ঘরের কোণায় কিছুটা আলো অন্ধকারে, তা যেন চোখের আরও অনেক কাছে সরে আসে। এইভাবেই এখন ফেসবুক খুললে তোমাকে নতুন নতুন রূপে দেখতে পাই। আগের চেয়ে একটু বেশিই ভালো লাগে। কেন লাগে আমি জানি না। এর মধ্যে কি এমন থাকতে পারে! অনেক খুঁজেও আমি এর কোনো কারণ বার করতে পারি নি। কখনও দেখি তোমার কোঁচকানো কিছু চুল গালের কাছে নেমে এসেছে। যেন একটু হাওয়া দিলেই দুলে উঠবে। কখনও দেখি সামনে থেকে নয়, ডানদিক বা বাঁদিক থেকে ছবি তুলেছ। এমন ছবিতে তোমার মুখে অসাধারণ হয়ে ফুটে ওঠে। আমার মাথাতেও দু’চারটে লাইন এসে জড়ো হয়। লিখেও ফেলি। সেই কবিতা কোনো অনলাইন ম্যাগাজিনেই হোক বা আমি নিজেই তা পোস্ট করি, ভাবতে ভালো লাগে তুমি পড়েছ। কিন্তু তা কি হয়! একজন সংসারী মানুষ কতক্ষণ আর কবিতার জন্যে দিতে পারে! আচ্ছা দিলেও তার পাঁচ হাজার বন্ধুর মধ্যে আমারটাই বা তার চোখে আসবে কেন? তবু কেন জানি না মনে হয় তুমি পড়ে নিয়েছ। হয়তো উত্তর করো নি, আসলে তোমার নিজেরই তো কথা তাই আর কি উত্তর করবে ভেবে পাও নি ——- এইরকম একটা ভাবনাকে প্রশ্রয় দিয়ে তোমার ভাবনাটাকে মনে মনে জিইয়ে রাখি। ইচ্ছা করে তোমার প্রতিটা পোস্টে মন্তব্য করি। উদ্দেশ্য একটাই, তোমার নজরে আসা। এখন অবশ্য সেটা করিও। কিন্তু সবসময় তোমার উত্তর পাই না।
হ্যাঁ, আরও একটা অপেক্ষা। আচ্ছা, একে কি অপেক্ষা বলা যায়? আবার ভাবি, অপেক্ষা নয়তো কি? কিন্তু আমার তো কিছু চাওয়ার নেই। এখন কিছু ভাবতে বসলে সেই ভাবনার মধ্যে আজ আর মানুষ আসে না। তবু কিন্তু সময় পেরিয়ে গেলে মনে হয় কিছু একটা ঘটবে। মনে হয় তোমার আগ্রহ বৃদ্ধি পাবে। আমার মতো তুমিও একটা মানসিক প্রস্তুতিতে আছো। আমারই মতো ভাবছো আগামীর একটা দিন। হয়তো একদিন হঠাৎ করেই কথা বলে উঠবে। কিন্তু কিছুই ঘটে না। তবুও তোমারই জন্যে, তোমাকে নিয়ে বিশেষ কিছু ভাবনা কিছু দিনের জন্যে অন্তত আমার প্রতিটা মুহূর্তকে চঞ্চল করে তোলে।