গুচ্ছকবিতায় হীরক বন্দ্যোপাধ্যায়

১। আমি ফিরে এসেছি

আমি ফিরে এসেছি ,তোমরা দেখো
এই টুকুন তো মাত্র পৃথিবী
এখন আর পায়ের তলায় সর্ষে নেই….
চতুর্মাত্রিক সার্থকতা দেখতে দেখতে
আমার চোখ পচে গেছে
পাখিরাও সফর শেষে
যে যার বাড়ি ফিরে গেছে
এখন গোধূলি, এসময় মন্দিরে মন্দিরে
ঘন্টার ধ্বনি
পশ্চিমা মসজিদে আজান
সেদিন যারা আমার যাত্রা পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল, তারাই আমার জুতোর দিকে
তাকিয়ে মুগ্ধ হয়ে গেছে
জুতোর পালিশ আসলে বিবর্ণ কাজল
ছাড়া কিছু নয়…
আমি দেখেছি, তোমার মুখে কেমন চকচক
করছে হাজার ওয়াটের বাল্ব
তুমিও বুঝেছো নিশ্চয়
সুখ আসলে সুখ নয় অনন্ত অসুখ
অতীত আসলে অতীত নয়
আত্মজীবনীর অংশ বিশেষ
এই নাও হাত
তিন সত্যি করো,আজ আর অস্পৃশ্য রেখোনা হাত….

২। এমন নিজস্ব দিনে

এমন নিজস্ব দিনে তুমি এলে
তোমাকে যে কোথায় বসায়
চারিদিকে স‍্যানিটাইজেশান
তবু ওদিকে যে ফ্রি লান্স ফটোগ্রাফারের
শোকে হাতে গ্লভস্ মুখের মুখোশ খুলে যায়
শুধু শুধু অসহায় জেনে
যেতে হবে এই সত্যটুকু ভেবে
মানুষ সহায়সম্বলহীন ঝড়ের তান্ডবে আর
মহামারী ভাইরাসের থাবায়
তবু লোকে কত কি যে বলে
একে একে ফিরে যায় সপ্ত অশ্বারোহী
আসমুদ্রহিমাচলে কত যুবা নারী
এখানো কি চুয়াল্লিশ ধারা জারি ?
আহা এমন নিজস্ব দিনে
তুমি এলে তোমাকে আজ কোথায় বসায় ?
ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।