কবিতায় গীতশ্রী সিনহা

বিবৃতি
দেবী চৌধুরী উদাত্তকন্ঠে বলে চলেছেন তার বক্তব্য… সমাজ, সংসার, সামাজিক সাহিত্য চেতনার উদয় হোক ! আলোর রোশনাই আসুক…
নামগোত্রহীন বিশ্বাস নিয়ে ছটফটানি বন্ধ হোক…!
সভ্যতার নামে অপাংক্তেয় -অখাদ্য গোপন ফাটল
মাঝরাতে জেগে থাকা জানলায় ঐতিহাসিক দুঃস্বপ্নের ইঙ্গিত দেখায় …
আমরা লোমহীন ব্যাঙ, গোষ্ঠীভুক্ত সর্পকুল
শ্যাওলা ভরা পাখনা ছুঁড়ে মারি ধ্বংসের দুয়ারে…
আমাদের বোঝাবার চেষ্টা করা বৃথা –
কারণ আমরা যুক্তিকে ঘৃণা করি,
আমরা অবিশ্বাস করি বিজ্ঞানকে,
প্রগতির চিন্তা আমাদের কাছে এক কুৎসিত ব্যাধি মাত্র।
নাস্তিক আর শয়তানের মধ্যে আমরা কোনো প্রভেদ দেখি না।
আমাদের ঈশ্বরের ভক্ত ছাড়া আর কাউকে মানুষ মনে করি না।
আমরা জানি ঈশ্বর আছেন এবং তিনি
অনুরাগী মানুষকে সন্তানের মতো রক্ষা করেন।
ঈশ্বর ছাড়া কোনো শক্তিই মানুষের ভাগ্য পাল্টাতে পারে না।
ঈশ্বরকে বাদ দিয়ে যারা সমাজ পরিবর্তনের কথা বলে তারা চির – অভিশপ্ত, তাদের ধ্বংস অনিবার্য।
আমরা শিল্পকে ঘৃণা করি –
অথবা ইতিহাসকে ঘৃণা করি –
কারণ সাহিত্য ঈশ্বর – নিরপেক্ষভাবে গড়ে ওঠে।
শিল্প ঈশ্বর নয়, মানুষের সৃজনশীলতার কথা বলে।
ইতিহাস চোখে আঙুল দিয়ে দেখায় সামাজিক দ্বিধা কে, আর তাকেই রক্ষা করে যা শুধু মানবিক।
এ সমস্ত কিছুই মানুষকে প্রতিবাদ করতে শেখায়।
প্রতিবাদী মানুষ অবিশ্বাসী হয় –
প্রতিবাদী মানুষ মরতে ভয় পায় না –
প্রতিবাদী মানুষ আদর্শবান হয় –
আমরা আদর্শবান মানুষকে ভয় করি।
দেবী চৌধুরী উদাত্তকন্ঠে জনগণের কাছে আবেদন রেখে চলে গেলেন অন্তরালে…
করতালির মাধ্যমে দর্শকেরা বিজয় পতাকা তুলতে থাকে…