কবিতায় স্বর্ণযুগে বোধিসত্ত্ব (গৌতম নাথ) (গুচ্ছ কবিতা)

১| ভগ্ন করো, দগ্ধ করো আমাকে
আরো একবার চূর্ণবিচূর্ণ করে দাও আমাকে;
বহুকাল ধরে টুকরো টুকরো হতে ভীষণ ইচ্ছে করছে।
ভেঙেচুরে না দিলে গভীরে গভীরে আত্মীয় শূন্যতার জন্ম হয় না।
পূর্ণদাস হতে গেলে একটা বৈকুণ্ঠ দহনের প্রয়োজন।
যে মনখারাপ প্রণামের মতো সরল হয়, তার কাছে নতজানু সমর্পণ চাই।
পাখিরা যেভাবে সহজ বাঁধন পিঠে নিয়ে ওড়ে, আমার পিঠেও রেখে দাও একটা পূর্ণমাত্রার চন্দ্রবিন্দু।
সকল ঘাসফুল ইচ্ছে নদী হয়ে গেলে আমিও ফসলের মতো সবুজ হয়ে যাব।
তিলোত্তমার মতো সোজা হয়ে যাও, তবেই তো ভাঙতে পারবে নিরবধি, জুড়তে পারবে অনবধি।
একটা সাগরমুখী উচ্চারণ চাই…
একটা মহাকাশচারী আকাশ চাই….
চাই একমুঠো স্বরবর্ণ দহন।
২| আশাপূর্ণা ঝুমুর ছেড়ে
ছায়ামেঘ বিকেলের হাসনুহানা গন্ধে চরাচর এখনও ম ম করছে।
গোধূলি উঠোনের ভাঁজে ভাঁজে সাগরিকা অক্ষরে এঁকে রাখলাম দীপান্বিতার চন্দ্রিমা চোখের সরলরেখা অভিমান।
ধ্যান ভাঙলেই শুনতে পাই মোনালিসা নদীটার আশাপূর্ণা ঝুমুর।
যেন এ জন্মের সকল চন্দ্রহার নেশা শুধুমাত্র ওর মহালক্ষ্মী বুকেই সাঁতার কাটে।
শ্রীকৃষ্ণ আলোটা শ্রেয়তমার আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে দিয়ে আমি আবারও চললাম চির পরিচিত সেই গৃহস্থ ঠিকানায়।
৩| দক্ষিণারঞ্জন মাঠ
যে ভোর এখনও দেখা হয়নি,
তার উঠোনেই আমি হবো বাল্মিকী ঝরণা।
প্রতিটি রাতের গভীরতা ছুঁয়ে যেটুকু নির্ভয়া আলো
সকালের শান্ত দিঘিতে অন্ত্যমিলের প্রতিবিম্ব আঁকে,
তার পরতে পরতে জমে থাকে জয়ের নেশা।
পথ সুদীর্ঘ বলে আমি হাঁটব না —
এমন মধ্যবিত্ত অনীহা কবেই তো ঝেড়ে ফেলেছি।
সিন্ধুর বুকে যে বিন্দুরা মাতৃস্নেহের স্পর্শ মাখে,
তাদেরও বিগত বসন্ত ছিল সজ্জাহীন উপাখ্যান।
আগুনের কাছে বারবার হেরে গেলে
মন পুড়ে রত্নগর্ভা হয়ে যায়।
যতটা সুদূরের পথিক হলে বাঁধনহারা বাঁধন হওয়া যায় , ততটাই আমার দক্ষিণারঞ্জন মাঠ।