কবিতায় পদ্মা-যমুনা তে গোলাম কবির

তুমি চলে গেলে
তুমি চলে গেলে ভীষণ একা হয়ে যাই!
মনেহয় বুকের ওপর দিয়ে এইমাত্র
একটা মেলট্রেন চলে গেল তীব্র গতিতে
হুইশেল বাজিয়ে, এশহরটাকে আমার
তখন ভীষণ অচেনা মনেহয়, মনেহয়
এখানে আমি কোনোদিনই ছিলাম না
অথচ এখনো আমি এই শহরেই
বাস করছি চল্লিশোর্ধ বছরব্যাপী!
তুমি চলে গেলে ভীষণ একা হয়ে যাই!
আমার তখন কারো সঙ্গেই কোনো কথা
বলতে ভালো লাগে না, মনেহয় তখন বোবা,
কালা এবং অন্ধ হলেই বুঝি ভালো হতো!
তুমি চলে গেলে আমি বদ্ধ উন্মাদ হয়ে যাই!
তখন কোনো গান শুনতে আমার
ভালো লাগে না, পথ চলতে চলতে
কোনো ফুল পেলে আমার প্রচণ্ড ক্রোধে
ছিঁড়ে কুটিকুটি করতে ইচ্ছে করে কিংবা
রাস্তায় কোনো ভিক্ষুক কিছু চাইলে
আমি তাকে কিছু না দিয়েই বিদায় করে
দিই অথচ আমি বরাবরই গান শুনতে
খুব ভালোবাসি বিশেষ করে মান্নাদের গান
হলে তো কথাই নাই, ফুল ভালোবাসি
তা তার সৌরভ থাক কিংবা না থাক তবুও
এবং ভিক্ষুক কে আমি সম্ভব হলে
ফিরিয়ে দিই না শূন্য হাতে,
প্রয়োজন বোধে কারো কাছে ধার করে
হলেও কিছু না কিছু দিয়ে আরো বেশি
কেনো দিতে পারলাম না
সেই অপরাধবোধ নিয়ে বিদায় করি।
তাই তোমাকে বলছি শোনো – তুমি এভাবে কখনো চলে যেও না আমায় একা রেখে।
কারণ – তোমাকে আমার ভীষণ প্রয়োজন
স্নিগ্ধ সকালে , নিঝুম দুপুরে, সন্ধ্যায়,
তারা জ্বলা অন্ধ নিবিড় রাতে কিংবা
জ্যোৎস্না কবলিত মধ্যরাতে বাহুডোরে
এমনকি আমার যাপিত জীবনের
সকল সময়, সকল ক্ষণে, নিদ্রায় ও জাগরণে।
( কবিতাটি আমার একমাত্র বৌকেই উৎসর্গ করলাম)