গোবিন্দ জির ডাকে ঘুম যখন ভাঙলো জামুয়ানি তার আঁধারের চাদর সরিয়ে আলোয় ফুটে উঠতে ব্যস্ত। ও দিকে দূর পাহাড়ের ও পাশ থেকে সূর্য তার আলোর ছটা ছড়িয়ে দিচ্ছে সুন্দরী সিমলিপালের হৃদয়ে। আবার একটা নতুন দিন, আজ আবার এই আদিবাসী গ্রামে বাহা উৎসব। তাই সকাল থেকে বাড়ির রমণীরা গৃহে গৃহে আলপনা দিতে ব্যস্ত। সকালের চায়ে চুমুক দিতে দিতে বাড়ির বাইরের রাস্তায় এসে দাঁড়ালাম, প্রকৃতি তখন তার নিজের মতো করে সেজে উঠছে। আজ আবার আমাদের অরণ্য ভ্রমণ আবার গ্রামে আদিবাসীদের সঙ্গে বাহা উৎসবেও থাকার কথা। তাই বিলম্ব না করে সকালের জল খাবার খেয়ে বেরিয়ে পড়লাম অরণ্য ভ্রমণে। লাল কাঁকুড়ে পথ ধরে গাড়ি ছুটে চললো অরণ্যের গভীরে। আজকে আমাদের গন্তব্য সিমলিপাল অরণ্যের সব থেকে মোহময় স্পট চাহালা বন বাংলো। বন পথ ধরে যেতে যেতে পথের মাঝে দেখতে পেলাম বন মুরগি, সারপেন্ট ঈগল, স্কুইরেল,লেঙ্গুর, হগ ডিয়ার, ময়ূর। অরণ্যের বেশ কিছুটা পথ অতিক্রান্ত করে এসে পৌঁছালাম বুন্দাবন চেক পোস্ট। এখানে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখিয়ে এগিয়ে চললাম চাহালা বন বাংলোর দিকে। আমার বহু স্মৃতি বিজড়িত চাহালা বন বাংলোয় এসে মনটা খারাপ হয়ে গেলো। কোথায় তার সেই আদিমতা, কোথায় সেই রোমাঞ্চ। বন বাংলোয় কিছুক্ষণ এদিক সেদিক করে ফিরে এলাম জামুয়ানি গ্রামে। ফিরে এসে যোগ দিলাম আদিবাসীদের বাহা উৎসবে। বাহা হচ্ছে প্রকৃতির কাছে সারা বছর যাতে ফল ফুল ভালো হয় তার মানত করার উৎসব। আর এই প্রার্থনা যাতে সার্থক হয় তার জন্য মুরগি ও ছাগ বলি দেওয়া হয় বাহা দেবতার কাছে। বেশ কিছুক্ষণ ওদের সঙ্গে কাটিয়ে ফিরে এলাম স্নান করতে। দুপুরের খাবার ও কমপ্লিট, আজকের মেনু ভাত,ডাল,ভাজা,পোনা মাছের ঝোল বেশ তৃপ্তি করে খেয়ে দুপুরে খানিক বিশ্রাম।