এই জগৎ দিনে দিনে স্বার্থসর্বস্বতর হয়ে চলেছে । আমাদের প্রত্যেকের জীবন নিজ নিজ স্বার্থপূর্ণ ব্যস্ততায় ঠাঁসা । কাজের দিন সবটাই ঠাঁসা রুটিন । কেন যে এত ব্যস্ত আমরা নিজেরাই তা জানিনা ।যেন হিপনোটাইজ হয়ে চলেছে অহোরাত্র ।কারোদিকে তাকাবার সময় নেই। রাস্তায় কাউকে রক্তাক্ত হয়ে আছড়ে পড়তে দেখলেও আমরা দাঁড়াব কি দাঁড়াব না, ভাবতে ভাবতেই এগিয়ে যায় অনেকটাই পথ , এমনি স্পীড। বিপদে আপদেও আত্মীয়-বন্ধুর পাশে গিয়ে যে দাঁড়াবে সে সময় নেই; কেননা ‘সময় নেই’এই বোধটাতেই আমরা সন্মোহিত । হঠাৎ যদি ধরা যাক শারীরিক অসুস্থতায় পড়ে আছি , তখনই থামতে বাধ্য হয় কিছুক্ষন ;ধরা পড়ে চারপাশ শূন্য । চারপাশে ছিল যারা , আছে বলে জানতাম তা মায়ামাএ। অলীক, কাল্পনিক, ভার্চুয়াল সবাই তেমনি উর্ধ্বশ্বাসে ছুটে চলেছে , তোমার দিকে তাকাচ্ছে না তারা কোউ । কাজের ছোটা , ছুটির ছোটা , এমনকি হাসি আনন্দ,বিরাম , বিশ্রাম সব রুটিনে বাঁধা । কোথাও ফাঁক দেবার উপায় নেই।নিতান্ত সামাজিক সম্পর্কে বা আইনি বাঁধনে বেঁধে বাধ্য না করলে আমরা কারো জন্য দাঁড়াই না। নিজেদের এমনি অসহায়ভাবে বেঁধে উৎসর্গ করেছি কার চরনে ?তা কে জানে।
তাইতো আজকের শিশুরা ১৩-১৪ বছর বয়স হতে না হতেই গার্লফ্রেন্ড-বয়ফ্রেন্ড খোঁজে। অসহায় আত্মা সঙ্গী চায়, ভরসা চায়।অল্পবয়সী সম্পর্ক অনিবার্যভাবেই ভাঙনে ক্ষতবিক্ষত হয়। একলা ক্ষত প্রলেপ পায় না ।কার এত সময় আছে যে অন্যের ক্ষতে প্রলেপ দেবে ?কে এমন নিষ্কর্মা যে অন্যের মনের যত্ম নেবে । হাজার ক্ষত নিতে নিতেই সবাই ছুট লাগায় । নিজের থেকে পালায় । বাইরেটা কাজে আর হুল্লোড়ে পূর্ণ কিন্তু অন্তর থাকে শূন্য । সেই শূন্যতা দুর্বহ হলে, হাতে পড়ে বীষ , সিলিং থেকে নামে দড়ির ফাঁস ।কেউ তো এমন নেই যার পিছুটান টেনে ধরবে মায়ায়। কোথাও তো আশ্রয় নেই যেখানে ক্লান্তি জুড়ানো যায়।অথচ আপতদৃশ্য সব আছে প্রাচুর্য পর্যাপ্ত।
এ ধ্বংস কী এতটাই অনিবার্য চাইলেও কি আমরা স্বার্থ সন্মোহন কাটিয়ে নিজেদের মোটিভেট করতে পারিনা , পারস্পরিকতার দায়বদ্ধতায় !না হয় নিজের কাজের ক্ষতি করেই একটু থামলাম, আমরা শুশ্রুষায় কেউ যদি প্রান পায় ।কাল তো আমারো লাগবে তার শুশ্রষার হাত । কেননা আমিও একা তুমিও একা । তখন হাত বাড়ানোই বুদ্ধির পরিচয় নয় কি ? চেষ্টা করে দেখি অন্তত, একাকীত্বের মহামারীকে প্রতিরোধ করতে পারি কি না ?তাতে বড় লাভ কিনা আপাত লোকসানে ,তার উওর না হয় পরবর্তী প্রজন্ম দেবে ।