ক্যাফে গল্পে গৌতম বাড়ই

লেঙ্গী খাওয়ার গল্প

একদিন বিকেলবেলা অদ্ভূত এক রোদ উঠেছে মনে হয়। মনে হয় বারোয়ারী কলপাড়ে পিচের ড্রামের ভিতর যে জাদুলাঠিটি ছিল আজ তাকে তুলে নিয়ে গিয়েছে রিনি। রিনির হাতে রেখে দিয়ে হাত ঠনঠন বাজে কঙ্কালের হাড়। ওখানে হাড় আর এখানে চর্বি মাংস। গীতবিতান থেকে চোখ চেয়ে গায় গান রিনি সেন। একদিন আঁধার জমাট হতেই বাড়ির থাম ইঁট কাঠ দরজা বীভৎসে সেই অন্ধকারে তাদের যৌনতা দিয়ে আমায় উপভোগ করে। তারপর তাড়িয়ে দিল এ বাড়ি এ পাড়া এ শহরের গলি ঘুপচি থেকে। একা হতে গিয়ে ভীষণভাবে একা হয়ে পড়লাম চৌকাঠের গহ্বরের মতন। এখন পাড়া দেখতে গিয়ে গাছের মাথায় চেপে বসি। খিদে তো নেই আর তারচেয়ে বেশি আছে পাগলের মতন সুস্থ জীবন। সে নিকৃষ্ট ভাবনার বাইরে গিয়ে যতসব ধার করা গান গায়। জানি জীবনে যার প্রেম নেই ভালোবাসা নেই সে যতই দরদী গান গাক রাতে বোকার মতন জাদুদন্ডের সামনে বসে ফ্যালফ্যাল করে হাসে। বাচ্চাও পয়দা করেছে কাকবন্ধ্যাদের মতন। নলেনগুড়ের স্বাদে শাসালো ডাব্বু হাব্বি। এখন রিনি সেনের হাব্বি আর আমি গাছের মগডালে বসে কুরুক্ষেত্রের সেই যুদ্ধের মাঠটি খুঁজছি। শুনেছি ওটাই নাকি প্রকৃত ভারতবর্ষ। সব পাগল যেমন ক্ষীর খায়না তেমনি সব সবল সুস্থ মানুষ এখন মেডিসিন নেয়। লেঙ্গী পাগলু মাথাখিচে একটি ছোট্ট কাব্যি করেছে—-

মোষের গায়ের মতন ক্লেদাক্ত আর দূর্গন্ধ
নেমে আসে শহরতলীর হামামে গভীররাতে
সবাই কেমন হিম মেরে যায় তাতে ।

ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।