T3 শারদ সংখ্যা ২০২২ || তব অচিন্ত্য রূপ || বিশেষ সংখ্যায় ফাল্গুনী দে

পেট হস্টেল
আদিত্যর মনে আসন্ন একটা ঝড়ের ভয় ছিল। বছরে একবার পুজোয় বেড়াতে যাবার প্রসঙ্গে বাড়িতে একটা যুদ্ধ যুদ্ধ পরিবেশ। গতবছর বাবা চলে যাবার পর মাকে কলকাতার ফ্ল্যাটে এনে রেখেছে। শহুরে জীবনে অনভ্যস্ত এবং অসমর্থ মাকে একা ফেলে রেখে কিভাবে বেড়াতে যাওয়া সম্ভব! এদিকে সময় কমে আসছে। টিকিট, হোটেল বুকিং, ব্যাগ-পত্তর গোছানো — ঢের কাজ বাকি। রিনা সারাদিন গজ গজ করে — মালতি যদি হস্টেলের কাজ সেরে এক ফাঁকে এসে রান্না করে, ওষুধ দিতে পারে তাহলে অসুবিধা কোথায় ? পাঁচশো টাকা বাড়তি গুঁজে দিলেই হলো। মাত্র দিন পনেরোর ব্যাপার। দিলওয়ারা, হাওয়া মহল আমার কতদিনের শখ। আদিত্য আয়নার সামনে দাড়িয়ে নীরবে ফোম ঘষে। রিনা আবার বলে ওঠে — তাছাড়া, আমিষ খাবেনা, দূরে কোথাও হাঁটতে পারবেনা। সেইতো হোটেলেই বসিয়ে রাখতে হবে। তোমাদের মা-ছেলের এই আদুরেপনা দেখলে গা জ্বলে যায়। আদিত্য মিনমিন করে বলে ওঠে — পুজোয় হোস্টেলে কাজের চাপ থাকে, মালতি আসতে পারবেনা বলেছে। ছোট মেয়ে সব শুনে বলে ওঠে — আমার ছোট্ট লুসি সোনা যদি যেতে পারে তাহলে ঠাম্মা কেন যাবেনা ! ঠাম্মা গেলে কতো মজা হবে । রিনা এবার তারস্বরে চিৎকার করে ওঠে — এক থাপ্পড় মেরে বসিয়ে দেবো। বড়দের মুখের উপর তর্ক। আগে হলিডে এসাইনমেন্ট শেষ করো।
রাতে খাবার টেবিলে মা বলে ওঠে — আদি, আমাকে নিয়ে এতো দুশ্চিন্তা করিস না। পুজোর ছুটির ক’টা দিন আমি মালতির সাথে ওদের পেট হস্টেলেই থেকে যাবো। আমার অসুবিধা হবেনা, তোরা ঘুরে আয়।