ধারাবাহিক কিশোর উপন্যাসে এ এফ এম সেবগাতুল্লা (পর্ব – ১)

যতো রহস্য ঝাড়গ্রামে
সাবির আর সুবীর দুই অভিন্ন হৃদয়ের বন্ধু। বাড়ি দক্ষিণচব্বিশ পরগনায়। সোনারপুরের ঠিক দুটি স্টেশন পরে কালিকাপুরে। সাবিরের বাড়ি বেনেবউ গ্রামে , আর সুবীরের বাড়ি সাউথ গরিয়া গ্রামে। এরা এখন উচ্চ মাধ্যমিকের ছাত্র। স্কুল সাউথগরিয়া যদুনাথ বিদ্যামন্দির। দুজনে বাড়ির কাছে চন্দন ইট খোলার কাছে নেমিনাথের মূর্তি আবিষ্কার, তাড়দা গ্রামের ভুলে যাওয়া পর্তুগিজ নৌঘাঁটি আবিষ্কারের মধ্য দিয়ে এলাকার হিরো বনে যায়। আর শেষ অভিযানে গেছিল ক্যানিংয়ে, মাতলা নদীর দেশে।সেখানে এই দুই বিচ্ছু প্রতাপআদিত্যের দুর্গের সন্ধান দেয়।
সেই ক্লাস সেভেন থেকে এরা অভিযানে নেমেছে। দেখতে দেখতে এরা বেশ বড় হয়েগেলো। ও একটা কথা বলে রাখি সাবির আহমেদ আর সুবীর সুবীর চ্যাটার্জি দুজনই বেশ গিটার বাজাতে ভালোবাসে। দুজনই ভাবছে নতুন ক্লাসে উঠলে একটা বাংলা ব্যান্ডের দল বানালে কেমন হয় ! তবে সাইকেলের নেশা এদের ছাড়েনি। স্কুলের নিচু ক্লাস থেকেই এরা এলাকা ভ্রমণে বেরোয় সাইকেলে চেপেই। এভাবেই ওরা জৈন তীর্থঙ্কর নেমিনাথের মূর্তি আবিষ্কার করে ফেলে।
ওহ : একটা কথা বলা হয়নি। সামনের পূজোর ছুটিতে ওরা ভেবেছে ঝাড়গ্রামে বেড়াতে যাবে। ওদের যে মামা, মানে টিংকু মামা, ঝাড়গ্রামে চাকরি পেয়েছে। মামার কাছেই এ কদিন শুধু গায়ে হাওয়া লাগিয়ে ঘুরে বেড়াবে। মামা ফেসবুকে ঝাড়গ্রাম নিয়ে কি সব লেখালেখি করে আর তার সাথে ঝাড়গ্রামের ছবি টবি দিতে দেখেছে। ছবি দেখেই ঝাড়গ্রামকে বেশ ভালো লেগেছে । তাই ওরা ঠিক করেছে এবারের পূজোর ছুটিতে মামাকে বাড়ি আসতে দেবেনা। ওরা ঝাড়গ্রামে টিংকু মামার সাথে ঘুরে বেড়াবে। আর টিংকু মামাও বলেছে পূজোর ছুটিতে ঝাড়গ্রামে এলেই ওদের জন্য দুটো সাইকেল জোগাড় করে রাখবে। আর ওরা মনের আনন্দে ঘুরে বেড়াবে।
বাড়ির লোকজনকে রাজি করানো হয়েগেছে।এবার সেই প্রতীক্ষিত দিনটি এসে গেলো । ওরা ব্যাগপত্র নিয়ে ফার্স্ট ট্রেনে চেপে রওনা দিল শিয়ালদায়, সেখানে থেকে ইস্পাত এক্সপ্রেসে চেপে ঝাড়গ্রাম। সাঁত্রাগাছি স্টেশন থেকে ঝাড়গ্রাম মেমু ছাড়ে, তবে আজ থাক, বেড়াতে যাচ্ছি যখন ইস্পাতে চেপেই না হয় ঝাড়গ্রামে যাওয়া হোক।
ভোরের ক্লান্তি নিয়ে ওরা ইস্পাত এক্সপ্রেসে উঠে ঘুমিয়েই পড়লো। তবে খড়গপুর ঢোকার সময় অনুযায়ী ওরা মোবাইলে অ্যালার্ম দিয়ে রেখেছিল। আর ‘হোয়ার ইস মাই ট্রেন’ অ্যাপ ওরা ইনস্টল করে রেখেছিল কারণ দূরবর্তী জেলায় ট্রেনে যাতায়াত করতে গেলে এই অ্যাপ ভীষণ কাজে লাগে ।
গল্প করতে করতে সাবির আর সুবীর ঘুমিয়ে ভোরের ক্লান্তি নিয়ে ঘুমিয়ে পড়লো।
চলবে