T3 || আমার উমা || বিশেষ সংখ্যায় দেবব্রত রায়

ছাতাগিরির সালতামামি
অদ্ভুত লোকটাকে মশা-মাছির ভিন্ডুলের মতো ঘিরে ধরে একদঙ্গল ছেলেমেয়ে “অ্যানাকোন্ডা! অ্যানাকোন্ডা!” বলে হাততালি দিয়ে খ্যাপাচ্ছিল। তবু তার চোখ-মুখ থেকে মুহূর্তের জন্যও এক-ছটাক হাসি মিলিয়ে যায়নি।
অদ্ভুত বলতে,লোকটা ওর নিজের কোমরের সঙ্গে প্যাঁচানো লম্বা একটা দড়ির একেবারে শেষমাথায় ভাঙাচোরা-শিক-ওপড়ান একটা ছাতাকে শক্ত করে বেঁধে রেখেছে ! আর সেটাকে ছ্যাঁচড়াতে-ছ্যাঁচড়াতে নিয়েই সে পথ হাঁটছে। সামান্য দম নেওয়ার জন্যই বোধহয়,লোকটা খোলামেলা একটা জায়গায় এসে দাঁড়াল।
কয়েকটা বুড়ো-আধবুড়ো লোক ছেলেমেয়েগুলোকে চোখের ইশারায় রাস্তার ধারে পড়ে থাকা ইট,পাথরের টুকরোগুলো দেখিয়ে হা-হা-হি-হি করে মজাকি মারছিল।
লোকটা খোলা আকাশের দিকে তাকিয়ে একটু দম নিল।তারপর পাখির পালকের মতো ফুরফুরে গলায় বললো,”আমাকে আপনারা তারকাটা বা,মেন্টাল ভাবছেন কিন্তু, যদি এর ইতিহাস জানতেন ! ” বলেই, সে ছাতাটাকে দেখাল।তারপর কয়েক-সেকেন্ড সময় নিয়ে আবারও বলতে শুরু করল, “একসময় এই ছাতাদের কথা শুনেই আমি হাঁটতাম, বসতাম, উঠতাম, ঘুমাতাম… আর সেই সুযোগে ছাতাটা আমার কিশোরবেলা,আমার যৌবনবেলা,আমার ঘর-সংসার, বউ,ছেলে-মেয়ে সবকিছু খেয়ে একেবারে ফতুর করে ছেড়েছে ! ” লোকটা কথাগুলো বলতে বলতে যেন একটু ঝিমিয়ে পড়েছিল।তারপর আবারও, সে বেশ ঝলমলে স্বরেই বলে উঠল, এখন আর মাথার উপর ছাতাগিরি আমি পছন্দ করি না ! তাই ছাতাটার এই দশা ! এবার বলুন,এ-বিষয়ে আপনাদের কী মতামত!