বছর ঘুরে, আবার এলো ফিরে সেই দিন–
‘বিশ্ব পরিবেশ দিবস’ ঘটা করে পালিত হবে আবার, প্ল্যাকার্ডে-ফেস্টুনে,স্লোগানে ছয়লাপ
পথ-নাটিকা,পথসভা, সেমিনার…
আরো কত কিছুর বহর…
কিন্তু সবই যে- ‘অরণ্যে রোদন’…
‘বজ্র আটুনি ফসকা গেরো’ সব ‘একুশে আইন’,
কে দেবে ভরসাটুকু…?
আবার যে মুনাফার লোভে কোনো জলাভূমি বুজিয়ে ফেলবেনা প্রমোটার, মাফিয়াদের দৌরাত্মে অবৈধ খনন হবে না আর নদী-বক্ষে,
হবে না আর অহেতুক বৃক্ষচ্ছেদন…
চোরাশিকারীর দাপটে ত্রস্ত হবে না আর বন্যপ্রাণ…
জানি, উত্তরটা অজানাই রয়ে গেছে…।
তাইতো বন্ধু আর সময় নেইকো ভাবার,
প্ল্যাকার্ড-ফেস্টুন-স্লোগান-সেমিনারের পাশাপাশি
চাই জোরালো প্রতিবাদ, আরো হাজারটা ‘চিপকো আন্দোলন’ চাই,
শত শত সুন্দরলাল বহুগুণাকে চাই বজ্রগম্ভীর প্রতিবাদি কন্ঠশ্বরে, শত শত মেধা পাটেকরদের চাই পথে, যাদের তীব্র প্রতিবাদ ধ্বনিত কম্পিত
হয়ে উঠুক আকাশ-বাতাস…
ভুলে যেওনা বন্ধু, মানুষের বেঁচে থাকার জন্য
সুজলা-সুফলা-শস্য-শ্যামলা পৃথিবী এই একটাই।
তাই মুনাফা বাড়িয়ে, জমিয়ে টাকার পাহাড়
মানব জাতির ধ্বংশকেই করছি আমন্ত্রণ বারংবার…
কিন্তু যদি– ‘ভোগ আর বিলাস’কে খানিকটা নিয়ন্ত্রণ করে করি ‘সুস্থিতিশীল উন্নয়ন’
ধ্বংশটাকে আটকানো যাবে সহজেই।
তাইতো বলছি, বন্ধু–
যদি চাও– আরো সবুজ হবে পৃথিবী
আরো বেশি নির্মল হবে বাতাস,
আরো বেশি গহীণ হবে বন,
আরো বেশি স্বচ্ছ হবে নদীর জল,
আরো বেশি রঙিন হবে বসন্ত,
আরো বেশি মিষ্টি মধুর সুরেলা কন্ঠে
গাইবে কোকিলের দল,
তখনই স্বার্থক হবে ঘটা করে উদযাপন–
‘বিশ্ব পরিবেশ দিবস’…।