নাট্য-নাটিকায় দেবাশীষ মণ্ডল (অন্তিম পর্ব)

ভেক করোনা

ষষ্ঠ দৃশ্য

(ডাক্তারের চেম্বার।ডাক্তার বলতে থাকে)

ডাঃ। আমি ডাক্তার আমার কর্তব্য মানুষ কে রোগ থেকে বাঁচানো। আমার কর্তব্য আমাকে করতেই হবে। বাঁচাতেই হবে, অসহায় মানুষ গুলো কে বাঁচাতেই হবে।
(মাতাল খালি হাতে কাশতে, কাশতে ,হাচতে, হাচতে এসে বলে)

মাতাল।হেচ্চেও! বাঁচান ডাক্তার বাবু আমাকে বাঁচান!(কাশি,হাঁচি চলতে থাকে)

ডাঃ।কি হলো তোমার?কি হলো!

মাতাল।কে জানে কি হয়েছে।মনে হয় করোনা ফরোনা হবে।হেচ্চেও।নাক টা মনে হয় আর নাই ডাক্তার বাবু।গোলাটাও কেমন কর কর করছে।এটে নির্ঘাৎ করোনা হবে।

ডাঃ।কে বলল তোমাকে এটা করোনা ব্যাধী!

মাতাল।কেন গোলা কর কর মানে করোনায় তো হবে।মানে কর কর আর করোনা কত মিল বলো। তুমি আমাকে ঔষুধ দাও, ঔষুধ।

ডাঃ।তা না হয় দিচ্ছি। (দেখে) কিন্তু তুমি এমন ঠান্ডা কি ভাবে লাগালে?কর কর মানে করোনা হবে কে বললো। শরীররের এ কি হাল করেছ।আর তোমার মদ!

মাতাল। আমার নাম মদনা। তাই আর মদ না,না।মানে মদ আর খাবো না। ভুল করে মদ খেতাম মদ আর খায়না মদনা।মদ খেয়ে শরীরকে খেয়েছি এখন ঔষধ খেয়ে এই করোনা তাড়াবো। তুমি ঔষুধ দাও।

ডাঃ।মিলে কিছু হয়না বুঝলে! এই ঔষুধ গুলো দিলাম সময় মতো খাবে।সব ঠিক হয়ে যাবে। (ওষুধ দেয়)
মাতাল।দাও দাও তাড়াতাড়ি দাও।আজ থেকে এই মদনা মদ আর খাবেনা শুধু ঔষুধ খাবে মদ দিয়ে।(ঝট করে ঔষুধ নিয়ে চলে যায়)
ডাঃ।মদ দিয়ে ঔষুধ খেওনা। ঔষুধ গুলো জল দিয়ে খেও।

(বাউন্ডুলে এসে বলে)

বাউন্ডুলে।হা গঙ্গাজল দিয়ে খাবে।এই গঙ্গা পূজো করানো গঙ্গাজল দিয়ে।সবাই এক বোতল করে নিয়ে রাখবেন গঙ্গাজল। আমার কাছে নাই কো বুবু অন্যজল আমার কাছে আছে বুবু গঙ্গাজল।

ডাঃ। ঔষুধ খেতে গঙ্গাজল লাগেনা রে বাউন্ডুলে। সামান্য ভালো জল হলেই হয়।

বাউন্ডুলে।হা ভালো জল মানে তো গঙ্গাজল।দেখেছ গঙ্গাজলে কোনদিন পোকা হয়। ভালো করে দেখবে ত ।ঘরে যদি বহু দিনের গঙ্গাজল রাখা থাকে তবুও পোকা হয়না।

ডাঃ।তাই হয়তো হয়না। কিন্তু তুমি এখানে কি মনে করে

বাউন্ডুলে।হ আমি ভুলে গেছলাম।বলি ও ডাক্তার তুমি সত্যি করে বলতো ।আমি যে গঙ্গাজল বিক্রি করবো করে বেরিয়ে ছি, কেউ কিনে না কেন?

ডাঃ।ওরে বাউন্ডুলে কে কিনবে তোর এই গঙ্গাজল বা লবন জল। এই গুলো তো কম প্রয়োজন হয় তাই কেউ এমন কিনবে না। তাছাড়া সকলের বাড়িতে অল্প বিস্তর এ গুলো থাকেই থাকে।

(যীরাহিম এসে বলে)

যীরাহিম। তাই লবন জল বা গঙ্গাজল বিক্রি না করে অন্য কাজ করো।যেমন চাষবাস করে ফসল ফলানো বা কোন কারখানায় কাজ করো এ বাউন্ডুলে হয়ে ঘুরে বেড়িয়ে কোন লাভ নেই।

বাউন্ডুলে। আমার নাম টায় বাউন্ডুলে।তো আমি কি করবো! হ মনে পড়েছে,তবে যে আমাদের বামুন আমাকে গঙ্গাজল বিক্রি করতে বললো!

(চাষী এসে বলে)

চাষী।বলবে না কেন রে বাউন্ডুলে তাহলে তো তুই পূজো করাবি।ঐ বামুন মশাই আমাকে করোনার ভয় দেখিয়ে পূজো করানো করিয়ে ছিল।আসলে ওর একটায় উদ্দ্যেশ্য যে কোন উপায়ে রোজগার করা।সে ও কখনো করোনা কে ঠাকুর বানায়ে হোক বা গঙ্গাজল বিক্রি করতে বলে পূজো করানো হোক, রোজগার হলেই হলো।

বাউন্ডুলে।ই মা গো ।রোগা বামুন কি বদ গো।আর আমি কত বোকা ঐ পেন্দা বুড়োর কথায় বড় বড় ড্রামে গঙ্গাজল আনে রাখলাম।না এখন দেখছি সব ছাড়ে ছুঁড়ে আমাকে বলতেই হবে-আমার কাছে নাইকো বুবু কোন জল, আমার কাছে এখন বুবু কেবল চাষ সম্বল,চাষ করায় সম্বল।
(গাইতে, গাইতে চলে যায়)

চাষী।কি আর করবি চাষ কর আনন্দে,মাঠে,মাঠে বেলা কাটুক সকাল হতে সন্ধ্যে। সকলের মুখে তুলে দিতে পারবি অন্ন।কাজ কর শুধু মানুষ বাঁচানোর জন্য।

যীরাহিম।হ্যা সকলের অন্য দাতা হয়ে,তোমরা চাষীরা দেশের খাবার জোগাড় করো বলে আমরা এখনো বেঁচে আছি।

চাষী।না শুধু আমি নয় আমরা মানে এই ডাক্তার বাবুরা শরীর খারাপ হলে রোগের মানে ঔষুধ দিয়ে আমাদের বাঁচিয়ে রাখেন। তাইতো আমরা বাঁচি, মানুষ বাঁচে । আমরা বাঁচলে দেশ বাঁচবে ,প্রকৃতি বাঁচবে।তাই আমরা সমস্ত পেশার মানুষ মনুষ্যত্ব নিয়ে একত্রিত হয়ে বলবো–

ডাঃ।কি বলবে ভূষন ভাই?

চাষী।এই যীরাহিম ভাই এর কন্ঠে কন্ঠ মিলিয়ে চিৎকার করে বলবো—

যীরাহিম। মনুষ্যত্ব হলো অমুল্য ভারী
যার ওজন বাটখারা তে ধরেনা।
মানুষকে বাঁচাতে গুরুত্ব দিও
যখন তখন কেউ যেন “ভেক করোনা”।

(সাময়িক আলো নিভবে)

(যীরাহিমের কথা শেষের পরে দেশ মাতৃকা মঞ্চে উঠবে ।সকলে মঞ্চে উঠে দেশ মাতৃকার পূজা করবে। বামুন পৈতা বের করে থাকবে।মাতাল বেলচা নিয়ে, বাউন্ডুলে কোদাল নিয়ে, চাষী,ডাক্তার,যীরাহিম হাত জোড় করে থাকবে। সুন্দর করে সাজিয়ে নিতে হবে।তার পর ব্যাকে গান বাজবে”বন্দেমাতরম “গানটি।

(গান শেষে দৃশ্য ফ্রিজ হয়।আলো নিভে)
( যবনিকা )
………
এই নাটকটি (ভেক করোনা) আমার নিজস্ব ভাবনা মাএ ।বাস্তবে কোন মিল থেকে থাকলে তা অনিচ্ছাকৃত বা কাকতালীয়। শুধু মাএ আনন্দ দানের জন্য এই ছোট্ট রচনা। আমার ভগবান (পাঠক/দর্শক) যদি বিন্দুমাত্র আনন্দ পায় তবেই আমার শ্রম স্বার্থক হবে।

ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।