T3 || আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস || বিশেষ সংখ্যায় দেবাশীষ মণ্ডল

ভাতের ফেন
আমার মাতৃভাষা বাংলা হল অন্য জিনিস।আমরা সোজা কথা সোজা ভাবেই বলি, তাতেই অন্য ভাষাভাষীদের লোক ভিমরী খেয়ে যায় বুঝলেন।তাহলে গল্পটা বলেই ফেলি শুনুন মন দিয়ে। হাসি লাগলে হাসুন, যেন দাঁত না বের হয়। আর সত্য হলে আপনিও বলুন আমি গর্বিত আমি “বাঙালি” —————-
একবার এক বাঙালি ভদ্র দম্পতি গেছেন বাইরে বেড়াতে।তা হয়েছে কি পেটে তো কিছু দিতে হবে, পেট তো আর মানবেনা যে, বেড়াতে এসেছে শুধু বেড়িয়ে যাক, আমাকে কিছু না দিলেও চলবে!
যাই হোক, কিছু খাবার খাবে বলে ভদ্রলোক তার স্ত্রীর ইচ্ছানুযায়ী এক বড় হোটেল ডুকে পড়লেন।ডুকতেই বেয়ারা খাবার তালিকা (মেনু কার্ড)হাতে ধরিয়ে দিয়ে বললেন কি খাবেন এটাতে খাবারের নাম,দাম সব লেখা আছে দেখে নিয়ে আমাকে বলুন।তো ভদ্রলোক ইংরেজি তে লেখা তালিকা পড়ে শেষের সব থেকে কমদামী খাবার পছন্দ করলেন এবং বেয়ারাকে দেখিয়ে বললেন এটা দু’জাগায় আনুন।তারপর হাতমুখ ধুয়ে মনের আনন্দে দু’জনে বসে পড়লেন ঝা চকচকে খাবার জায়গা দেখে।
কিছু পরে বেয়ারা এসে খাবার দিতেই বাঙালি ভদ্রলোক খাবার দেখে, তার স্ত্রীর দিকে একবার তাকিয়ে নিয়ে একদম খাঁটি বাংলা কথায় বলে উঠলেন —- লে বাবা এটা কি দিলো রে ! আমি কোথায় খুঁজলাম রাইসস্যুপ আর উনি মাড়(ভাতের ফেন)নিয়ে এসে নামিয়ে দিলেন।বলি যদি মাড় দেবার থাকে মাড় লেখলেই হয়! এমন কায়দা মেরে রাইসস্যুপ লেখার দরকার কি ! বলতে বলতে কিছু না খেয়ে ঐ দম্পতি রেগে হনহন করে বেরিয়ে গেলেন হোটেল থেকে। সবাই (বাঙালি অ-বাঙালি) থ মেরে দাঁড়িয়ে দেখতে লাগল আর বাঙালিরা মনে মনে ভাবতে লাগল সোজা কথা সোজাসুজি একমাত্র বাঙালিই বলতে পারে।এই ভেবে হোটেলে উপস্থিত সমস্ত বাঙালি ঐ ভদ্র বাঙালি দম্পতি কে মনে মনে ধন্যবাদ জানালেন আর বাঙালিরা গর্ব করে মাথা উঁচু করে গর্বের সহিত বললেন- ‘হ্যা রাইসস্যুপ মানে মাড় ই হয় বাবু ,আর মাড় মানেই হল’ “ভাতের ফেন”।