গল্পকথায় দেবাশিস মণ্ডল

খুঁজেফেরা

সুশোভন পার্কের এক কোণায় এক বেঞ্চে বসেই ব্যাগ থেকে কোল্ডড্রিংসের বোতলটা বের করল।ছিপি খুলে ঢকঢক করে প্রায় অর্ধেক শেষ করে নামিয়ে রাখলো পাশেই, বেঞ্চের উপর। ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখলো সবে বিকেল চারটে।শর্মিলার তো সাড়ে চারটায় আসার কথা। হাতে আধ ঘণ্টা সময়।
কী করা যায় ?
আচ্ছা, ল্যাপটপ আছে তো ব্যাগের মধ্যে। চিন্তা কিসের !
একটু ফেসবুক করে নেওয়া যাক-সুশোভন মনে মনে ভাবলো আর যেমন ভাবনা তেমন কাজ। অল্পক্ষণের মধ্যেই ফেসবুকে ডুব।
বছর ছয়েকের একটি মেয়ে, পরনে শত ছিন্ন পোশাক, বাঁ হাত দিয়ে দৃঢ় ভাবে ধরে রেখেছে পিঠে ঝোলানো নোংরা থলিটি।পার্কের এখানে ওখানে ঘুরে ঘুরে ফাঁকা প্লাস্টিকের বোতল সংগ্রহ করছিল মেয়েটি।
ঘুরতে ঘুরতে মেয়েটি কখন যে তার কাছে এসে দাঁড়িয়েছে, সে দিকে খেয়ালই নেই সুশোভন এর।
দাদা বাবু,ও দাদা বাবু–মেয়েটি সুশোভনকে উদ্দেশ্য করে ডাক দেয়।
ল্যাপ টপ থেকে চোখ না সরিয়েই সুশোভন উত্তর দেয়- হুম ! কী বলছিস্ ?
–দাদাবাবু,ওই বোতলটা দেনা আমাকে।
সুশোভন ঘাড় ঘুরিয়ে তাকায়। কোল্ড ড্রিংসের বোতলটা হাতে নিয়ে এগিয়ে দেয় মেয়েটির দিকে।
–না দাদাবাবু, তুই বোতলটা খালি করেদে।
সুশোভন বা কি কোল্ডড্রিংস গলায় ঢেলে নিয়ে খালি বোতলটি এগিয়ে দিল মেয়েটির দিকে।
মেয়েটি ভীষণ খুশি হয়ে বোতলটা পিঠের থলিতে ভরে চলে গেল।সুশোভন মেয়েটির দিকে তাকিয়ে মুচকি হেসে আবারও ফেসবুকের মধ্যে ঢুকে পড়লো। হঠাৎই মেয়েটি আবার ফিরে এলো।
ল্যাপটপটির দিকে অবাক বিস্ময়ে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করল, -দাদাবাবু, তুই এইটায় কী করছিস্  ?
-ও তুই বুঝবি না। যাতো তুই এখান থেকে-সুশোভন বিরক্ত হয়ে বললো।
-বল না দাদাবাবু,বল না  ! -নাছোড় মেয়েটি।
আমি ফেসবুকের মধ্যে আমার বন্ধুদের খুঁজছি এখানে। সেই ছেলেবেলার সব বন্ধুদের।তারা তো সব হারিয়ে গেছে আমার কাছ থেকে।
-ফেসবুকে সব্বাইকে খুঁজে পাওয়া যায় ?-বিস্মিত হয়ে প্রশ্ন মেয়েটির।
ঠোঁটের কোণায় হাসি আর চোখের কোণা চিকচিক করে উঠে মেয়েটির।
-দাদাবাবু,একটা কথা বলব  ? তুই রাগ করবি না তো ?
-বল কী বলবি-সুশোভন মেয়েটির দিকে তাকিয়ে জানতে চায়।
মেয়েটি সুশোভনের পায়ের সামনে বসে পড়ে দু’হাত দিয়ে সুশোভন এর পা দুটি জড়িয়ে ধরে বলে–দাদাবাবু, তোর ফেসবুকে আমার মাকে খুঁজে দিবি।
Spread the love

You may also like...

error: Content is protected !!