গল্পেরা জোনাকি তে দেবাশীষ মণ্ডল

শরতের কাশফুল
এই শরৎ তুই কি কিছু এনেছিস?আজ তো শিক্ষক দিবস।
মাথা নিচু করে থাকে শরৎ।
কি রে কিছু বলছিস না কেন! দেখছিস না যে যার মতো উপহার দিচ্ছে। তুই কি কিছুই নিয়ে আসিস নি শরৎ আনলে দে আমায় । শিক্ষিকা শিউলি দেবী শরৎ কে বললেন।
শরৎ ছেলেটা বরাবরই একটু লাজুক প্রকৃতির। শিক্ষিকার কথায় মুখ তুলে এক পলক দেখে নিয়ে আবার নত মস্তকে আস্তে আস্তে বের করে তার পলিথিনের ব্যাগ থেকে একগুচ্ছ কাশফুল।
তাই দেখে আর সব সহপাঠী রা সবাই হাসতে থাকে। কিন্তু শরৎ চুপ করে মাথা নিচু করেই থাকে।
শিক্ষিকা শিউলি দেবী সকল কে ধমক দিয়ে চুপ করতে বললেন এবং শরৎ কে বললেন- ‘ আয় এ দিকে আয় হাতের ঐ ফুল গুলি নিয়ে এ দিকে আয়।
শরৎ এর পা ভয়ে কাপতে থাকে। কাশফুল নিয়ে রাখা হাতটা যেন ভারী হয়ে উঠে তবু কাশফুল স্তবক টি হাতে চিপে ধরে নিয়ে গুটি গুটি পায়ে প্রিয় শিক্ষিকার সামনে গিয়ে দাঁড়িয়ে পড়ল।
দে দে দে আমায় দে ফুল গুলো আমায় ।শিক্ষিকা শিউলি দেবী শরতের কাছ থেকে নিয়ে নেন কাশফুল গুলি। হাতে নিয়েই অশ্রুসিক্ত নয়নে আনন্দে আবেগময়ী হয়ে শরৎ কে কাছে টেনে নিয়ে আদর করতে করতে বলেন–“আজ এই শিক্ষক দিবসের শুভলগ্নে তোর দেওয়া এই কাশফুল আমার কাছে সেরা উপহার শরৎ ।এ যে শুধু কাশফুল নয় রে এ যে শরৎ ঋতুর কাশফুল।যে ফুল জানিয়ে দেয় আগমনীর আগমনবার্তা,আনন্দের বার্তা ।আর তুই আমার সেই শরৎ নিয়ে এসেছিস সেই আনন্দময়ীর আনন্দবার্তা বহন করে। অনেক বড় হ শরৎ তোরা সবাই অনেক বড় হ মানুষের মত মানুষ হ।
এদিকে শরৎ এর সহপাঠী রা শিক্ষিকার কথা শুনে আনন্দে আত্মহারা হয়ে শরৎ কে কাছে টেনে বলতে থাকে সত্যি তো এ কাশফুল শরতের কাশফুল।