গল্পবাজে দেবাশীষ মণ্ডল

ভূত নাকি অদ্ভূত

খুব ছোট বেলায় তখন আমার বয়স সবে মাএ ছয় কি সাত হবে।মামা বাড়ির দিদা মারা যান বার্দ্ধ্ক্যের কারণে।সেবার গেছি মামার বাড়ি।সে দিন ছিল আমার দিদার শ্রাদ্ধের দিন।তাই মা,মামা,মামি ও মাসি মুনিরা খুব ভোরেই উঠেছিলেন কিছু জলখাবার খেয়ে নেবে বলে। সূর্য উঠে গেলে নাকি আর খাওয়া চলেনা!আমিও উঠেছিলাম,কিন্তু না জলখাবার খেতে নয়,প্রাতক্রিয়া পেয়েছিল। মা কে বললাম,তাই শুনে বাবা বললেন ‘চল-তবে।

তখন মামার বাড়িতে কোন বাথরুম ছিলনা।বাধ্য হয়েই বাবা আমাকে মামার বাড়ির গ্রামের একটা পুকুরে নিয়ে গেলেন।যদিও আমি এক প্রত্যন্ত গ্রামেরই ধূলো কাদা মাখা এক ছোট্ট শিশু। তাই পুকুর পাড়ের গ্রীষ্মের ভোরের ফুরফুরে হাওয়া আমার বেশ ভাল লাগত।

যাই হোক সব সেরে শরীর টা খুব আরামদায়ক হল। আজ ভোজনটা খুব ভালো হবে ভেবে ভেবে মামার বাড়ির দিকে আসছি এমন সময় চোখে পড়ল বিভৎস কিছু , যা আমার কল্পনাতিত,কি ও-টা!চমকে উঠলাম,থমকে দাঁড়িয়ে পড়লাম,ভয়ে সারা শরীর যেন হিম হয়ে মুহুর্তে অবশ হয়ে গেল। চোখ বন্ধ করে ফেললাম আর একবার আড়চোখে দেখলাম আপাদমস্তক সাদা কাপড় ঢাকা এক জিবন্ত মানবী যেন এক হাঁটু ডোবার জলে দাঁডিয়ে পা দিয়ে জলে চুবুঙ চুবুঙ করছে আর দু’ধারে দু’হাত বাড়িয়ে যেন আমাকেই ডাকছে।আমি ভয়ে আবার শিউরে উঠলাম,সারা শরীরে বিদ্যুৎ খেলে গেল যেন। দু’চোখ বন্ধ করে বাবাকে আঙ্গুল বাড়িয়ে বললাম”বাবা কি গো ওটা ?” বাবা একবার দেখে নিয়ে আমাকে বেশ ভাল করে জড়িয়ে ধরে বলেছিলেন “ও কিছু নয়, কেউ জল শৌচ করতে নেমেছে বোধহয়।”

না আমি সেদিনের বাবা কে বিশ্বাস করিনি।আমি বুঝেছিলাম ওটা অন্য কিছু! সেদিন আমার গলা শুকিয়ে কাঠ হয়ে গিয়েছিল,মামা বাড়ি এসেই জল খেয়েছিলাম প্রায় এক ঘটি।

আজ ছত্রিশের এক যুবক স্বীকার করছি সে দিনের ঐ ছয় বছরের নিতান্তই এক শিশু,আজকের আমি সেই ভোরের ঘটনা আজও বুঝতে পারিনি!বাবাকে আজও জিঞ্জাসা করলে বলেন ওনার মনে নেয়,কিন্তু আমি আজও ভুলিনি।আজও মনে প্রশ্ন জাগে তবে কি ছিল ও-টা “ভূত নাকি অদ্ভূত কিছু!

ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।