কৌতুক নাট্য-নাটিকায় দেবাশীষ মণ্ডল (পর্ব – ১)

হাস্যরস নাটক–“ফোন রোগ”

চরিএ–১)ডাক্তার -হাতে মোবাইল , পরনেফুল প্যান্ট ও জামা।বয়স-৪৫-৫০ বছর।
২) রুগী–পাতলা ছিপছিপে চেহারা। পরনে লুঙ্গি ও সেন্ডো গেঞ্জি গ।বয়স ৩০-৩৫ বছর।

দৃশ্য-১ম
স্হান-ডাক্তারের চেম্বার

(ডাক্তার বাবু চেয়ারে বসে মোবাইল নিয়ে ঘাটতে থাকবে এমন সময় হন্তদন্ত হয়ে রোগী এসে বলে)

রুগী।(চিৎকার করে)ডাক্তার বাবু, ডাক্তার বাবু -ও ডাক্তার বাবু—-
ডাঃ।(চমকে গিয়ে)কে ,কে ,কে(চেয়ার থেকে উঠে পড়ে)কে ডাকছে এমন করে।

রুগী।আমি। আমি এক রুগী ।

ডাঃ।তা এমন চিৎকার করে ডাকছেন কেন, কি হয়েছে ,কি জন্য এসেছেন।
রুগী।মিষ্টি খেতে এসেছি।
ডাঃ।তা মিষ্টির দোকানে মানে।এটা ডাক্তার খানা।(ফোন ঘাটতে থাকবে)

রুগী।ও তাই বুঝি।তা আমাকে কি মনে হচ্ছে?
ডাঃ।একি!(লাফিয়ে উঠে)
রুগী।(ভয় পেয়ে দুরে যায়)ডাক্তার বাবু -আমি রোগী।
ডাঃ।অ রোগী ,রুগীই তো পাতলা রুগী।
রুগী। রুগী র আবার ভাগ আছে না কি ডাক্তার বাবু।
ডাঃনেই মানে আলবৎ আছে।হরেক রকম রোগ যেমন আছে।তেমন হরেক রকম রুগীও আছে।
রুগী।তা কেমন কেমন রুগী আছে ?
ডাঃ।রুগী কত রকম আছে তা জানতে গেলে প্রথমে জানতে হবে রোগ কি ,রোগ কাকে বলে,রোগ কেন হয়।
রুগী। আমি জানি ডাক্তার রোগ কেন হয়।
ডাঃ।তা বলুন না রোগ কেন হয়। আপনি যখন জানেন।
রুগী।বলছি তাহলে ।(দর্শকের উদ্দেশ্যে) আপনারা
শুনে নেন।
ডাঃ।তা বললে তো শুনবো ,বলেই ফেলুন।
রুগী।তাহলে বলি। আমাদের রোগ হয় কারন ডাক্তার বাবুদের রোজগারের জ্যনে।কি ঠিক বললাম তো?
ডাঃ।(আনমনে)হ্যা,হ্যা ঠিকই বলেছেন।(চমকে উঠে)কি-!কি বললেন!(রেগে যায়)
রুগী।না মানে অতিরিক্ত বলেলে আমার কথা শুনবেন কেন। আমি হলাম রোগী মানুষ। রোগোর
তাড়নায় ভুল বলে ফেলতেই পারি। আপনি ডাক্তার মানুষ।
ডাঃ।তা পারেন।তা আপনার অসুবিধে কি হচ্ছে।
মানে সমস্যা টা কি?

রুগী।সমস্যায় তো সমস্যা করছে ডাক্তার বাবু।

ডাঃ।তা কি সমস্যা বলবেন তো না কি।

রুগী। বলছি বলছি। বলার জন্য তো এসেছি না বলে যাব না।অবশ্যই বলব।

ডাঃ বলুন বলুন।কি হয়েছে বলুন।

রুগী। রোগ হয়েছে রোগ। তাইতো আপনার কাছে এসেছি।

ডাঃ।তা তো বুঝতেই পারছি।এখানে তো আর ফুচকা বা ঝাল মুড়ি খেতে আসেন নি।তা কি রোগ হয়েছে শুনি।

রুগী।রোগ তো আমার হয়েছে। আপনি ডাক্তার কি রোগ হয়েছে আপনি ধরবেন মশাই।আমি বলব কেন কি হয়েছে আমার।

ডাঃ।তা আপনার কি অসুবিধা হচ্ছে না বললে আমি কি করে রোগ ধরব বলুন ।
রুগী। অ আমাকেই বলে দিতে হবে আমার কি রোগ হয়েছে তার পর আপনি বাহাদুরি দেখাবেন।

ডাঃ।তা যা বলছেন বলুন।

রুগী।কি আর বলব ।আমাকে খুব দূর্বল লাগছে ডাক্তার। শরীরের সব শক্তি যেন বের হয়ে যাচ্ছে।খুব দূর্বল শরীর।
ডাঃ।সেকি!কি কান্ড ঘটিয়েছেন ।দূর্বলতা তো মোটে ভালো নয়।তা খাওয়া দাওয়া ঠিক মতো হচ্ছে তো। (পেটে হাত দেয়)

রুগী।(হেসে হেসে) সুড়সুড়ি লাগছে তো।
খাবার দাওয়া তো করতেই হবৈ।মানে খাওয়া দাওয়া তো!একেবারে দেখে শুনে ,গুনে গুনে খাবার খাচ্ছি।আগের চেয়ে বোধহয় বেশীই খাচ্ছি।

ডাঃ। আচ্ছা কি করে বুঝলেন আগের থেকে বেশী খাচ্ছেন!

রুগী।বুঝবো না কেন নিজের মুখ দিয়ে নিজেই তো খাবার খায়। আমি বুঝবো না তো কে বুঝবে বলুন?

ডাঃ।বলছি ঘুম ঠিক টাক হয় তো।কোন দূশ্চিন্তা করছেন না তো?

রুগী। না না একেবারে দুশ্চিন্তা নেই।হ্যা,ঘুমের কথা আর বলবেন না।ঘুম কাকে বলে বুঝতে পারছি। টেনে ঘুম দিচ্ছি।এক ঘুমে সকাল হয়ে যাচ্ছে।আগেই বরং কম ঘুম হতো।এখন তো ঘুম না হবার কোনো কারণ নেই।

ডাঃ।তা আগে ঘুম না হবার কারণ কি ছিল ।যদি পার্সোনাল কারন না হয় নিরদ্ধিয়ায় বলতে পারেন।

রুগী।না ডাক্তার বাবু পার্সোনাল কারন কিছু নেই। আমার তো এখনো বিয়ে হয়নি যে দ্বিধা থাকবে। এখন তো আমার সব কিছু কমার্সিয়েল ।বলতে বাধা নেই।

ডাঃ।তাহলে বলুন না আগে ঘুম না হলেও দূর্বল হননি।এখন ঘুম হচ্ছে তাও দূর্বল হয়ে যাচ্ছেন।বেশ জটিল রোগ বলে মনে হচ্ছে।

রুগী।খুব জটিল রোগ।আচ্ছা ডাক্তার মরে যাব নাই তো।
ডাঃ।না না মরবেন কেন।মরণ টাও কি এত সোজা।

রুগী।মরন টা তবে বাঁকা মতো না কি।আসলে কোনদিন মরি নাই তো তাই ও সব নিয়ে জানা নাই।

ডাঃ।সব কিছু আপনার জানার দরকার আছে কি?

রুগী।আছে বৈ কি। আপনি কি করছেন না করছেন আমাকে জানতে হবে বৈকি।যেহেতু আমি রোগী।
এই যে আপনার হাতের এই টা আপনি দেখতে দেখতে টিপতে টিপতে আমাকে কোথায় কোথায় না টিপে ফেলেছেন কোন হুঁশ রাখেন নি। আমার ও তাই ঐ মেশিন টিপতে টিপতে কখন যে সকাল হয়ে যেত বুঝতে ই পারতাম না বুঝলেন ডাক্তার বাবু বুঝলেন ?

ডাঃ।তা মশাই এখন দূর্বল হয়ে যাচ্ছেন কেন কিছু বুঝতে পেরেছেন?

রুগী। বুঝতে পারছিনা বলেই তো আপনার কাছে এসেছি।আপনি যদি কিছু বুঝতে পারেন তাই আপনার এসেছি। আপনি হলেন ডাক্তার মানুষ।

ডাঃ। কিন্তু রোগ টি কি তা বলবেন তো না কি।
রুগী।হ্যা না মানে কি হচ্ছে না হচ্ছে বলতে হবে আপনাকে ।

ডাঃ।হুম।বলছি আপনার ফোন নম্বর টি দিন তো।

রুগী।ফোন নম্বর নিয়ে কি করবেন। রুগী আর ফোনের কিছু সম্পর্ক আছে না কি ?

ডাঃ।আছে আছে আমি যে ঔষধ গুলো প্রেসক্রাইব করব তা আপনার হোয়াটস অ্যাপ নম্বরে পাঠয়ে দেব।দয়া করে কিনে নেবেন। এই ভাবেই এখন রোগী দেখা চলছে আপনি জানেন না।

রুগী।না জানি না।তবে জানছি।জানার জন্য ই তো আপনার কাছে আসা।
ডাঃ। এসেছেন যখন ফোন নম্বর টি দিন।

রুগী।ফোন নম্বর দিতেই হবে।বলেন কি এখানেও ফোন চাই। দেখেছেন ফোন কেমন জরুরী হয়ে গেছে দেখেছেন।তা আমার নাম বয়স আমার বাড়ী কোথায় জানবেন না।
ডাঃ।না না তা জানার দরকার নেই ফোন নম্বর দিলেই সব জেনে যাব।তাই বলছি আপনার ফোন নম্বর টা দিন।

রুগী।তার আর দরকার হবে না। আমি আমার কি রোগ হয়েছে,কেন হয়েছে সব বুঝে গেছি।

ডাঃ।কি রোগ হয়েছে আপনি বুঝে গেছেন।আমি ডাক্তার হয়ে এখনো বুঝতে পারলাম না আপনার সঠিক কি রোগ হয়েছে আর আপনি বুঝে নিলেন।অবাক মানুষ তো আপনি।

রুগী। বুঝবো না কেন নিজের রোগ নিজে ই বুঝতে হবে তবে না আপনারা ঔষধ দেবেন। শুনুন ডাক্তার আমাকে কোনো ঔষধ দিতে হবে না।আমি চললাম।
ডাঃ। কোথায়?

রুগী।কেন ঔষধ আনতে।

ডাঃ।তা বিনা পেসক্রাইবে কি ভাবে ঔষধ নেবেন।কে দেবে আপনাকে ঔষধ কোথায় পাবেন।

রুগী।কেন মোবাইল দোকানে।

চলবে….

ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।