নাট্য-নাটিকায় দেবাশীষ মণ্ডল – ৬

কৈলাসে পদ বদল
দূর্গার গৃহের বারান্দা
(দূর্গা বলতে বলতে আসে)
দূর্গা। জানি মানে জানতে হয়। নিশ্চয় কোন মানুষ এই কৈলাসে ঢুকে পড়েছে একেবারে জলজীয়ন্ত জীবন্ত মানুষ।না হলে এমন চেনা মানুষ মানুষ গন্ধটা কেন এই কৈলাসে পাবো। নিশ্চয় কোন হতভাগা ভুল করে এসে পড়েছে এ কৈলাসে।
(সহসা গনেশের প্রবেশ)
গনেশ।মা মা গো মা আমি এলাম তোমার কোলে। তোমার আঁচল ঢাকা নিয়ে বাঁচবো এবার বলে।মা গো মা।
(লুকোতে যায়)
দূর্গা।দূর রোগা কি হয়েছে বল।তা না লুকোলে হবে।বল কি হয়েছে বল?
গনেশ।একটা মানুষ,একটা জ্যান্ত মানুষ কে নিয়ে নারদ দাদা এ দিকে আসছে গো মা।
দূর্গা।তা তে কি হয়েছে।রোগা ভুল করে চলে এসেছে। নিশ্চয় কোন দাবি দাওয়া পূরন হয়নি বলে এ ভাবে একে বারে কৈলাসে এসে পড়েছে।
(নারদ ও সঙ্গে নারায়ণ আসে)
নারদ। মোবাইল মোবাইল।না মানে মা ও মা দুর্গা মা ।চারটি ভাত আছে মা!বাসি পান্ত যা হয় একটু দিন মা এ আধমরা ছেলেটা খেয়ে বাঁচুক।সেই কবে থেকে আন্দোলনে নেমেছে কে জানে।
গনেশ।কি-কিসের আন্দোলন! খাবারের নিশ্চয়।দেখুন-
নারায়ণ।না না খাবার নয়। চাকরির আন্দোলন। আমার চাকরি চাই চাকরি। কিন্তু আপনি কে মহাশয়
আপনাকে ঠিক চিনতে পারলাম না।
নারদ। চিনলেন না তো। মোবাইল মোবাইল। চিনবেন কেমন করে।হেঃ হেঃ হেঃ।ইনি হলেন আমার গনু দাদা মানে গনেশ।
নারায়ণ। গনেশ।বাবারে—(অঞ্জান হয়ে যাবে)
নারদ।(ধরে নিয়ে) বিচলিত হবেন না নারায়ণ বাবু।ইনি হলেন আধুনিক গনেশ। বর্তমানে খাদ্য দপ্তর সামলাচ্ছেন।
দূর্গা।ও সব বাদ দাও। খাবার কি খাবেন বলুন নারায়ণ বাবু।আপনি যা বলবেন আমি খাওয়াবো। যতই হোক আপনি হলেন অতিথি।আমি মর্তে গেলে তখন আপনারা কত আপ্যায়ন করেন তা ভুললে কি চলে।
নারায়ণ।না খেতে দিলেও চলবে।তবে চাকরি আমার চাই ই চাই।যে টা না পেলে আমার পরিবার না খেয়ে মারা যাবে।
গনেশ।কেন,কেন,না খেয়ে মরবে কোন দুঃখে।আমি গনেশ খাদ্যমন্ত্রী কতশত খাদ্যদ্রব্য সাপ্লাই করছি মর্তে একে বারে ফ্রি।কেন আপনারা দুয়ারে রেশন পাননা নাকি।
নারায়ণ।না না তা বদনাম করবো না মশাই।পাই যথেষ্ট পাই।তবে কি শুধু রেশনে এত বড় পরিবার চলবে।আপনি বিবেচনা করে বলুন।বাকি জিনিসপত্রের দাম যে আগুন মশাই।
দূর্গা। দূর্গা দূর্গা! যা মনে হয় আমার তরকারি টা পুড়ে গেল। তোমার কথা শুনতে শুনতে ভূলেই গেছি।না যাই।যদি খিদে থাকে তবে যেখানে যান চারটি খেয়ে যাবেন।মা এর কথা অমান্য করবেননা যেন।আমি আমার হেঁসেলে যাচ্ছি।খিদে পেলে খেয়ে যাবেন।দূর আমার মত জ্বালা।এত বড় পরিবার সামলানো যে কত ঝক্যি কে আর বুঝবে!
(বিড়বিড় করতে করতে চলে যায়)
নারায়ণ। হেঁসেলে আগুন লেগেছে মর্তের প্রতিটি পরিবারের।এই কৈলাসে তাও তো তরকারি রান্না হচ্ছে ও খানে তো সবজি ছোঁয়া দায়।
গনেশ।এই দায় কার! আপনাদের মানুষের। এই দায় তো আমারা নিতে পারিনে। আপনাদের হাতে অনেক কিছুই আছে। নিজেরদের কে সেই মতো ব্যবহার করতে শিখুন।
নারদ। মোবাইল মোবাইল।তা যা বলেছে গনু দাদা।যাই হোক চলো এবার যেতে হবে কৈলাস দরবারে। যেখানে বিচার হবে বিচার।এই মানুষের চাকরির বিচার।তার আগে চলুন মায়ের হাতের রান্না খাবার খেয়ে আসি। আপনারা ও চলুন।এ যে অন্নপূর্ণার হাতের অন্ন। খেয়ে নিয়ে উদর ভরাবেন উদর।(পেট বড় সাইজ করে দেখাতে হবে)
গনেশ।চলো নারদ দাদা চলো। আমার ও বড্ড খিদে পেয়েছে গো বড্ড খিদে।
নারায়ণ। আমার ও খুব খিদে পেয়েছে খুব। চলুন তবে খাবার খেয়েই যাবো আমার ইন্টারভিউ দিতে।চলুন।কৈলাসে যখন এসেছি লাস হবার আগে কিছু খেয়ে যাই।কিছু খাবার।
নারদ।হেঃ হেঃ হেঃ খাবার——। চাপুন চাপুন টোটোতে চাপুন।
(সকলে টোটোতে বসার ভঙ্গিতে ফ্রিজ,নারদ টোটো চালানোর ভঙ্গিমায় ফ্রিজ হয়।আলো নিভে)
ক্রমশ..,….