।। ত্রিতাপহারিণী ২০২০।। T3 শারদ সংখ্যায় দেবদাস কুন্ডু

‘আমার একটা পিস্তল চাই’।
‘এভাবে তো ম্যাডাম পিস্তল বেঁচা হয় না।’
‘. ‘ কি ভাবে হয়? ‘
‘ দেখতে হয় স্টাটাস, ইনপোর্টেন্সি, সিকিউরিটি আরো কিছু এলিমেন্ট।’.
‘কে যাচাই করবে এসব’?
‘পুলিশ’। ‘
‘ আমি নিজের নিরাপত্তার জন্য কিনতে পারি না?’
‘বললাম তো আপনার ডেজিকনেশন, ইনপোটেন্সি দেখতে হবে।’
‘আমার ইনপোটেন্সি আমি ভালো বুঝবো। অন্য লোকের কাছে তা না হতে পারে।’
‘সেটা অবশ্য আপনি ঠিক বলেছেন। আপনি কি পিস্তল চালাতে পারেন?’
‘জানি না। শিখতে কত আর সময় লাগবে? ”. ‘তা ঠিক কথা। তবে টার্ম কনডিশন ছাড়া বেচতে পারবো না।’
কিন্তু আমার যে পিস্তলটা বড় দরকার। ‘
‘ আচ্ছা ম্যাডাম আপনি কি করেন? ”
‘ আমি জনতা মোবাইলের ইষ্ট জোনের ভাটা অপেরেটার। ‘
‘ তা হঠাৎ কেন আপনার পিস্তল দরকার পড়লো? :
‘সেটা আমার পার্সোনাল ম্যাটার। ‘
‘ তা অবশ্য ঠিক। তবে পারপাসটা জানা থাকলে আমরা আপনাকে সাহায্য করতে পারি’।.
‘পারপাস আপনাকে বলা যাবে না। সিক্রেট’।
‘তাহলে আপনি আসতে পারেন’।
দোকান থেকে বেরিয়ে আসে মুন মুন। সে এতটা সময় একটা অস্বস্তি ফিল করছিল। মধ্য বয়স্ক লোকটি বার বার তীয্ক দৃষ্টিতে তার বুকের দিকে তাকাচ্ছিল।
জ্যামে গাড়ি ঘোড়া আটকে সার সার। একটা বাইকে বসে আছেন একজন পুলিশ অফিসার। তার ডান পকেট থেকে উঁকি দিচ্ছে একটা পিস্তলের মুখ। মূহূর্ত মাএ। দৌঁড় গিয়ে তুলে নিয়ে দে ছুট। ধরতে পারবে না। কাজ হয়ে গেলে ফেলে দেবে গঙ্গায়। ব্যাস ফিনিশড। কি করে তার টেরস পাবে? । পুলিশ অফিসারটি হবে নাকাল। ভিপার্টমেন্ট ওকে শোকজ করবে। উপযুক্ত জবাব দিতে না পারলে সাসপেন্ড। এটা হওয়া উচিত। ঐরকম ভাবে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে ঘুরবেন কেন?
হঠাৎ অচল গাডিগুলি সচল হয়ে ছুটতে লাগলো। যেন প্রাগঐতিহাকিস জন্তু গুলি দৌঁড়াচ্ছে।দোকানের লোকটা বলেছিল, আপনি খোলা বাজারে পেয়ে যাবেন পিস্তল। কিন্তু খোলা বাজার কোথায়? লোকটি তার হদিশ দেয়নি। কিন্তু পিস্তল তার চাই। এনি ওয়ে। একটা রাগ ক্ষোভ বারুদের মতো জ্বলছে তার বুকের ভিতর। সেই বারুদের আগুনে সে পুড়েছে দিন পনের ধরে। আচ্ছা এ ব্যাপারে অলককে বললে ও কি সাহায্য করবে?
কথাটা শুনে অনেকটা সময় থম দিয়ে বসে থাকলো অলক। তারপর বলল, ‘হঠাৎ পিস্তল! তোমার কি মাথা খারাপ হয়ে গেল?’
‘হয় নি। পিস্তলটা না পেলে হতে পারে।’
‘পিস্তল দিয়ে তুমি কি করবে বলো?’.
‘আমার একটা কাজ আছে।’
‘কি কাজ শুনি?’
‘তোমাকে বলা যাবে না।তুমি আমাকে পিস্তল যোগার করে দিতে পারবে কি, পারবে না, সেটা বলো? ‘
‘ আমি তো আসল পিস্তল দেখি নি। কোথায় পাওয়া যায় তা জানি না।’
‘ বুঝেছি। তুমি পারবে না।’
‘আমাকে অন্ধকারে রেখে তুমি পিস্তল খুঁজছো, এই রহস্যটা তো আমাকে জানতে হবে। ‘
‘ কিছু জানতে হবে না তোমায়। ‘
‘ তা বললে কি হবে? আমি তোমার স্বামী।’
‘ বেশি কথা বাড়িয়ে না। আমার মাথায় আগুন জ্বলছে। ‘
‘ কিসের আগুন? ‘
‘ ও তুমি বুঝবে না। ‘
‘ কেন বুঝবো না? আমি বাচ্চা ছেলে নই। ‘
‘ চুপ করো। আর কোন কথা বলো না। ‘
পুকুর পারের ভাঙা বাড়িতে রবি মস্তানের ডেরা। তাকে দেখে তারা অবাক হয়ে যায়। বলে’ ‘বৌদি আপনি! এখানে! কি ব্যপার?’
‘ একটা দরকারে এলাম।’
‘ দাদার শরীর ভালো আছে তো? পিকলু ভালো আছে তো? ‘
‘ ওরা সবাই ভালো আছে। আমি ভালো নেই’
‘ কেন কি হয়েছে আপনার?’ । ‘
‘ আমার একটা পিস্তল চাই। ‘
‘ পিস্তল! পিস্তল দিয়ে কি হবে? আশ্চর্য তো’।
‘ আশ্চর্য হবার কি আছে এতে? ‘
‘এই প্রথম কোন মেয়ে এসে আমার কাছে পিস্তল চাইছে। আমি তো ভাবতেই পারছি না!
কেন একজন গৃহবধূর হঠাৎ পিস্তল দরকার হলো।’
‘আমি ভীষন বিপদে পড়েছে ভাই। আমার পিস্তল চাই ই চাই। তুমি দেবে কি না বলো? যত দাম হোক। আমি দেবো টাকা।’
‘. ‘ প্রশ্ন সেটা নয়। আপনি কি পিস্তল চালাতে পারেন? ‘
‘ তুমি দেখিয়ে দেবে। কেন পারবো না? :
‘আপনি কি কাউকে শুট করতে চাইছেন?’
‘ হ্যাঁ’ ।
‘ কাকে? ‘
‘ আমার অফিসের বস নিলয় আগরয়াল
কে’।
‘ কেন? ‘
‘ সে ফাঁকা অফিসে আমার সংগে অশালীনতা করেছে। একদিন নয়। দুদিন।কিছু একটা না করলে সে একদিন আমাকে রেপ করে দেবে। সেই সুযোগ আমি তাকে দিতে চাই না। ‘
‘ বিষয়টা সিরিয়াস। আপনি পুলিশের কাছে যান।’
‘ খুব প্রভাবশালী লোক। মন্ত্রী লেভেলে যোগাযোগ। পুলিশ কিছু করবে না। যা করার আমিই করবো। ‘
‘ কিন্তু আপনাকে জেনেশুনে আমি বিপদের মধ্যে ফেলতে পারি না। তাছাড়া আমিও বিপদের মধ্যে পড়ে যাবো। পুলিশ আমাকে নিয়ে টানাহ্যাচড়া করবে। ‘
‘ আমি শুট করবো না। ভয় দেখাবো। তা
হলে তো তোমার কোন অসুবিধা নেই? কতো দাম বলো? আমি টাকা সংগে করে নিয়ে এসেছি।’
‘ পিস্তল এমন একটা আগুন। সামান্য ব্যাপারে যখন তখন জ্বলে উঠতে পারে। আপনি বাড়ি যান। ‘
‘ তাহলে তোমারা চাও এই পশু গুলি সমাজে আবাধে ঘুরে বেড়াক। আর মেয়েদের শালীনতাকে হত্যা করুক–‘
হঠাৎ তীব্র শব্দে ঘড়িটার এল্যাম বেজে উঠলো।
ধরফর করে উঠে বসলো মুনমুন বিছানায়।বুঝতে পারলো, সে এতসময় স্বপ্ন দেখছিল।
আজও যদি অফিসে আগরয়াল অশ্লীলতা করে? কি করবে সে?
একবার মনে হয়েছিল চাকরিটা ছেড়ে
দেবে। কিন্তু লকডাউনে অলকের চাকরিটা চলে গেছে। বাঁচতে হবে। অফিস করতে হবে। আবার যারা শালীনতাকে হত্যা করে, তাদের উপযুক্ত শাস্তি দিতে হবে। নিদেন পখে ভয় দেখাতে হবে।
অফিস যাবার আগে কিচেন থেকে মাংস কাটার ধারালো ছুরিটা মুন মুন ব্যাগের সামনের
পকেটে নিলৈ।
আকাশে মেঘ। সকাল হলেও দিনটা অন্ধকার অন্ধকার।