T3 || আমার উমা || বিশেষ সংখ্যায় দেবারতি গুহ সামন্ত

আজ শারদপ্রাতে

পেট ভরা নিয়ে কথা,
নাজিয়া তাই দাঁড়িয়ে আছে অন্ধকার গলিতে।

সারাদিন উপোস,শরীর দুর্বল,
সহ‍্যশক্তি অতিক্রম করেছে সীমা।

চোখের জল শুকিয়েছে বুকে,
খালি পেটে উড়ছে হাজার প্রজাপ্রতি।

আদিম লালসার শিকার নাজিয়া আসলে বৈদেহী,
বিয়ের মন্ডপ থেকে সোজা পতিতাপল্লী।

এখনো উমা জাগ্রত বৈদেহী,থুড়ি নাজিয়ার বুকে,
মুখোশের আড়ালে থেকে বাঁচায় কতগুলো নিষ্পাপ প্রাণ।

বদলে বিক্রি করে নিজের দেহ,নিজের সত্ত্বা,
বলি দেয় নিজের আত্মসম্মান,টাকার বিনিময়ে।

তারপর সেই টাকা বিলিয়ে দেয় অনাথ শিশুদের মাঝে,
তৈরী করে ভবিষ্যতের উমা,শেখায় আত্মরক্ষার পন্থা।

যেন আর কোন বৈদেহী রূপান্তরিত না হয় নাজিয়ায়,
এতোটাই প্রবল পণ আমাদের উমার,হাতে অস্ত্র,বরাভয় চিহ্ন।

মা দূর্গার চক্ষুদান সম্পন্ন,এবার অঙ্গরাগের পালা
ঢাকের কাঠিতে আগমনী বার্তার শুভসূচনা।

নাজিয়ার মাথার চুলে পাক ধরেছে,চোখে আবছা আস্তরণ,
নিজের হাতে তৈরী সৈনিকরা আজও দাঁড়িয়ে অন্ধকার গলিতে….

শরীর বিক্রি করতে নয়,রক্ষা করতে..আমাদের উমার ফসলের সফলতা।।

ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।