কবিতায় ডরোথী দাশ বিশ্বাস

মে

এমন একটি সময়—
যখন গ্লোব লিলিরা মাটি ফুঁড়ে বের হয়,
ফট ফট শব্দে ফুল ফোটায়,
আত্মপ্রকাশের আনন্দে মাতোয়ারা।

বুড়ো শিউলি গাছটার গায়ে লেপ্টে থাকা রিঙ্কোস্টাইলিস
কোন্ আশায় মুক্ত ঝর্ণার মত দ্রুত মাটির কাছাকাছি ঝরে পড়তে চায়,
যার টানা নিঃশ্বাসের শব্দ
কান পাতলেই শুনতে পাই?
এ কোন্ শক্তির প্রকাশ, যা অপ্রত্যাশিত?

ভোরের শিশির ঝলক
মনে পড়ে না,
শীত শীত বাতাসে হৃদয় হয়না প্রকম্পিত
ধীর সৌরালোকে ক্রমে চরমে পৌঁছে যায় মেজাজ
দুঃসহ উষ্ণতায় ছাতি ফাটে,
দিন-দুপুরে তপ্ত চাতালে
শাখা ছেড়ে গাছের ছায়ায়
স্তব্ধ ঘুঘু-দম্পতি
ঝোপ-ঝাড় ছেড়ে
দালান-বাড়ির ওয়েদার বোর্ড ছায়া ফেলে যেখানে
সেখানে অনাবৃত রেইনপাইপের মুখে মূক দুটি শুক-সারি,
যত সে আতপ্ত হয়
তত শান্ত হয় চরাচর।

দূর নীলে মেঘেদের বিন্যাস—
এই আছে, এই নেই—
জলহারা ছিন্ন জীর্ণ উধাও!
বেলার বয়স বেড়ে আকাশ ধোঁয়াটে
চেহারায়
এও এক রহস্যময় গাম্ভীর্য,
দীর্ঘ দিন— রাতে তারার দেওয়ালি, ছায়াপথ।
সমস্ত প্রকৃতি তাকে স্বাগত জানায়,

আনন্দধারা ফল্গু হয়ে নীরবে বয়ে যায়।

ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।