কবিতায় ধীরেন্দ্রনাথ চৌধুরী

মুমূর্ষ বিকেল
হেমন্তে ঝরছে পাতা শুধু অবিরাম,
ফাল্গুন হেসে বলে “আমি দেবো দাম”।
অমনি সে নিয়ে এলো রক্ত পলাশ,
আমি চেয়ে দেখি ওটা আমারই তো লাশ।
ফুলে, ফলে ছেয়ে গেল আমার বাগান,
চারিদিকে পাই তবু তোরই সে ঘ্রাণ।
ভরে গেল গাছ, কত নারকোল, বেল,
সেদিনই কাঁদলো শেষ মুমূর্ষু বিকেল।
পরে এলো দাবদাহ, শুকনো বৈশাখ,
গানের সে খাতাখানা জ্বলে পুড়ে খাক।
শুকোলো পুকুর আর নদী বহমান,
জ্বলে গেলো উত্তাপে মাঠের সে ধান।
আমিও দাউদাউ করে জ্বলি তোর শোকে,
বদলায় গোত্র তোর যজ্ঞের আলোকে।
তোকে পেলো আর্মির এক কর্নেল,
সেদিনই কাঁদলো শেষ মুমূর্ষু বিকেল।
আকাশ ভাঙলো এরপর, বর্ষা এলে,
ধূয়ে দিলো স্মৃতি, যেটা দিয়েছিলি ফেলে।
পারলোনা নিতে তোর পায়ের সে মল,
মাটিকে কামড়ে ধরে আছে অবিকল।
ঝুমঝুম করে সেটা আজও যে বাজে,
শরৎ পড়লো এসে তারই আওয়াজে।
বেজে ওঠে ঢাক, ভরে পুজো-প্যান্ডেল,
সেদিনই কাঁদলো শেষ মুমূর্ষু বিকেল!