গুচ্ছ কবিতায় চিরঞ্জীব হালদার

১| স্বকৌতুক
সচরাচর কৌতুক দেখার পর যদি বমি আসে
অনমনীয় তাড়নার পর যদি মনে হয় আপনি গা-ঢাকা দেবেন
হোঁচট খাওয়ার পর যদি মহানুভব হওয়ার বাসনা জেগে ওঠে
লিলিথ এর মতো যদি কেহ আপনাকে ভীষণ পছন্দ
করেন
আসলে কথা আপনি ঈশ্বর প্রেরিত নদীর বুকে
এমন একটি সম্পান
যে রূপবদল করার ক্ষমতাপ্রাপ্ত
যখন ফিফথ সিম্ফোনি তে বুঁদ ছিলেন
তেত্রিশ কোটি ঈশ্বর আপনার মহাফেজখানায়
নিদ্রা দেবীকে লিলিথ মনে করলে আপনার কি করার ছিলো।
দেবতাদের ভ্রান্তিগুলো কখনো কখনো দূরগামী
এসব মনে না রাখার পাঠ সম্পর্কে বেশ ভালো অবহিত
এই সব বিবেচনা করে আপনি ভালো মানুষ সাজার
জমকালো অধিবেশনে প্রধান অতিথির পদ অলংকৃত করলে আমরা কৃতজ্ঞ থাকবো
শুধু শর্ত একটাই আপনার আত্মজীবনীতে কোন জল মেশানো চলবে না
২| বিকেন্দ্রিক
সুগোল গল্পটা আর ও একবার প্রোজেকটাইলের মত
প্রত্যেকে ভেতর জাল বিস্তারের কৌশল রপ্ত করছে
প্রাচীন ন্যাকড়াতে জড়ানো বহুমূল্য নাকচাবির মালিক এই হরিদাস পাল
যদি বউ জানতে পারে
যদি প্রেমিকা জানতে পারে
যে নৈশবনিতা আমাকে তার রাতবিছানায় নিটোল অপাপবিদ্ধ ঘুম উপহার দিলো সেও জানতে পারে
জ্বরের ঘোরে প্রলাপ বকা আমার অমূল্য বান্ধবের
চন্দ্রযান থেকে নেমে আসছেন হৃদবিষারদ
জানা গেছে নাকছাবি জমানো তার যাদুঘর থেকে কোন এক চোর নিয়ে গেছে সেরা অভিসারিকার অহংকার
গল্পটা এখন আর সুগোল নেই
কেশব নাগের এবড়ো খেবড়ো জ্যামিতি বই থেকে কে যে উত্তরপত্র চুরি করে এই হরিদাসপালের
গোয়ালে রেখে গেছে
যে বিদ্যালয়ে কোন আড়বাঁশির ছাত্র জোটেনি তার শিক্ষক হরিপ্রসাদ কাকে বাঁশি শোনাতে যেত চান্দ্র প্রতিপদে
ভেবে দেখুন আপনি এমন কোন গোপনীয় অনুপ্রাসের ভারকেন্দ্রে অদৃশ্য নায়ক কিনা
৩| একটি এক্স কবিতা
আমাদের গাছ আছে এজমালি পুকুর আছে
আম খেতে ডাকিনি কাউকে
আমি অসম্ভব বেঁটে
ঝড়ের অপেক্ষায় নুয়ে থাকি কান্ড বরাবর
আমার কান্ডজ্ঞান কম সঙ্গে তাই রাখি ঋত্বিক সাউকে
সেও মাঝে ভুলে যায় নাম ও সাকিন
তারা মন্ডল চিনে ঘরে ফিরে আসে
আমাদের লোভেরা বেইমান প্রজাতির
নধর ঝাড়ের বাঁশ কেটে নিয়ে উধাও
খুল্লতাত দিন
গালাগাল কাকে দেবো তুমি সব জানো বিচারক
চোরও খায় আর রটিয়ে বেড়ায় এগাছের ফল ডাহা টক
এসব ছেলে ভুলানো গপ্প আসলে আমফল আমার ফিঁয়াসে
কেহ তো জানেনা সে বাড়ির নসেজো নধরা চুপি চুপি হাসলেও
আমার কি আসে।