T3 || ২১শে ফেব্রুয়ারি – হৃদয়ে বসতে বাংলা || বিশেষ সংখ্যায় বীথিকা ভট্টাচার্য

আমরি বাংলা ভাষা
অত্যাচারী শাসকের হাতে শাণিত সে তরবারি,
আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি।
ধাবিত সে বাণী ওঠে গর্জনে, রক্ত আখরে লেখা,
বিপ্লবীদের জীবন যুদ্ধে, আহুতির দীপ শিখা ।
এখনো মাটির বুকেতে ক্ষত, কালো রক্তের ছাপ,
এখনো শুনি হাহাকার ধ্বনি, শোকার্ত মনোস্তাপ।
মাতৃ ভাষার স্বীকৃতি চেয়ে তুলেছিলো যারা ঝড়,
সন্তান শোকে, হাহাকার বুকে, বিদীর্ণ সেই স্বর।
সুদীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে এসে,শুনি বিজয়ের ধ্বনি,
হর্ষের মাঝে বিষাদের সুর, মুছে দেয় সব গ্লানি।
প্রাণ করে পণ, রফিক,আহমেদ,সালাম, আকবর কত,
ছাত্র নেতার ক্ষোভের মিছিল, মৃত্যু, রুধির স্নাত।
দানা বেঁধেছিল বাঙালীর মনে বিক্ষুব্ধ অভিমান,
প্রাণের ভাষা বাংলাকে দিতে রাষ্ট্রীয় সম্মান।
জাতীয় চেতনে নব উদ্যমে, শোষণের প্রতিবাদে,
মুষ্টিবদ্ধ হাত উঠেছিলো দৃঢ় প্রতিজ্ঞ চিতে।
আন্তর্জাতিক ভাষা দিবস, সেই সে বিশেষ দিন,
সগৌরবে বাঙালী মেটালো, ভাইয়ের রক্ত ঋণ।
অনেক লড়াই, অনেক রক্ত, অনেক অশ্রু ঝরে,
বাংলা ভাষা স্বীকৃতি পায়, বিশ্বের দরবারে।
এপার বাংলা ওপার বাংলা, কাঁটাতারের বেড়া,
ওদের দেশের বাতাস এলো, আমার দেশের পাড়া।
পাতলো আসন বসলো দাওয়ায় দৃষ্টি পরস্পর,
কাঁটা তারের বেড়ার প্রাচীর বিভেদ বরাবর।
ওদের দেশের শালিক চড়াই, মোর উঠোন খেলে,
আমার ভাইয়ের মুখের ছায়া ইছামতীর জলে।
একই রোদ্দুর দুই উঠোনে আসন পাতে দাওয়ায়,
বেড়ার প্রাচীর লতিয়ে উঠে, কলমিলতা জড়ায়।
তোমার মায়ের মুখের ভাষা,আমার মায়ের মুখে,
তোমার আমার ভালবাসা, জড়িয়ে রাখে বুকে।
ভাষায় জাগে বিবেক চেতন, ভাষায় স্নেহটান।
বাংলা মোদের হৃৎস্পন্দন,শক্তি, প্রেরণা,মান।
শান্তি সুধার ফল্গুধারা, শব্দে ছন্দে বাঁধন হারা
কত কবি লেখে প্রাণের আবেগে অমৃত রসধারা
ফ্রেব্রুয়ারীর একুশ তারিখ সেই স্মরণীয় দিন,
একতা মন্ত্রে, ভাষা স্বাতন্ত্রে, গর্বে রাঙা রঙীন।