।। ত্রিতাপহারিণী ২০২০।। T3 শারদ সংখ্যায় বিদিশা সরকার

তুষারপাতের পর

তুমি হাসলে স্বপ্নের মত …
আগুন বাঁচিয়ে কোনও দুরত্ব ভাবিনি যদিও
পরীক্ষামূলক সব প্রস্তুতির
আধখানা আবজানো জানলায় যতটুকু আলো বা বাতাস
অতর্কিত হানা দিলো —
মুহূর্তেই হানাবাড়ি
লোক লস্করের চলাচল
স্বর্গীয় চাঁদের ঝিলম
অদূরেই টিলায় ফরাস
আবার হাসলে ঠিক স্বপ্নের মতই !
অথচ মেদুর হলে বোবা চোখ দেখে কারও জিজ্ঞাসা দেখিনি
টাইমলাইনে বসে তোমার কথাই শুধু
বজ্রগর্ভ মেঘ
শীতের জিনিয়া
তুষারপাতের পর রোদের অপেক্ষা নিয়ে
অবিকল রঙ
ম্যাজেণ্ডা হলুদে

একপাতার দীর্ঘ কবিতা

…একটা সুদৃশ্য ঢাকনাতেই আপনি মুগ্ধ …
অথচ আপনাকে আমি পাকা জহুরী ভেবেছিলাম।
ঢাকনা ব্যবহারের কারণ
কোনও একটি বিশেষ ঢাকনাকে আড়াল করা।
হ্যাঁ, আমি আড়াল করছিলাম আমার পদ্মবিভূষণ
তামাক মেশানো চুমু
নষ্ট জরায়ুর মানুষী পুতনা…
আমার চার প্রহরের চন্দ্রাবলী শুনবার ধৈর্য আছে আপনার ?
বললেও বিশ্বাস করব না মহাশয়।
যদিও আপনি আমাকে ফুল্ল কুসমিত দেখতে আশা করেন !
আর কি কি আশা করেন?
আমার হাসিতে যারা চিরভঙ্গুর আত্মকথা দেখতে পান
তারা নির্জনে বসে কাঁদেন
বাহবা দেন ফটোজেনিক পেশাদারিত্বে ।
অথচ, প্রতিদিনই প্রমানিত হচ্ছি আলুনি,
স্বাদ বদলের জন্য ধনেপাতা দিচ্ছি
কেশুরি মেথি
তন্দুরি মসালা।
আমিষ গন্ধ আর নিরামিষ গন্ধকে ফারাক করতে পারেননা বলেই
আপনি আসক্ত পারফিউমে,
কচি পাঁঠায়!
যদি এটাকে চৌর্যবৃত্তি বলেন
তবে তাই,
আমি মদের বোতল থেকে নেশা চুরি করে
সমপরিমান জল মিশিয়ে নাকাল করি আমার প্রভুকে, আর
ধূপকাঠি জ্বালিয়ে নিত্যপূজার ছলে
বেতাল পঞ্চ-বিংশতির গল্প শোনাই ;
তিনি ঝিমোতে ঝিমোতে ঘুমিয়ে পড়েন।
আমার গুপ্তজ্ঞান বলে
নাস্তিকরা দেওয়ালে বিশ্বাস করেন
আস্তিকরা তথাস্তু তে ,
মধ্যপন্থীরা পালাবদলের খেলায় কবাডি কবাডি …
আপনার জিজ্ঞাসা আমার বিষয় সম্পর্কে
মানে আমি কি কি পারি,
আমি টুইঙ্কল টুইঙ্কল লিটিল স্টার পারি,
পারা’র বিরাট ফর্দ বানাতে পারি
ফর্দকে জেরক্স করে জনে জনে বিলি করতে পারি,
এঁটোতে চুমুক দিতে পারি
হাত ঘোরালে নাড়ুও
শুধু নেমকহারামি করতে পারি না।
Spread the love

You may also like...

error: Content is protected !!