|| মানচিত্র আর কাঁটাতার, হৃদয় মাঝে একাকার || বিশেষ সংখ্যায় বেদশ্রুতি মুখার্জী

স্বাধীনতা আন্দোলনে রায়গঞ্জের অবদান :-

দিনাজপুর রাজ এস্টেট এর অধীনস্থ রাইগঞ্জ বিভাগটি ছিল যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ এক জনপদ। মোঘল আমলে প্রসিদ্ধ জমিদার বাড়ির পুরোনো ইতিহাস ঘাঁটলেই এর স্বরূপ উপলব্ধি করা যায়। রায়গঞ্জ এর নামকরণ সম্পর্কে নানা মুনির নানা মত থাকলেও মূলত তিনটি সম্ভাবনা যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ-
১/ রায় রাজাদের নামানুসারে এই নাগর ও কুলিক নদী তীরবর্তী তাজপুর মৌজার (বর্তমানে রায়গঞ্জ) নাম হয় রায়গঞ্জ।
২/ এখানে রাই শস্যের ব্যাপক ফলন অনুসারে জনপদটি ধীরে ধীরে রাইগঞ্জ এবং তা থেকে অপভ্রংশে রায়গঞ্জ হয়।
৩/ পাশ্ববর্তী অঞ্চল কিষাণগঞ্জ, কালিয়াগঞ্জ ইত্যাদির মতো রাধাকৃষ্ণের পদাবলীর উপর গুরুত্বের কারণে রাধা বা রাই থেকে এর নাম হয়েছে রায়গঞ্জ।
যাইহোক শেক্সপিয়র বলেছেন, নামে কীইবা আসে যায়, নাম যেভাবেই আসুক না কেন স্বাধীনতা দিবসের এই পুণ্য মুহূর্তের প্রাক্কালে আমরা চোখ রাখব রায়গঞ্জ এর স্বাধীনতা আন্দোলন এ অবদান সম্পর্কে। রঙ্গলাল বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন-
” স্বাধীনতা হীনতায় কে বাঁচিতে চায় হে, কে বাঁচিতে চায়?
দাসত্ব শৃঙ্খল বলো কে পরিবে পায় হে, কে পরিবে পায়?”
প্রকৃতপক্ষেই ইংরেজ সাম্রাজ্যবাদী সরকারের কঠোর পীড়ণে অতিষ্ট হয়ে মানুষ উপলব্ধি করছিলেন এর অবসান অতি দ্রুত প্রয়োজন। শুরু হয় দিকে দিকে ভারতজুড়ে স্বাধীনতা সংগ্রাম, দুশো বছরের দাসত্বের ইতিহাস সাক্ষী আছে যে, মননশীল ভারতবাসী কখনোই মন থেকে এই শৃঙ্খল মানতে পারেনি, হয়তোবা প্রথম দিকে নিজ রাজ্য এবং রাজা উপাধি রক্ষায় এই আন্দোলন সীমাবদ্ধ ছিল, পরবর্তীতে তা ব্যাপক আকার ধারণ করে এবং ছড়িয়ে পড়ে দেশের আনাচে কানাচে। ভারতের এই স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাসে রায়গঞ্জ ও পিছিয়ে ছিল না। সন্ন্যাসী বিদ্রোহের সময় রায়গঞ্জ, পার্শ্বস্থ বিন্দোল, বালিয়া জুড়ে ব্যাপক সংখ্যক হিন্দু মুসলিম নির্বিশেষে মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে এই আন্দোলনে যুক্ত হন। বালিয়া গ্রামের পীর বুড়ান সঈদের নাম বিশেষভাবে প্রনিধানযোগ্য, তাঁর কথায় কাতারে কাতারে হিন্দু মুসলমান রায়ত (হতদরিদ্র প্রান্তিক কৃষক) দিনাজপুর এর সন্তোষপুরে (অধুনা বাংলাদেশের অন্তর্গত) সন্ন্যাসী ও ফকির বিদ্রোহে সামিল হন, যার নেতৃত্বে ছিলেন স্বয়ং দর্পনারায়ণ দেব‌।
তাছাড়াও ১৮৮৫ সালে জাতীয় কংগ্রেস প্রতিষ্ঠার পর অবিভক্ত দিনাজপুর এর নমস্য নেতা যোগীন্দ্রচন্দ্র চক্রবর্তী জেলায় কংগ্রেস শাখার যে উদ্বোধন করেন, তাতে অংশগ্রহণ করেছিলেন রায়গঞ্জ এর উকিলপাড়ার বাসিন্দা উকিল জনদরদী নেতা কুলদাকান্ত ঘোষ, তিনি ১৯০৪ সালে বোম্বাইতে জাতীয় কংগ্রেসের অধিবেশনে অংশ গ্রহণ করেন এবং পরবর্তীতে ১৯০৫ এ জেলা জুড়ে যে ব্যাপক বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলন ঘটে, তাতেও নেতৃত্ব দেন। এসময় অরন্ধন, বিদেশি দ্রব্য বর্জন, গণ অনশনেও ছোট্ট শান্ত চিরহরিৎ আবৃত এই উত্তরবঙ্গীয় জনপদে স্বদেশী ভাবনার তীব্র প্রসার লক্ষ্য করা যায়। ১৯২০/২১ এ নিশীথনাথ কুণ্ডু র নেতৃত্বে স্বাধীনতা সংগ্রামে রায়গঞ্জ এর সক্রিয়তা প্রনিধানযোগ্য। ১৯৩৬-৪৭ পর্যন্ত এ জেলার গণ আন্দোলন মূলতঃ অস্তিত্ব এবং আর্থিক অধিকার রক্ষার জন্য প্রান্তিক মেহনতি মানুষের সমাবেশ হলেও তাকে স্বাধীনতা সংগ্রামের থেকে কখনোই বিচ্ছিন্ন করে দেখা সমীচীন নয়।
সুকুমার সিদ্ধান্ত ওরফে ননীগোপাল হলেন রায়গঞ্জ এর প্রথম বীর শহীদ, তিনি প্রথম বিশ্বযুদ্ধে(১৯১৪-১৮) ৪৯নং বেঙ্গলী রেজিমেন্টে ছিলেন, উনি দুর্ধর্ষ ফুটবলার ছিলেন, কিন্তু ব্রিটিশ সরকারের সঙ্গে প্রীতি এক ম্যাচে কালা আদমিদের শ্লেজিং এবং বঞ্চনায় অতিষ্ট হয়ে তাঁর ইগো যথেষ্ট পরিমাণে হার্ট হয়, এবং সেই প্রীতি ম্যাচে (ধোপা নাপিত দের নিয়ে তৈরি দল) প্রথম গোলটি করেন এই সুকুমার সিদ্ধান্ত, সেই ম্যাচে ইংরেজ সরকার হেরেছিল। বাঙালি সৈনিক দের ব্যবহার, হাসি, উচ্ছ্বাস শ্বেতাঙ্গ মহলের ইগোয় এতটাই আঘাত করে যে সুকুমার সিদ্ধান্ত কে কোর্ট মার্শাল করা হয় এবং ফাঁসির আদেশ দেওয়া হয়। তবে ইতিপূর্বে সন্ন্যাসী বিদ্রোহে রায়গঞ্জ এর ঠিক কতজন নিহত হয়েছিলেন, সে পরিসংখ্যান পাওয়া যায় নি।
১৯২৮ এ বালুরঘাটে দুর্ভিক্ষ দেখা দিলে নেতাজি এই জেলায় আসেন এবং জেলা ব্যাপী ব্যাপক আন্দোলনের ফলে ব্রিটিশ সরকার সাহায্য করতে রীতিমতো বাধ্য হন। এই আন্দোলন ও ত্রাণ সংগ্রহে তখন উল্লেখ্য ভূমিকা গ্রহণ করেছিলেন- সুকুমার গুহ, নির্মল ঘোষ, অঞ্চল বোস, অরুণচন্দ্র ঘোষ, গোপীনাথ সাহা, কিষাণলাল ঘোষ প্রমুখ। ১৯৩০ এবং পরবর্তীতে রাইগঞ্জ মহকুমা জুড়ে শুরু হয় এইসকল কংগ্রেস কর্মীদের নেশা এবং বিদেশি দ্রব্য বর্জন বিষয়ক সচেতনতা শিবির, পিকেটিং, গ্রামের হাটে বাটে গিয়ে শুরু হয় প্রচার ও প্রসার। এজন্য বহুবার বহু মানুষ দলে দলে কারাবরণ ও করতেন, কণ্ঠে থাকত মায়ের দেওয়া মোটা কাপড় গানটি। ভাবলেই শিউরে উঠতে হয়, যোগাযোগ এর এত অপ্রতুলতা, বঞ্চিত উত্তরবঙ্গীয় এই ক্ষুদ্র জনপদেও সঞ্চারিত হয়েছিল সুদূরের কলকাতায় ওঠা দেশীয় ঝোড়ো ভাবনার, স্বদেশীয় চিন্তাধারার উন্মুক্ত উত্তাল মেঘ, যা রীতিমতো ভাসিয়ে নিয়ে যায় এখানকার মানুষ জনকে। আমরা ভাবি, ইন্টারনেট, ফোন, টেলিগ্রাম, সোশ্যাল মিডিয়া এসব বোধহয় মানুষ এবং তার ভাবনাকে কানেক্টেড রাখে, আদতে হয়তোবা তা নয়, আবেগ এবং অন্তরমহলে ওঠা সমগোত্রীয় অনুভব মানুষকে এক সূত্রে গেঁথে রাখে, এটুকুই যথেষ্ট, যা দেখিয়েছিলেন তৎকালীন মানুষ। স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাসে করোনেশন স্কুলের শিক্ষক উকিলপাড়ার (বকুলতলা লেনের) অরুণচন্দ্র ঘোষের অবদান অনঃস্বীকার্য। স্কুলের ছাত্রদেরও তিনি স্বদেশচেতনায় উদ্বুদ্ধ করতেন। এজন্য তাকে রাস্তাঘাটে একাধিকবার হেনস্থাও হতে হয়েছে, তবুও নির্ভীক শিক্ষক সমাজের প্রতিভূ ছিলেন তিনি। প্রয়াত প্রধান শিক্ষক অঞ্চল ভূষণ বোসও এমনই এক ব্যক্তিত্ব।
কেবলমাত্র অহিংস কংগ্রেসী আন্দোলনেই নয়, সশস্ত্র আন্দোলনেও রায়গঞ্জ পিছিয়ে ছিল না, বিন্দোল এর বিমল চট্টোপাধ্যায় ওরফে মটর বাবু, দুর্গা টুডু, ফণীভূষণ মিত্র, বামাপদ আচার্য, গোপীব্রহ্ম আচার্য প্রমুখ রাও অনুশীলন সমিতি এবং যুগান্তর দলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, এঁরা বহুবার কারাবরণও করেছেন, মটরবাবুকে এতবার গ্রেপ্তার হতে হয় যে পুলিশ দারোগা জেলার যেকোনো কিছুতেই তাকেই সন্দেহ করতেন।
এছাড়া রায়গঞ্জ এর স্বাধীনতা সংগ্রামের সবচেয়ে রোমাঞ্চকর লোমহর্ষক ঘটনা টি হলো, ১৯৩৩ সালের ২৮ অক্টোবর হিলি রেল স্টেশনে সরকারি খাজনা লুঠের ঘটনা, এতে যুক্ত ছিলেন রায়গঞ্জ এর সরোজ বসু (কালকেতু) এবং অশোক ঘোষ। দিনাজপুর ট্রাইব্যুনাল এর দণ্ডাদেশে যে চারজন এর ফাঁসির আদেশ হয়, তাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন রায়গঞ্জ এর এই সরোজ বসু (কালকেতু), পরবর্তীতে কলকাতা হাইকোর্ট এর রায়ে ফাঁসি রদ হলেও তাঁদের আন্দামান সেলুলার জেলে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়। কিন্তু ভারতছাড়ো আন্দোলনের সময় এঁদের নিঃশর্ত মুক্তি দিতে বাধ্য হন ইংরেজ সাম্রাজ্যবাদী সরকার। ১৯৪৬ সালে ফিরে আসেন রায়গঞ্জে, শহরের সেরা বিপ্লবী তকমা লাভ করে।
১৯৩৭ সালে রায়গঞ্জে কিন্তু মুসলিম লীগও যথেষ্ট জনপ্রিয় ছিল, বিশেষত উকিল হাফুজ আলী, গণি মহম্মদ এর অবদান অনঃস্বীকার্য।
সুভাষচন্দ্র এর ফরোয়ার্ড ব্লকের উল্লেখযোগ্য বিপ্লবী বসন্তলাল চট্টোপাধ্যায়, অনিল বিশ্বাস এই জেলার ই সন্তান এবং জেলা জুড়ে কৃষক সমাজের উন্নয়নকল্পে আমৃত্যু লড়াই করেছেন।
১৯৪২ সালের আগস্ট মাস থেকে দেশজুড়ে শুরু হয় ভারতছাড়ো আন্দোলন। সেপ্টেম্বর মাসে ফরোয়ার্ড ব্লকের নেতারা ঠিক করলেন, রায়গঞ্জ এর রেল লাইন তুলে ফেলা হবে এবং সরকারি অফিস গুলোয় অগ্নিসংযোগ করা হবে, দিন ধার্য করা হয় ১২ ই অক্টোবর, ১৯৪২, কিন্তু ১১ ই অক্টোবর দেশদ্রোহী অনুচরদের মারফত ইংরেজ সরকারের পুলিশ আগাম খবর লাভ করেন এবং রাতারাতি তুলে নিয়ে যাওয়া হয় সুকুমার গুহ, রবি ভৌমিক, অনিল নাগ, কমল ভৌমিক প্রমুখ বিপ্লবীদের, পরদিন গ্রেফতার হন করোনেশন স্কুলের অষ্টম শ্রেণির বিপ্লবী ছাত্র অবনাশ দত্ত। যে অপ্রতিরোধী যুব ও ছাত্র অভ্যুত্থান জেলা ব্যাপী শুরু হয়, তাতে ঘৃতাঘ্নি পড়ল, উঠে এলেন আরো একাধিক ছাত্রযুব নেতা- পান্না চক্রবর্তী, সুবাস গুহ, সত্যরঞ্জন দাস প্রমুখ। ১৯৪৬ সালে সদ্য মুক্তিপ্রাপ্ত বিপ্লবী সুকুমার গুহের নেতৃত্বে কংগ্রেসের উত্তরবঙ্গীয় শাখার অধিবেশন রায়গঞ্জে অনুষ্ঠিত হয়, যাতে দেশনেত্রী লীলা রায় বক্তব্য রেখেছিলেন। ১৯৪৬ সালে ইংরেজ সরকার এর divide and rule policy র নোংরা নিকৃষ্ট পলিটিক্স অনুসারে কলকাতা ও নোয়াখালীতে যে ভয়াবহ দাঙ্গা হয়, তাতে উদ্ধার কার্যে পান্না চক্রবর্তী, আনন্দী সিং, নির্মল গোস্বামী প্রমুখরাও রায়গঞ্জ থেকে ছুটে যান।
তারপর এলো সেই পরম কাঙ্ক্ষিত দিন, স্বাধীনতার সেই ঐতিহাসিক ভোর, ১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্ট। কিন্তু রায়গঞ্জ বাসী সেদিন আনন্দ নয়, উদ্বেগ নিয়ে বসে ছিল রেডিও র সামনে, কেননা রেডক্লিফ সাহেবের ঘোষণা অনুসারে রায়গঞ্জ ভূখণ্ড কে “নোশানাল এরিয়া” অর্থাৎ পরে মীমাংসিত হবে কোন রাষ্ট্রের অন্তর্ভুক্ত হবে বলে ঘোষণা করা হয়েছিল। ১৭ ই আগস্ট সিদ্ধান্ত হয়, রায়গঞ্জ ভারতের অন্তর্ভুক্ত হয়েছে, উৎসব শুরু হয় জেলা জুড়ে, ভারতীয় পতাকা ঘিরে উৎসব করে পদব্রজে সামিল হন আপামর রায়গঞ্জ বাসী, যে মিছিল টি শেষ হয় বকুলতলায় স্নেহলতা পার্ক (বর্তমানে ইন্সটিটিউট মঞ্চে) সংলগ্ন ময়দানে। তবে সেদিনের সেই উৎসব মিছিলের মধ্যেও ছিল দেশ ভাগের এবং আপন জনদের হারানোর কাতর বিচ্ছেদ যন্ত্রণা… পরিশেষে সৈকত কুণ্ডুর ‘দেশ’ কবিতার কয়েকটি পংক্তি হৃদয়ে অনুরণিত হচ্ছে যা আজ, তার উল্লেখ করতে চাই-
“ভাগ হলো মাটি, ভাগ হলো জল,
ভাগ হলো ছেঁড়া কাঁথা কম্বল-
ভাগ হয়ে গেল মানুষের মাথা,
কান্নার ধ্বনি, চির স্তব্ধতা।
আরতির শাঁখে আযানের টান,
সাত নাড়ী ছিঁড়ে উঠে আসা গান-
ভাগ হলো…
… কাঁদো কাঁদো তুমি কাঁদো ঈশ্বর,
কেঁদেছিল মাটি, কেঁদেছিল ঘর,
কেঁদেছিল শাখা চিৎকার করে,
মানুষ ই তো দেশ- তাই মনে করে…”
এই স্বাধীনতা আমরা পেয়েছি পূর্ব পুরুষদের রক্তক্ষয়ী আত্মত্যাগ এর ফলে, দেশ বিভাগ, বাংলা ভাগ, দুই হাত কেটে ফেলে ভাগ করা দুই দিনাজপুর ভাগ এর মতোই অসংখ্য করুণ অশ্রুসিক্ত উপাখ্যান কে সম্বল করে, তবুও সে স্বাধীনতা রক্ষায় আজ আমরা কতটুকু ই বা তৎপর? স্বাধীনতা বলতে আজ আমরা ব্যক্তি স্বাধীনতা, স্পেস প্রাইভেসি বুঝি, বাক স্বাধীনতা বুঝি, শুধু নেতাদের নিন্দে বুঝি, কিন্তু প্রকৃত স্বাধীনতা কী আদৌ এটুকুই? বিপ্লবীরা কী এই দুর্নীতিগ্রস্ত মূল্যবোধ হীন সমাজ, বাকসর্বস্ব উদাসীন, বরফঠাণ্ডা চিলড, তর্কপ্রিয় কেয়ারলেস রেকলেস ভারতীয় যুব সম্প্রদায় তৈরিতেই আত্ম বলিদানটা করেছিলেন? স্বাধীনতা দিবস বলতে কী শুধু ই হ্যাপি বার্থডে বা ভ্যালেন্টাইনস ডের মতো একটা হ্যাপি ইনডিপেনডেন্স ডে র মেসেজ ফরোয়ার্ড করা এবং তিরঙা সাজে গুছিয়ে বসে হয় একটা স্বাধীনতা নিয়ে কবিতা আবৃত্তি বা গান করে ফেসবুকে আঁতলামো? স্বাধীনতা রক্ষায় কী আমাদের আর কোন ভূমিকা নেই, দেশের প্রগতি সাধনের জন্য সর্বাগ্রে প্রয়োজন স্বীয় অবস্থান উপলব্ধি এবং আগামী প্রজন্মের কাছে স্বাধীনতার মূল রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের স্বরূপ তুলে ধরে তাদের চেতনা বিকাশিত করা, আজ আর আমরা পথে নেমে আন্দোলন করে বলতে পারব না-” ওংরেজো ভারত ছোড়ো” কিন্তু অবশ্যই স্বাধীনতা দিবসের এই পুণ্য তিথিতে দেশমাতৃকার চরণে প্রণতি করে এবং বিপ্লবীদের সংগ্রামকে নতমস্তকে নমন করে অন্তরের কালিমা, দ্বেষ হিংসে, দুর্নীতি প্রভৃতি অসূয়া প্রবৃত্তি কে বলতেই পারি, বিদেয় হও, তবেই দেশ উন্নীত হবে কেননা প্রতিটি মানুষের অন্তরমহলই তো ই তো মিনিয়েচার অফ কান্ট্রি…
তথ্য সহযোগিতায়-
দেশপ্রেমিক সত্যরঞ্জন দাসের একাধিক জার্নাল,
ডঃ চিত্তরঞ্জন আচার্য এর বই, প্রবন্ধ,
ধনঞ্জয় রায়ের প্রবন্ধ,
West Mascott. Dinajpur Gazettier.
Economic and Political Weekly 1984,
রাইগঞ্জ এর ইতিহাস প্রভৃতি…
Spread the love

You may also like...

error: Content is protected !!