কবিতায় বিজন মণ্ডল

২০১০ সালে কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছি । বর্তমানে কণ্ঠ শিল্পী হিসেবে নিয়োজিত । কবিতা লেখার পাশাপাশি ভৌতিক কাহিনী লেখা এবং পড়ায় বিশেষ আগ্রহী । প্রিয় সাহিত্যিক বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় ।

১। “পরিযায়ী”

পিচের রাস্তার ধারে বাঁধানো ফুটপাতে
পড়ে আছে কাতারে কাতারে মানুষ
বাচ্চা বুড়ো আর একটি মাও আছে
তার দুধে শিশুটি অনবরত কেঁদে চলেছে
বড়োটির বয়স দশ
হাঁড় বেরিয়ে গেছে তার
মাস খানেক হলো অর্থ ফুরিয়েছে
পেটে ভাত পড়েনি সপ্তার ওপরে
বাপ মরেছে তিন দিন হলো
মাঝেরটি আজ সকালে
পৌরসভার গাড়ি এসে লাশ নিয়ে গেলো
খাবার দিতে আসেনি কেউ
লঙ্গরখানার বাইরে বেপরোয়া লাইন
ভাঙা থালা হাতে কাশেম মহিম ফিলিপ
বারো দিন হেঁটে এখানে এসেছে
রাস্তায় মরেছে অনেকে
কেউ খিদের জ্বালায়
আবার কেউ রেলের চাকায়
তবুও ওদের থামলে চলবে না
কারোর ঘরে বৃদ্ধ বাবা-মা
ছেলের অপেক্ষায় দিন গুনছে
দু’মুঠো ভাত খেয়ে কেউ ফিরবে সন্তানের কাছে
হয়তো কেউ আর ফিরবেই না কোনো দিন
কারন, ওরা যে পরিযায়ী

২। “নিষ্পাপ প্রকৃতি”

আজও পথ চেয়ে বসে আছে
মাঠ-ঘাট, নদী-নালা, মেহগনির বন
সবুজ ধান খেত, সারি সারি তাল গাছ ।
কদম ফুলে বিছানো রাস্তা হাত ছানি দেয়,
বুড়ো বট গাছ ঘন ঘন মাথা নেড়ে ডাকে ।
মেঘলা রাতের অন্ধকারে অজানা পথের পথিক,
আকাশের বিদ্যুতের চমকে মাঝে মাঝে
চোখে পড়ে পথ ।
কাঁটা ভর্তি পথের মাঝে থমকে দাঁড়িয়ে
দিশা খুঁজেছি চৌরাস্তার মোড়ে ।
এখনো পাইনি খুঁজে
তারাদের নিশানায়ও হারিয়েছি তারে ।
ইট কাঠ পাথরের কঠিন দেওয়ালে,
আবদ্ধ হয়েছে নাগরিক জীবনে ।
সবুজের মাঝে কলঙ্ক লেগেছে,
বার বার বৃষ্টিতে ধুয়ে যায়নি,
রৌদ্রের খরতাপে উবেও যায়নি ,
চোখের শান্তি হারিয়ে গেছে ।
ঘটাং ঘটাং শব্দের খেলা
বধির হয়েছে নাগরিক জীবন ।
মানবিকতা, বাজারের ক্ষদ্দেরের মতো
সকাল সন্ধ্যা দর কষাকষি করে ।
তাই আমি ফিরে যেতে চাই
আমার আদিম বেলায় ।
নতুন করে সাজাতে চাই
প্রকৃতি ঘেরা নীল সবুজে ।
Spread the love

You may also like...

error: Content is protected !!