গদ্যানুশীলনে বিপ্লব গোস্বামী
ভারতীয় হকির অবিস্মরণীয় নাম কেশব চন্দ্র দত্ত
ভারতীয় হকি ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় নাম কেশব চন্দ্র দত্ত।তিনি দেশকে দু’বার স্বর্ণ পদক এনে দিয়েছেন।ভারতীয় ক্রীড়া জগতের একজন কিংবদন্তী বাঙালি হকি খেলোয়াড় তিনি।যিনি বিশ্ব ইতিহাসে ভারতের মান উঁচু করেছিলেন।
অলিম্পিকে জোড়া সোনা জয়ী কেশব চন্দ্র দত্তের জন্ম ১৯২৫ সালের ২৯ ডিসেম্বর তৎকালীন ভারত ও বর্তমান পাকিস্তানের লাহোরে।তিনি লাহোরের বিদ্যালয় থেকে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষালাভ এবং লাহোরের সরকারি কলেজ থেকে গ্ৰাজুয়েশন সম্পূর্ণ করেন।পরবর্তীকালে তিনি মুম্বাইয়ে চলে আসেন এবং ১৯৫০ সাল থেকে কলকাতায় স্থায়ী ভাবে বসবাস শুরু করেন।
হকির প্রতি আগ্ৰহটা তাঁর ছোটবেলা থেকেই।কিশোর বয়সে তাঁর হকি প্রতিভা দেখে মুগ্ধ হয়েছিলেন কিংবদন্তি হকি খেলোয়াড় ধ্যানচাঁদ।ছোটবেলা যদিও তাঁর ব্যাডমিন্টন ও অ্যাথলেটিক্সের প্রতি ঝোঁক ছিল।শেষমেশ তিনি ভারতীয় হকি দলে যোগ দিয়েছিলেন। তিনি ১৯৪৮ সালে গ্ৰীষ্মকালীন লন্ডন অলিম্পিকে ভারতীয় হকি দলের সদস্য হিসাবে প্রথম অংশ গ্ৰহণ করেছিলেন। ফাইনাল ম্যাচে ভারত ব্রিটেনের মধ্যে অনুষ্ঠিত হয়েছিল।যেখানে ভারত ইংল্যান্ডকে ৪-০ পয়েন্টে হারিয়ে স্বর্ণ পদক লাভ করেছিল।কেশব চন্দ্র দত্ত ছিলেন সেই দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য।এর ঠিক চার বছর পর ১৯৫২ সালের হিলসিঙ্কি অলিম্পিকে তিনি ভারতীয় হকি দলের সহ অধিনায়ক ছিলেন।যেখানে ফাইনালে ভারত নেদারল্যান্ডকে পরাজিত করে স্বর্ণ জয় করে।সেই খেলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিলেন কিংবদন্তি সেন্টার হ্যাফ ব্যাক কেশব চন্দ্র সেন। সেই ম্যাচে ভারত ৬-১ গোলে জয়লাভ করেছিল।তাই এই সাফল্যের জন্য বাঙালি জাতি নয় সমগ্ৰ ভারতবাসী আজও গর্ববোধ করে।
জাতীয় হকি দলের হয়ে তিনি মোট ২২ টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন। তাছাড়া তিনি মোহনবাগান দলের হয়েও বহুদিন হকি খেলেছিলেন।তিনি সবুজ মেরুন দলের হয়ে ছ’বার হকি লিগ ও তিন বার ব্রাইটন কাপ জিতেছিলেন।
ভারতীয় হকিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের ও বর্ণময় ইতিহাসের জন্য কেশব দত্ত লাভ করেছেন একাধিক পুরস্কার ও সম্মাননা। ২০১৩ সালে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের ক্রীড়া ও যুবকল্যাণ দপ্তর তাঁকে “বাংলার গৌরব” সম্মনে ভূষিত করে।এছাড়া ২০১৯ সালে তিনি”মোহনবাগান রত্ন” পুরস্কার লাভ করেন। ফুলবলার না হয়েও মোহনবাগান রত্ন পুরস্কার প্রাপক তিনিই প্রথম খেলোয়াড়।এছাড়াও তিনি ২০২০সালে “ধ্যানচাঁদ লাইফ টাইম অ্যাচিভমেন্ট” পুরস্কার লাভ করেন।
২০২১ সালের ৭ জুলাই বার্ধক্যজনিত রোগে ভোগে ৯৫ বছর বয়সে তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।তাঁর মৃত্যুতে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় ক্রীড়া মন্ত্রী শোক প্রকাশ করেছেন।তিনি ছিলেন ভারতীয় হকির এক কিংবদন্তী তারকা।ভারতীয় হকিতে তাঁর অবদান বর্ণময় ইতিহাস চীরকাল স্মরণীয় হয়ে থাকবে।