T3 || ১লা বৈশাখ || বিশেষ সংখ্যায় বিক্রমজিত ঘোষ

মানুষ – ভূতের কীর্তি
নন্টু ওরফে কাজল তখন কলেজে পড়ত । কাঞ্চনপুর গ্রামে একটা আকস্মিক মৃত্যু ঘটে ।
নন্টু খবর পেয়ে গ্রামে ফিরে যায় । সে তার বাবা ঘনটুবাবুকে একটা মন্দির তৈরি করতে বলে যার নাম হবে ” ভূতেস্মরি” মন্দির । ঘনটুবাবু গ্রামপ্রধানের সঙ্গে কথা বলে গ্রামবাসীদের কাছ থেকে চাঁদা তুলে মন্দির তৈরি হলো । মন্দির তৈরি হবার পর থেকেই ভূতের উপদ্রব আরও বেড়ে গেল । সকলেই মন্দিরের পুরোহিত মশাইকে দোষ দিতে লাগল । পুরোহিত মাশাই জানালেন তিনি দুর্গাপূজার , লক্ষীপূজার , সরস্বতী পূজার মন্ত্র জানেন । ভূত তাড়ানোর মন্ত্র জানেন না ।
ঘনটুবাবু গ্রামপ্রধানের সঙ্গে আলোচনা করলেন । গ্রামপ্রধান পানিত্রাসবাবু
বললেন পুরোহিত মশাই ঠাকুর – দেবতার মন্ত্র পড়ছেন । ভূত তাড়াতে গেলে ওঝা ডাকতে হবে । নন্টু তাই শুনে পচাকে পাশের গ্রাম জয়ন্তীপুরে পাঠালো ওঝা ধরে আনতে । দেড়ঘন্টা পর পচা ওঝাকে সাথে নিয়ে এল । ওঝাকে আপ্যায়ন করতে গ্রামপ্রধান ভুললেন না । ওঝা বললো যেহেতু গ্রামে ভূত পড়েছে , তাই গোটা গ্রাম ঘুরে তাকে ভূত তাড়াতে হবে। তারপর সে নাচতে নাচতে গোটা গ্রাম্য ঘুরে ভূত তাড়াতে লাগলো । আর গ্রামের সকলে মন্দিরের সামনে দাঁড়িয়ে । পুরোহিতমশাইয়ের মুখ কাঁচুমাচু ।
এদিকে ঘনটুবাবু লক্ষ্য করলেন কাছেপিঠে নন্টুর বন্ধু পচা, ভুতো আর মিহিরকে দেখা যাচ্ছে না । তিনি নান্টুকে ব্যাপারটা বললেন । নন্টু দেখল তার বাবা ঠিক বলেছে । সে তখন তিনজনকে খুঁজতে সারা গ্রাম ঘুরতে লালগো । কিছুক্ষন পর একটা টিলার পিছনে তিনজনকে লুকিয়ে থাকতে দেখল । পচা , ভুতো আর মিহিরকে লুকিয়ে থাকার কারণ জিজ্ঞাসা করতে অনেকক্ষণ পর তারা স্বীকার করল যে মন্দির তৈরি হবার পর থেকেই রাত বারোটার পর তারা তিনজনে গ্রামে ভূতের ভয় দেখত । নন্টু
তখন চালাকি করে ওঝাকে খুঁজে বার করল । তাকে শিখিয়ে দিল সে যেন গ্রামপ্রধানকে
বলে যে তার কাজ হয়ে গেছে । ওঝা কারণ জিজ্ঞেস করাতে নন্টু ঘটনাটা খুলে বলল । ওঝা গ্রামপ্রধানকে গিয়ে বলল তার হয়ে গেছে – সের গ্রামের সমস্ত ভূত তাড়িয়ে দিয়েছে । গ্রামপ্রধান তাকে টাকা দিয়ে বিদায় করল । নন্টু তার তিনবন্ধু পচা , ভুতো , মিহিরকে এরকম কাজ করতে বারণ করল । তিনজনেই কথা দিল আর তারা একাজ করবে না । এরপর থেকে গ্রামে শান্তি ফিরে এল ।