সাপ্তাহিক ধারাবাহিক উপন্যাসে বিজয়া দেব (পর্ব – ২৯)

গোপনে গড়েছে কত স্বপ্নিল সাঁকো

বাড়িতে ফিরে সে কিছু বই খুঁজল। কিন্তু সেরকম কিছু পেল না। দিদিদেরকে বলল ব্যাপারটা। বাবা বড় ব্যস্ত। সময়ই পান না। তবু এর ফাঁকে ফাঁকে অঙ্কটা বুঝে নেয় ছুটি। দিদিরা বলল – ঠিক আছে। তবে কিছু সূত্র দেব। তোমাকে সেটা পড়ে নিজে লিখতে হবে।
-সূত্র মানে কি?
-কিছু পয়েন্ট। তোকে ওটা ধরে গুছিয়ে লিখতে হবে। ওই তোর বাজে খাতায় হাবিজাবি লেখার মত নয়। তোর তো রচনা বই আছে। ওগুলো পড়ে দ্যাখ। বুঝতে পারবি কীভাবে লিখতে হয়।

ওসব পড়তে কেন যে ভালো লাগে না বুঝে না ছুটি। কিন্তু পড়তে তো হবে, শিখতে হবে। আর যাই হোক, বাজে খাতায় লিখতে বড় আনন্দ। আজকের রতনের কথাগুলো লিখে ফেলবে? হ্যাঁ লিখেই ফেলা যাক। সে বাজে খাতা বের করে লিখতে শুরু করল-
” রতন, তুই ভালো লিখেছিস, বেশ কথা। কিন্তু তোর চাইতে ভালো আমি লিখব, এমনটা না-ও হতে পারে। যেমন আমার ভালো লাগে তেমন করে লিখব। তুই ভালো লিখেছিস তবে তোর চাইতে ভালো আমাকে লিখতে হবে ওইসব আমি দু’চক্ষে দেখতে পারি না। স্যার বললেন, আমি খেয়ালি। খেয়ালিদের হয় না, না হোক। কি হতে হবে? আমি কিছু হব না। হতে চাইও না।…. ”
হঠাৎ ছোঁ মেরে কেউ খাতাটা কেড়ে নিল। তাকিয়ে দেখে ছোড়দি।
-তুই এভাবে পড়ার সময় নষ্ট করছিস। এখন এটা থাক।
বলে” বাংলা ব্যাকরণ ও রচনা “বইটা বের করে চোখের সামনে মেলে ধরে দিল। চোখের সামনে এখন “বন্যা ও তার প্রতিকার”।
-এটা মন লাগিয়ে পড়।
-বেশ পড়ব। কিন্তু তুই আমার খাতাটা দে, প্লিজ।
এই সময়ে দিদি এসে ঢুকল। দিদিকে দেখেই ছুটি কাঁদো কাঁদো হয়ে বলে – দিদি আমার খাতা। দিদি হেসে বলে- ছুটির বাজেখাতা। দিয়ে দে ওকে।
ছোড়দি খাতাটা টেবিলে অন্য খাতাগুলোর একেবারে নীচে রেখে বলে -বেশ রেখে দিলাম। কিন্তু এটা আগে ভালো করে পড়তে হবে, বন্যা ও তার প্রতিকার।
-আর পয়েন্টস কখন দিবি মানে সূত্র?
ওরা হাসে। বলে, পাবি। আগে তুই এটা ভালো করে পড়। তারপর বেশ কিছু সূত্র এলো তার কাছে। এখন এগুলোকে ভিত্তি করেই লিখতে হবে। ছুটি বাজে খাতা বের করে ভাবল – এটাতেই প্রথমে শুরু করা যাক।
তারপর ভাবল -এটা তার নিজের, একান্তই নিজের। এটাতে নয়। তারপর ভাবল – আগে পয়েন্টস৷ গুলো ভালো করে দেখে নিই। এক পৃষ্ঠা লম্বা সাদা কাগজ থেকে উঁকি দিচ্ছে ১.২.৩.৪……পরিষ্কার গোটা গোটা অক্ষর, শব্দমালা….

১. বরবক্রের উৎপত্তি মণিপুরের পাহাড় থেকে। সেটি এরপর চলে গেছে পুব পাকিস্তানের সুরমা নদীর দিকে তারপর সে মেঘনা নদীতে মিশে বঙ্গোপসাগরে পড়েছে।
২. বন্যা কীভাবে হয় বন্যা ও তার প্রতিকার রচনা বই থেকে প্রাথমিক ধারণা নিতে হবে।
৩. পাহাড়ে অতিরিক্ত বৃষ্টি হলে বরবক্রে জল বাড়ে।
৪.নদীবাঁধ সম্পর্কে রচনা বই থেকে ধারণা নিতে হবে।
৫. বাঁধ মজবুত করে বন্যা প্রতিরোধ করা সম্ভব।
৬. নদীর তলদেশ খনন পদ্ধতিতে বন্যা প্রতিরোধ করা সম্ভব।
৭. অচিনপুর একটি উপত্যকা শহর। এটি বর্তমানে জেলা শহর। বরবক্র নদীকে কেন্দ্র করে শহরটি গড়ে উঠেছে। তাই নদী এই শহরটিকে ভাসিয়ে দেয় তার বুকে জল বাড়লে।
৮. নদীবাঁধ উপযুক্তভাবে সংরক্ষণ হলে বা খনন পদ্ধতিতে কিংবা নৌকা অথবা জাহাজ নিয়মিত চললে নদীর গভীরতা বাড়বে। তাতেও বন্যা প্রতিরোধ সম্ভব।
৯. রচনা কীভাবে লিখতে হয় সেটি জানতে রচনা বই মনোযোগ দিয়ে পড়তে হবে।
১০. বাজে খাতার কথা আপাতত ভুলতে হবে।
ছুটি একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে রচনা বইয়ের দিকে বিষচোখে তাকিয়ে রইল।

ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।