সাহিত্য ভাষান্তরে বাসুদেব দাস

মর্গের দুয়ারমুখে
তপন বরুয়া
মূল অসমিয়া থেকে বাংলা অনুবাদ
সময়-অসময় বলে কিছু নেই মেডিকেলটার!
দুয়ারমুখে প্রতিট ওয়ার্ড আর
কক্ষকেই
রোগার্ত জগত একটা
নিশ্বাস রুদ্ধ করে ঘিরে থাকে অহরহ।
নতুন নতুন রোগীর সঙ্গে আত্মীয়-স্বজন
হুড়মুড় করে আসে
আর ঢুকেই প্রত্যক্ষ করে তার
দরজা-দেওয়াল,সিলিং
আর মার্বেলের মেঝের চারপাশে
ঘুরে ঘুরে ধ্বনিত হয়ে থাকা হাজার জনের
হাহাকার আর্তনাদ।
দিন দুপুরেই
রোগি দেখাতে এসে এই মাঝরাতে
আমরা কয়েকজন যখন ঠাণ্ডা করিডরটার
দীর্ঘ একটা বেঞ্চে ঠেলা-ধাক্কা করে
তখনই সামনে দিয়ে একটা ষ্ট্রেচার
ওপরে সাদা কাপড় দিয়ে ঢাকা
ঠিক পেছন পেছন বিষাদগ্রস্ত একদল ব্যক্তি
নিঃসন্দেহে। মৃতেরই নিকট আত্মীয়জন।
সোজাসুজি,ওপাশে
অন্ধকারময় একটা কক্ষ
আর দরজাটা মেলে দাঁড়িয়ে কেউ
একজন
যার চোখে
তিরবির করছিল কেবল
সেই ঠেলে নিতে থাকা ষ্ট্রেচারটা।
সেখানে নাকি জীবিত মানুষ থাকে না
ঐ মানুষটা নাকি মর্গের রক্ষী!
‘ইস!আমি তো আজ
সাক্ষাৎ মুখ মেলে থাকা অজগরটার
সামনে!’
একটা চিৎকার করে তখন
বিছানায় পড়ল যে পড়লই আমার নীরোগ
কবিতার অনুভব
বলার মতো আজই কিছুটা আরোগ্য!