মুহূর্তে মুহূর্তে পাল্টাচ্ছে সব। পাল্টাচ্ছে তারিখ। আমি কি পাল্টে যাচ্ছি? নতজানু হয়ে নিজেকে জিজ্ঞাসা করি, কি এমন অপরাধ যা আমাকে শাস্তি দিচ্ছে সময়ের প্রতিক্ষণ। মুক্তি দাও। আমি মুক্তি চাই। নতুন ভাবে বাঁচতে চাই। এ বদ্ধঘরে আর কতদিন? আগুনের ফুলকির মতো উড়ছে শ্বাস যে স্বাসে আছে মৃত্যু যন্ত্রনা। যে শ্বাসে আছে পাহাড় ফাটা আর্তনাদ। জেগে ওঠা আগ্নেয়গিরি। ছুটছে মানুষ। পৃথিবীও ক্লান্ত এখন। নিস্তব্ধ গাছপালা। শব্দের যন্ত্রনা কানে আসে না। আকাশে ঘন কালো মেঘ নেই। বিষ আছে হঠাৎ আকাশ চিৎকারে। প্রকৃতির কি নিষ্ঠুর পরিহাস। চামড়া জড়িয়ে আসছে। অসময় বার্ধক্যে অলিখিত অসুখ। কি যে করি আর কিই বা ভাবি। দিন গড়িয়ে অন্ধকার যে অন্ধকার আমার কাছে মৃত্যুযন্ত্রণার সামিল। বিশ্বাস করো আমি কখনো মেঘ হতে চাইনি। ভালোবাসাহীন এক পুরুষ। যে মানুষ কখনো বুকে ফুলের অঞ্জলি দেয়নি। মুক্তি আনন্দে সবদিন সবসময়। রাতের গভীরে শিরা উপশিরা থেকে মস্তক নামক কলকব্জায়। নিতান্ত নাবালকের চিন্তা এখন। নৈঃশব্দ আর জীবনধারা রূপ বদলে দিচ্ছে এই সময়কে। খাচ্ছে মানুষ। খা, যত পারিস খা। ভেঙে দে আমাদের স্বপ্নের খেলাঘর। এ ঘর আমি চাই না। আমার ছেলেবেলা ফিরে পেতে চাই। মায়ের কোল আর স্বপ্নের ছড়া। আকাশ দেখিয়ে যে বলে উঠবে খোকা তুমি এখন ঘুমিয়ে পড়ো আমরা আকাশের চাঁদবুড়ির কাছে যাবো।
ভাবছি…….
আকাঙ্খা ছিল ভালোবাসার। পারিনি কোনোদিন। শুষ্ক জীবন কাহিনী। জীবের ক্ষত নিতে ভালোবাসে চওড়া এ বুক। কি পেরেছি আর পারিনি জানা নেই। এখন আর সবসময় জীব যন্ত্রনা আমার হৃদয়ে। মুক্তি পেতে চাই না। ফেরায় না কাওকে । এ যে আমার অহংকার। প্রশ্ন অহরহ- অসমাপ্ত জীবন না বুক পেতে রাখা মানুষের অনন্ত মাদুর? ভাবনা আর চেয়ে থাকা সিলিঙের দিকে। আমি নিদ্রার আবাহনে। চোখ জড়িয়ে। এ কোন শুভ্র আলোর ঝলক যা কখনো দেখিনি। মাথার উপর হাতের পরশ। পালকের ছোঁয়া। ওষ্ঠ চুম্বনে শিহরণ। আমি আবদ্ধ বাহুবন্ধনে। এক এক ক্ষতের যন্ত্রনামুক্ত। আমি হালকা হচ্ছি ক্রমশ। ভারহীন হৃদয় আমাকে নির্লিপ্তে এক দূরন্ত রূপকল্পে। আমি চাইনা ভারমুক্ত হতে। সরিয়ে দিই সময়কে। আমি আবার ফিরলাম। ভাঙলো ঘুম। দেখলাম এক চিলতে সোনালী আলো জানালার ফাঁক দিয়ে আমার হৃদয়ে কখন ছুঁয়েছে আমি নিজেও জানিনা।