সাহিত্য ভাষান্তরে বাসুদেব দাস

পানী কুঁয়লী
হরেন গগৈ
মূল অসমিয়া থেকে বাংলা অনুবাদ
রাতের ভেতরে
ফুলে ফেঁপে উঠেছে বড়নদীর বুক
গাছের
দীর্ঘ ছোট ছোট পাতাগুলি আলোকিত করে তোলা
বিকেলের সূর্যের রঙটা
ধীরে ধীরে গুমোট আকাশটা
ঢেকে ফেলেছে
জলে নামা মহিলাটির
জালের আড়ালে
এক ঝাঁক ঠাণ্ডা বাতাস কেঁপে উঠছে
বোঝাতে না পারা সোঁ সোঁ শব্দগুলি
বহুদূর পর্যন্ত ধাক্কা খেয়ে ছিটকে পড়ছে
কলার ভেলা একটা ভরপুর জল ভেদ করে
এগিয়ে যেতে দেখেছি
নেড়েচেড়ে দেখি
ফুঁপিয়ে উঠা ফ্যাকাসে হাসির মুখ
পাতলা কুয়াশা ঘিরে ফেলেছে
ছোটছোট ঘরগুলির চাল
পানী কুঁয়লী উঠায়
থমকে গেছে বন্যার জল।
টীকা-
পানী কুয়ঁলী –বর্ষাকালে নদীর জল বাড়ার সময় যদি নদীর তীরে কুঁয়লীর (কুয়াশার) সৃষ্টি হয়,লোকবিশ্বাস অনুসারে তাহলে নদীর জল আর বাড়ে না।বর্ষাকালে নদীর তীরে সৃষ্টি হওয়া এই কুয়ঁলীকে লোকপরম্পরায় পানী কুয়ঁলী বলে। অসমিয়া বানানে ‘ৱ’ ব্যবহৃত হয়।বাংলায় এই অক্ষরটি নেই বলে তাঁর নিকটবর্তী ‘য়’ব্যবহার করা হয়েছে।