সাহিত্য ভাষান্তরে বাসুদেব দাস

পরীর বাঁশি

করবী ডেকা হাজরিকা
মূল অসমিয়া থেকে বাংলা অনুবাদ

রাত।
ঝিরঝির করে বৃষ্টি পড়ছিল
জানালায় টুক টুক শব্দ
কে?
বারান্দায় কাপড়ের খসখস
ও মা কোথায় যাই-
একটি পরী।
সাদা পাখায় জলের কণিকা
ঝিলমিল করছে
কুয়াসার মতো শরীরে
হালকা আলোর সজ্জা।
কিছুটা লজ্জা
কিছুটা ভয়ে
পরী আমার দিকে তাকাল
‘তোমার পাখা নেই?’
সে জিজ্ঞেস করল?
আমি মাথা নাড়লাম।
‘উড় কীভাবে?’
পুনরায় জিজ্ঞেস করল,
আমি কিছু বললাম না।

এক পা দুই পা করে
সে ভেতরে চলে এল
ঘরটা আলোকিত হয়ে উঠল।
ছবিটা ছুঁয়ে দেখল
বইটা মেলে দেখল
বিছানায় বসে দেখল,
অস্থিরতা ঢেকে একবার হাসল
একবার পাতলা নীল চুলে
খোঁপা খুলে বেণী গুঁজে নিল।
‘কেন এল?’আমি জিজ্ঞেস করলাম
সে থমকে দাঁড়াল।
তারপরে আস্তে করে বুক থেকে
একটা সোনালী বাঁশি,
‘এটা দুঃখের বাঁশি,
আমি পুনরায় না আসা পর্যন্ত
সামলে রাখবে কি?’
আমার বিস্মিত মুখের দিকে তাকিয়ে
পরী আস্তে করে বলল—
‘রেখে দাও,আমি না আসা পর্যন্ত
তোমার বুকের বাঁশিটা
বাজতে থাকুক।‘

পরীর ডানা ধীরে ধীরে
খুলে গেল
বৃষ্টির মধ্য দিয়ে
দূরে উড়ে গেল সে।

তখন থেকে
আমি পথ চেয়ে রয়েছি
পরীটা ফিরে আসেনি।
পাখাবিহীন পরীর মতো
আমি বুকে নিয়ে বেড়াচ্ছি
সোনালী বাঁশির সুর।

Spread the love

You may also like...

error: Content is protected !!