সাহিত্য ভাষান্তরে বাসুদেব দাস

কবির সমাধি ফলক
রুদ্র সিংহ মটক
মূল অসমিয়া থেকে বাংলা অনুবাদ
আজও বন্দি আমি জানালা বিহীন ব্যাংকের
আবদ্ধ ঘরে
রোদের কোনো অক্ষর নেই এখানে
কেবল ‘কোর ব্যাঙ্কিং’,গ্লোবালাইজেশন
আর লাভালাভের কোটি টাকার অংক ঢেকে রেখেছে
আমার সভ্যতার চোখের পাতা
বহুজাতিক কম্পিউটার ফ্যাক্স-ইন্টারনেটের ছন্দহীন
প্রেত-ছায়া স্বরলিপি,মোবাইল এবং দামী জুতোর
কৃত্রিম কোলাহল কেড়ে নিয়েছে আমার লাল
হৃদপিন্ডের সবুজ শ্বাস
আজ সবই হারিয়েছি, স্বপ্ন পাখির শিস
নবীর প্রেম
হারিয়েছি কলম এবং হৃদয়ের যুদ্ধভূমি
আলোড়িত সূর্য এবং শস্যোজ্জ্বল কবিতার পথ
হরিণার মাংস বৈরী হওয়ার মতো
হাতের ঘড়িটাই আজ কাল হল আমার, যে
সাত শত্রুর মতো গোপনে নিরীক্ষণ করে আমার
প্রতিটি মুহূর্তের বোবা অস্থিরতা আমার মৃত্যু
এবং আর্তনাদ
কখনও কখনও ভাবি,
পৃথিবীটা অভাবিতভাবে সংকীর্ণ,যেন
এস বি আইর স্ট্রং রুম,যেখানে ক্ষুদ্র একটা অক্সিজেন
সিলিন্ডার নিয়ে অসহায় আমি ছটফট করছি সারারাত
অসম্ভব একটি স্বপ্নের দরজা মুখে
কংক্রিট ভেঙ্গে অকস্মাৎ ঝাঁপিয়ে
চলে আসবি নাকি সাতটি তারা সাতটি পাগলা
ঘোড়া
তারই উজ্জল চোখের কালো ঘোড়াটি
দৌড়ে চলে যাব আমি দূর-দূরান্তের সেই সবুজ ঘাসে
অথবা নিষিদ্ধ বনগোলাপের অবিন্যস্ত কোনো
গহন অরণ্যে
আর যদি তা সম্ভব না হয়
কাল আমার অনিবার্য মৃত্যু হবে
পাখিগুলি গুনগুন করে সকালের গান আরম্ভ করার
আগে আগে
উডহাউসের গল্প পড়ে ভালোলাগা আমার
উদাসী বন্ধুটি সেদিন সন্ধ্যার আড্ডায় বিষণ্ণ
স্বরে বলেছিল
আমার সমাধি-ফলকে নাকি কালো অক্ষরে লেখা
থাকবে,-
‘ তিনি ছিলেন এই পৃথিবীর সবচেয়ে
ভাগ্যবান অথচ করুণার পাত্র
টাকার চেয়েও বসন্তের মতোই স্বাধীন,উজ্জল
শব্দগুলির গন্ধটা
তিনি অনেক বেশি ভালোবাসতেন।’