বাইশে শ্রাবণের ছুটি
কলকাতা ঘোর বর্ষণমন্দ্রিত
সকাল থেকেই মেঘাচ্ছন্ন অাকাশ।
চমকে উঠছে বজ্র ও বিদ্যুত
ইস্কুল ছুটি হয়ে গেল দ্রুতবেগে…
আজ এই ছুটি দুর্যোগ বলে নয়
জোড়াসাঁকো ঢেকে দিয়েছে জনস্রোতে,
রবীন্দ্রনাথ গুরুতর সঙ্কটে
রাত ভোর হয়ে মিশে গেল রেডিওতে…
সেই ঘরটার নাম পাথরের ঘর,
চোখ দুটি বুজে শুয়ে রয়েছেন তিনি
আর জ্ঞান নেই বলছে চিকিৎসক,
কেঁদে ওঠে শুধু পুরাতন ভৃত্যটি…
বাইরে ফুঁসছে জনসমুদ্র হু হু
কোথায় লুকিয়ে আছেন বিধান রায়?
অপারেশন তো করাতে চাননি কবি!
মানুষের কাছে বৃষ্টিও নিরুপায়।
শরীর পারেনি অতটা ধকল নিতে
অপারেশনেও ভুল ছিল নিশ্চিত।
আর আশা নেই শুরু হোল বেদমন্ত্র
বরফের মতো ঠান্ডা কবির চরণ।
সকাল নটায় নিঃশ্বাস নিভে এল
হৃৎস্পন্দন থেমে গেল তারপরে ;
ডাক্তার এসে খুলে দিল অক্সিজেন
একটি প্রদীপ শুধু জ্বলছিল ঘরে।
রথী বা প্রতিমা তখন শহরে নেই
অভিমান করে মীরা বসে আছে দূরে,
বেলা, শমী, রাণী চাঁদের আলোর দেশে
পাশে ছিল শুধু পুরাতন ভৃত্যটি।
বেনারসি জোড়, চাদর, গোড়ের মালা
দুঃখের পরে দুঃখের মতো মেঘে,
বহুদিন পর তিনি এত সেজেছেন
ইস্কুল ছুটি হয়ে গেল দ্রুতবেগে…